খুড়িয়ে চলছে বন্দর আ’লীগের ইউনিয়ন কমিটি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২২, ০৬:১৫ পিএম
# জাতীয় পার্টির আগ্রাসনে নিস্তেজ তৃণমূল
সর্বশেষ ২০০৩ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কমিটিগুলোর সম্মেলন। তারপর আর কোন ইউনিয়ন কমিটির সম্মেলন দেখেনি বন্দর আওয়ামী লীগ। ভবিষ্যতে কবে নাগাদ আবার এই সম্মেলন দেখতে পাবেন তাও জানেন না তারা। এরই মধ্যে কেউ বয়সের ভারে নুয্য হয়ে শয্যাশায়ী আছেন আবার কেউ বা এই দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে চলে গেছেন পরপারে।
পাঁচটি ইউনিয়নের চারটিতেই হয়তো সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদক পদশূণ্য হওয়ার কারণে ভারপ্রাপ্তদের দিয়েই কার্যক্রম চলছে বছরে পর বছর। এতে তরুণ নেতা-কর্মীসহ নতুন নেতৃত্ব তৈরি হওয়ার পথরুদ্ধ হয়ে গেছে বলে মনে করেন সচেতন মহল। অন্যদিকে বন্দরের কিছু সুবিধাবাদী উচ্চ পর্যায়ের নেতা তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করাসহ নিজেদের ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করতে ইচ্ছে করেই এই সম্মেলন থেকে বিরত আছেন বলে বন্দরের তৃণমূল আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের ধারণা। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির আগামী সম্মেলনের পূর্বে এমনকি আগামী জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এই সম্মেলনের সম্ভাবনা নাই বলে মনে করেন তারা। সূত্রমতে একই ব্যক্তি দীর্ঘ সময় একই পদে অধিষ্ঠিত থাকার কারণে তাদের মধ্যে এক ধরণের আত্মঅহমিকা তৈরি হয়েছে। একই সাথে প্রতিটি ইউনিয়নের হাজার হাজার আওয়ামী লীগের সমর্থক এখন উৎসাহ ও উদ্দীপনা হারিয়ে ফেলছে। যোগ্যতা দেখানোর সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দীর্ঘ বিশ বছর যাবত সেই একই কমিটি দিয়েই চলছে কার্যক্রম।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৩ সালে নভেম্বরের দিকে যখন বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিউদ্দিন এবং সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন মোবারক হোসেন তখন বন্দরের পাঁচটি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের সর্বশেষ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০০৪ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার হয়। এর প্রায় ১৫ বছর পর ২০১৯ সালে উপজেলা আওয়ামী লীগের আবারও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয় কিন্তু এরমধ্যে ইউনিয়ন পর্যায়ের আর কোন কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি।
এর মধ্যে প্রায় ১০ বছর আগে মারা যান মদনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম। প্রায় তিন বছর আগে মারা যান ধামগড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি নাসির উদ্দিন মাস্টার। করোনার শেষ মুহুর্তে মারা যান বন্দর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ। এরই মধ্যে বেশ কয়েক বছর আগে মারা গেছেন মুছাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন (ভেন্ডার)। এসব শূণ্য পদগুলো ভারপ্রাপ্তদের মাধ্যমে চালানো হচ্ছে। তাছাড়া অন্য পদগুলোর দায়িত্ব দীর্ঘ এই বিশ বছর যাবত একই ব্যক্তি পালন করে যাচ্ছেন।
বিভিন্ন সময় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের এই কাউন্সিল শীঘ্রই সম্পন্ন করা হবে বলে জানান এখানকার আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা। কিন্তু কাজীর গরু কাগজে থাকলেও গোয়ালে আর দেখা যায়নি। এমতবস্থায় এসব পদে থাকা ব্যক্তিদের বেশির ভাগ নেতা-ই সহজে কাউন্সিল চান না বলে জানান তৃণমূলের নেতাকর্মী। কারণ, এতে তাদের পদচ্যুত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে দীর্ঘ সময় ইউনিয়ন কমিটিগুলোর সম্মেলন না হওয়ার কারণে এখানকার হাইব্রীড ও কাউয়া মার্কা কিছু নেতাকর্মীসহ আওয়ামী লীগের কিছু অর্থলোভী স্বার্থন্বেষী নেতাদের দাপটও বেড়েছে এবং পকেটও ভারি হচ্ছে। যার ফলে বন্দর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক শক্তি দুর্বলসহ চরম হুমকির মুখে পড়ছে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়া এই দলটির।এমই/জেসি


