Logo
Logo
×

রাজনীতি

রোজেলের বিষয়ে গঠিত হচ্ছে তদন্ত কমিটি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২২, ০৯:২২ পিএম

রোজেলের বিষয়ে গঠিত হচ্ছে তদন্ত কমিটি
Swapno

 

ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক জাহিদ হাসান রোজেল বঙ্গবন্ধুর মাজারে যাওয়ার খবরে বিএনপিতে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। দলের একজন দায়িত্বশীল নেতার এম কন্ডে হতভম্ব হয়েছে দলের তৃনমূল। থানা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সর্বোচ্চ নেতার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে দলের কেউ কেউ। যে নেতার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর প্রেম দৃশ্যমান এমন নেতাকে নিয়ে দলের মঙ্গল আশাকরা যায়না বলেও মন্তব্য করেছেন অনেক নেতা।

 

এ ব্যাপারে বিএনপি নীতি নির্ধারণী ফোরামের হস্তক্ষেপ দাবী করেছে ফতুল্লা থানা বিএনপির তৃনমূলের নেতাকর্মীরা। রোজেলের এহেন কর্মকান্ডে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে বহিষ্কারের দাবী জানিয়েছেন অনেকেই। মজা করে হাবিব এহসান নামক একজন লিখেছেন " বাবা তোমার দরবারে সব পাগলের খেলা; হরেক রকম পাগল দিয়া মিলাইছো মেলা" মিলন আহম্মেদ নামক একজন লিখেছেন মাজর ভক্ত তাই গিযেছিলো। তবে অনেকেই তার বহিষ্কার দাবী করে পোস্ট ও কমেন্টস করেছে। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন,সে যখোন টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধুর মাজার পর্যন্ত গিয়েছিলেন হয়তো সাংবাদিক দেখে ভিতরে ঢোকার সাহস করেনি।

 

এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক রুহুল আমিন শিকদার মুঠোফোনে জানান, তিনি জানতে পেরেছেন এবং নিশ্চিত হয়েছেন যে জাহিদ হাসান রোজেল ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের বেশ কয়েকজন নেতৃবৃন্দের সাথে টুঙ্গিপাড়া বঙ্গবন্ধুর মাজারে গিয়েছিলেন। যেটা তার যাওয়া মোটেও উচিত হয়নি। ইতিমধ্যেই বিষয়টি দলীয় শীর্ষ কর্মকর্তা জেনেছেন। এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে তদন্ত কমিটি করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

ফতুল্লা থানা বিএনপির সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, সংবাদ মাধ্যমে সংবাদ পরে তিনি জানতে পেরেছেন রোজেলের বিষয়টি। যদি সে গিয়ে থাকে তাহলে সেটা অতন্ত্য দুঃখ জনক ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। দল থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন যেহেতু জাতীয় পত্র-পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে সে ক্ষেত্র কেন্দ্রীয় নেতারা হয়তো বিষয়টি দেখেছেন। তারা কি সিদ্ধান্ত নেয় সেটা তারাই বলতে পারবেন। নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, কেন্দ্র থেকে এ বিষয়ে জানতে ফোন দিয়েছিলো।আমি সন্ধ্যার পর জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সাথে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়ে আলাপ করবো। দু’জনে বসে সিদ্ধান্ত নেবো কি করা যায়। তদন্ত কমিটি কতো সদস্যর হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে সাধারণ সম্পাদক বলেন, এটা এক অথবা দুই সদস্যর হতে পারে। খুব বড় কমিটি করার প্রয়োজন নেই।

 

অপরদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবির সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, তিনিও জানতে পেরেছেন বা শুনেছেন বিষয়টি। রোজেল জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক এবং ফতুল্লা থানার আহবায়ক দু দুটি গুরুত্বপূর্ণ পদের অধিকারী তিনি। একটি দ্ধায়িত্বশীল জায়গায় থেকে তার যাওয়া উচিত হয়নি বলে তিনি মনে করেনে। দলীয় ভাবে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হবে বা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনিও একটি দ্ধায়িত্বশীল জায়গায় রয়েছেন।তাই এই দ্ধায়িত্বশীল জায়গায় থেকে আপাতত তিনি কিছুই বলতে পারছেনা। তবে বিষয়টি ঠিক হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। কেন্দ্রীয় বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম জানায় তিনি ও বিষয়টি জেনেছেন। সাংবাদিকদের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি আরো ভালো ভাবে জানতে চান। তবে তিনি(রোজেল) যদি সেখানে গিয়ে থাকেন তাহলে দলীয় হাই কমান্ড হয়তো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

 

উল্লেখ্য যে,১২জুলাই মঙ্গলবার বিকেলে ফতুল্লা থানা আ’লীগের কয়েকজন নেতার সাথে একটি কালো মাইক্রোবাসে করে টুঙ্গীপাড়ায় যান বিএনপির এ নেতা। মাজারের গেটে সাংবাদিকদের দেখে তিনি সাথে সাথে গাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে নিজেকে লুকিয়ে ফেলেন। তবে সাংবাদিকরাও নাছোরবান্দা। গাড়ির কাছে গিয়ে রোজেলের সাথে দেখা করেন এবং কুশল বিনিময় করেন। সাংবাদিকরা তার সাথে কথা বলে ফিরে আসার সময় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ করেন রোজেল।  

 

এদিকে, শনিবার রোজেলের টুঙ্গীপাড়া সফরের বিষয়টি জানাজানি হলে তুমুল সমালোচনা শুরু হয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মাঝে। অনেকেই মন্তব্য করেন, ফতুল্লা থানা আ’লীগের সভাপতি এম সাইফউল্লাহ’র মামাতো ভাই ও ব্যবসায়ীক অংশীদার হওয়ার সুবাদে রোজেলকে হামলা-মামলার শিকার হতে হয়নি। লিয়াজোর রাজনীতিতে বেশ অভিজ্ঞ রোজেল স্থানীয় আ’লীগ নেতাদের সাথে মিলেমিশে বেশ ভালোই আছেন।এমই/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন