Logo
Logo
×

রাজনীতি

ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা আ’লীগের সম্মেলনের ইঙ্গিত

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২২, ০৫:৪৪ পিএম

ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা আ’লীগের সম্মেলনের ইঙ্গিত
Swapno

 

# বাদ পড়তে পারেন বর্তমান কমিটির শীর্ষ নেতারা

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ঘর গোছাতে চায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলকে সংগঠিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাই চার প্রধান টার্গেট সামনে রেখে মাঠে নামছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের টার্গেটের মধ্যে রয়েছে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে মেয়াদোত্তীর্ণ ৩৪ জেলা সম্মেলন, ২ কোটি নতুন সদস্য সংগ্রহ এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন। দলীয় সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। 

 

দলীয় সূত্র জানায়, আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের ২২তম জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথা রয়েছে। এ সম্মেলনের আগেই মেয়াদ শেষ হওয়া ৩৪ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন শেষ করার তাগিদ দিয়েছেন দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে যেসব জায়গায় অভ্যন্তরীণ কোন্দল রয়েছে তা মিটিয়ে ফেলারও নির্দেশ আছে দলীয় সভানেত্রী। সে লক্ষ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা মাঠে নেমেছেন। এদিকে ৩৪ জেলার মেয়াদোত্তীর্ন তালিকার মাঝে ঢাকার পাশর্^বর্তি জেলা নারায়ণগঞ্জও রয়েছে। তাই রাজনৈতিক বোদ্ধমহল বলছেন নারায়ণগঞ্জ ঢাকার নিকটতম জেলা। এখানে কমিটি শক্তিশালী হলে দল শক্তিশালী হবে। কিন্তু দলীয় বিভিন্ন নেতা কর্মীর কর্মকান্ডের জন্য কমিটি দূর্বল হয়ে পড়লে দলও শক্তি হারাতে থাকে। নারায়ণগঞ্জ আওয়ামীলীগের কমিটিতে থাকা নেতা নিয়ে বিভিন্ন বিতর্ক রয়েছে। তার মাঝে জেলা সভাপতিও রয়েছেন। সেই সাথে বর্তমান কমিটিতে থাকা দায়িত্বরত নেতাদের নামে বিভিন্ন সময় কেন্দ্রে ১২টির বেশি অভিযোগ জমা পরেছে। প্রতিবারই অভিযোগের তীর জেলা সভাপতি আব্দুল হাই এবং সেক্রেটারি আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদলের দিকে গেছে।  তাদের নিয়ে দলের মাঝে নানা অভিযোগ রয়েছে।

 

এদিকে দলীয় সভানেত্রীর এই বার্তা জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ লড়েচরে বসেছে। সেই সাথে নতুন কমিটিতে যারা আসার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছে তারাও সক্রিয় হয়ে মাঠ গোছানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি দলীয় নেতা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ রাখার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে যাচ্ছেন। তবে তৃনমূল নেতা কর্মীদের অভিযোগ নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে উত্তর দক্ষিণ বলয় নিয়ে প্রভাব থাকায় এখানে এখনো কমিটি হচ্ছে না। উত্তর বলয়ে আছেন প্রভাবশালী নেতা এমপি শামীম ওসমানের অনুসারীরা। তার বিপরীতে দক্ষিণ বলয়ে আছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীর অনুসারীরা। জেলা রাজনীতিতে তাদের বিশাল প্রভাব রয়েছে। জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি মেয়াদ আরও ২ বছর আগেই মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এখনো পর্যন্ত নতুন কমিটি হয় নাই। অপরদিকে দলের ভিতর অভ্যন্তরীন কোন্দলের শেষ নেই। জেলা আওয়ামীলীগে উত্তর দক্ষিণ বলয় নিয়ে নেতাদের মাঝে কোন্দালের শেষ নেই। আর এজন্য এখনো পর্যন্ত শূন্য হওয়া পদ পূরণ হয় নাই। সেই সাথে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক নতুন সদস্য সংগ্রহ নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগ মাঠে নেমে বিশাল আকারে সদস্য সংগ্রহ উদ্বোধন করলেও শেষতক টার্গেট আর বাস্তবায়ন হয় না।  

 

দলের সদস্য সংগ্রহের বিষয়টি ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। ঘটা করে উদ্বোধন করা হলেও সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম শেষ পর্যন্ত গতি হারিয়ে ফেলে। সংশ্লিষ্ট নেতারা জানান, দলের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিন বছর পর পর সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন করা হয়। সদস্য পদ নবায়ন করা না থাকলে দলের কোনো কমিটিতে স্থান পাওয়া যায় না। অনেক সক্রিয় নেতা-কর্মীও ফরম পূরণ করেন না।


 
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় পরে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর ৩ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা দেয়া হয়। তখন আবদুল হাইকে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি, ডা. সেলিনা হায়াৎ আ্্্ইভীকে সিনিয়র সহ সভাপতি এবং আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এর ১৩ মাস পর ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। পরবর্তীতে এই কমিটিতে  বিভিন্ন সময় খালি থেকে যায় ৫টি পদ। এর মধ্যে সহ সভাপতি, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকসহ ২জন সম্পাদকীয় পদ ও ২ জন সদস্য পদ খালি রয়েছে। তাছাড়া আনুষ্ঠানিকভাবে কমিটি ঘোষণার আগেই একজনের মৃত্যু ঘটে। সেই সাথে শ্রমিকলীগের  কেন্দ্রীয় কমিটির শ্রমিক উন্নয়ন ও আপ্যায়ন বিষয়ক সম্পাদক কাওসার আহমেদ পলাশ এবং জেলা আওয়ামীলীগে বর্তমানে ৬ টি পদ খালি রয়েছে। জেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার পর মাসের পর মাস অতিবাহিত হতে চললেও বিভিন্ন জটিলতার কারণে এখন পর্যন্ত খালি পড়ে থাকা পদ পূরণ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না। এই খালি পদ পূরণের লক্ষ্যে একাধিক সভাসহ নানা আলাপ-আলোচনা হলেও জেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়হীনতার কারণে সকল চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে।

 

সূত্রমতে, অতীতের নির্বাচনের চাইতে আগামী নির্বাচন বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে এবং দলকে কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে, দলের একাধিক বৈঠকে সে বার্তাও দিয়েছেন দলীয় প্রধান। তাই আগামী নির্বাচনে জনগণের কাছে যাদের গ্রহণযোগ্যতা বেশি, বিপদে যারা মানুষের সঙ্গে ছিলেন এমন লোককে খুঁজে বের করতে দলীয় নেতাদের কাজ করার তাগিদ দিয়েছেন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

 

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক এক সাক্ষাৎকারে ১৬ জুলাই বলেন, ‘সামনে আগস্ট মাস। এ মাসের ধারাবাহিক কর্মসূচি ঠিক করতে চলতি মাসেই দলের কার্যনির্বাহী সংসদের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়া জেলা সম্মেলন শেষ করা, মেয়াদোত্তীর্ণ সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন সম্মেলন শেষ করার নির্দেশনা রয়েছে। এ ছাড়া যেখানে অভ্যন্তরীণ কোন্দল আছে সেগুলো মিটানোর জন্য দলের নেতৃবৃন্দ মাঠে নেমেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনকল রিসিভ করেন নাই।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন