কাশিপুর পূর্ণাঙ্গ, দেড়যুগেও চারটিতে কমিটি হয় না
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২২, ০৮:১২ পিএম
# কমিটি না হওয়ায় তৃনমূলে ক্ষোভ
# কমিটি হলে নতুন নেতৃত্ব তৈরী হবে: সালাউদ্দিন
ক্ষমতাসীন দল দীর্ঘ সাড়ে ১৩ বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকার পরে ফতুল্লা থানার বিভিন্ন ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে আওয়ামীলীগের শক্তিশালি কমিটি নেই। সেই সাথে ইউনিয়ন পর্যায়ে শক্তিশালি কমিটি না থাকায় তৃনমূল নেতা কর্মীরা ঝিমিয়ে পরেছে। পাশা পাশি নেতৃত্ব সংকট তৈরী হচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের। আবার অনেক ইউনিয়নে সভাপতি সেক্রেটারি মারা যাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত দিয়ে চলছে নামকাওয়াস্তে দলীয় কর্মসূচি। দলীয় কার্যক্রম নেই বললেই চলে। নামকাওয়াস্তে বিভিন্ন দিবসগুলোতে কোন রকম কার্যক্রম চলে। অনেক ইউনিয়নে তাও চলে না।
এদিকে দীর্ঘ দিন পরে হলেও এবার ফতুল্লা থানা কমিটি পূর্ণাঙ্গ হওয়ার পর এখানকার ৫টি ইউনিয়নে সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগের কমিটি হতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ফতুল্লা থানাধীন কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন হয়েছে। সেই সাথে উনসত্তর সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন পর্যন্ত হয়ে গেছে। তবে পিছিয়ে আছে কাশিপুরের পাশর্^বর্তি এনায়েত নগর ইউনিয়ন। সেই সাথে ফতুল্লা, বক্তাবলী এবং কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের কমিটি কবে হয়েছে তা ভুলেগেছে নেতৃবৃন্দ। কবে নাগাত কমিটি হবে তাও নেতা কর্মীরা জানেন না। আর এনিয়ে তৃনমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে।
ফতুল্লার ইউনিয়ন গুলোর একাধিক নেতা জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে ফতুল্লা থানার ইউনিয়ন গুলোতে কমিটি হয়েছে। ওই কমিটিতে অনেক নেতা মারা যাওয়াতে তাদের শূন্যস্থানও পুরন করা হয় নাই। দীর্ঘ দিন সম্মেলন না হওয়ায় নেতারাও ঝিমিয়ে পরেছে। তাই এখন তৃনমূল থেকে যুবক প্রবীন মিলিয়ে কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালি হিসেবে ঢেলে সাজাতে চান স্থানীয় নেতারা। সেই সাথে কোন ইউনিয়নে যেন পকেট কমিটি না হয় তার দাবী তুলেন নেতৃবৃন্দ। তারা সম্মেলনের মাধ্যমে যোগ্যব্যক্তিকে বেছে নিতে চান। দলীয় সূত্রে জানাযায়, ২০০৩ সনে ফতুল্লা থানাধীন ৫টি ইউনিয়নের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হয়। কিন্তু ২০০৩ এর পরে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি না হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব তৈরী হয় নাই। আর এতে করে দল শক্তিশালি না হয়ে দূর্বল হয়ে আছে।
অন্যদিকে ২০০৩ সনে বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগে সম্মেলনের মাধ্যমে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন আফাজ উদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পান কামরুল ইসলাম। গত বছর আফাজ উদ্দিন মারা যাওয়ার পর বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান আবুল হোসেন মাস্টার। এছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নের কমিটি গুলোর নেতৃবৃন্দ দলীয় কর্মসূচি নামকাওয়াস্তে পালন করে যাচ্ছে। সেই সাথে এনায়েত নগর ইউনিয়নে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজ্জাক মাষ্টার যাকে অনেকে চিনেনও না। কেননা তাকে মাঠ ময়দানে এখন আর তেমন একটা খুজে পান না কর্মীরা। পাশা পাশি ফতুল্লা এবং কুতুবপুর ইউনিয়ন কমিটি না হওয়ায় এখানে নতুন নেতৃত্ব তৈরী হচ্ছে না। তাই এবার প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে দাবী উঠেছে শক্তিশালি কমিটি গঠনের। সেই সাথে কোন এলাকায় যেন পকেট কমিটি না হয়।
ক্ষমতাসীন দলে স্থানীয় নেতারা জানান, ফতুল্লার ইউনিয়নে দীর্ঘ দিন যাবৎ এখানে কমিটি না হওয়ায় নেতা কর্মীরা হতাশ হয়ে আছে। ইউনিয়ন গুলোতে ক্ষমতাসীন দলের কমিটি না থাকায় যে যার মত করে দলীয় কর্মসূচি পালন করছেন। এতে করে দল শক্তিশালি হচ্ছে না। তাই তৃনমূল নেতারা দাবী তুলেন থানা এবং জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা যেন অতি দ্রুত ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি সম্পন্ন করেন। অন্যথায় আগামী জাতীয় নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলকে এর জন্য পস্তাতে হতে পারে। সেই সাথে পূর্বের কমিটির অনেক নেতৃবৃন্দ মারা যাওয়ার পর সেই পদ গুলো শূন্য অবস্থায় আছে। আর এজন্য এখানে নতুন নেতৃত্ব তৈরী হয় নাই। এখানে কবে নাগাত নতুন কমিটি হবে তাও জানেন না নেতৃবৃন্দ। ফতুল্লা থানা শীর্ষ নেতা জানান অতি শিগ্রই ফতুল্লা থানাধীন ইউনিয়নের নতুন কমিটি হবে।
বক্তাবলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম জানান, আমরা ওয়ার্ড কমিটি গুলো নতুন ভাবে তৈরী করছি। সেই সাথে আমরা সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এনায়েত নগর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগ নেতা কামরুল মেম্বার জানান, আমি মনে করি যাকে দায়িত্ব দিলে দল সুসংগঠিত হবে তাকে নেতৃত্বে আনা হোক। তাছাড়া আগামী নির্বাচনে ভোট ব্যাংক বাড়াতে হলে তৃণমূল পর্যায়ে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরতে হবে। ভালো কাজগুলো মানুষের মাঝে তুলে ধরতে হবে। সেই সাথে পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে দলের নেতৃত্বে নিয়ে আসতে হবে। দলকে শক্তিশালি করতে হলে নতুন কমিটি অত্যন্ত জরুরী হয়ে গেছে।
এনায়েত নগর ইউনিয়নের সভাপতি প্রার্থী সালাউদ্দিন আহম্মেদ জানান, তৃণমূল নেতা কর্মীদের অনুরোধে আমি এই ইউনিয়নের সভাপতি পদে প্রার্থী হয়েছি। আমাদের এখানে পূর্বে ৩টি ওয়ার্ড নিয়ে কমিটি হয়েছে। আর এখন ৯টি ওয়ার্ডে কমিটি হবে। তাই আমি মনে করি দ্রুত কমিটি গঠনের মাধ্যমে দলীয় নেতাদের চাঙ্গা করতে হবে। সেই সাথে ওয়ার্ড পর্যায়ে নতুন করে কমিটি হলে এখানে নতুন নেতৃত্ব তৈরী হবে। আর তখন দল আরও শক্তিশালী হবে।
ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী জানান, আমরা ইতিমধ্যে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের আওতাধীন ৫ টি ইউনিয়নের মাঝে সম্মেলন শুরু করেছি। তার মাঝে কাশিপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাকিগুলোতে শীগ্রই হবে।এমই/জেসি


