#দলকে সুসংগঠিত করার জন্য কাজ করছি : রবি
এক যুগ ধরে কঠিন চ্যালেঞ্জের বেড়াজালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফল বিপর্যয়ের পর আরও চাপে পড়ে দলটি। যা প্রতিষ্ঠার পর আগে কখনও এমনটি দেখা যায়নি। তার প্রভাব নারায়ণগঞ্জেও পড়েছে। দলটি এখানে সাংগঠনিক দূর্বলতার পাশাপাশি মামলা ও গ্রেফতারে নেতাকর্মীদের নাজেহাল অবস্থা। তাছাড়া দলটির শীর্ষ দুই কাণ্ডারি- চেয়ারপারর্সন খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সরাসরি পাশেও পাচ্ছেন না নেতাকর্মীরা। আর এতে করে সঠিক দিক নির্দেশনাও পাচ্ছেন না। সব মিলিয়ে এখন কঠিন সংকটের সম্মুখীন দলটি। এ অবস্থায় বর্তমান সংকট কাটিয়ে নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত করে ঘুরে দাঁড়ানোই বিএনপির এখন মূল চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ গ্রহন করানোর জন্য নানা কৌশল অবলম্বন করছেন ক্ষমতাসীন দল। কিন্তু বিএনপি শীর্ষ নেতাদের একটাই কথা তারা এই সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনে যাবেন না। তবে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির চেহারা ভিন্নরুপ। দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ নির্বাচনে অংশগ্রহনের কথা না জানালেও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিএনপি মনোয়ন প্রত্যাশীরা ভিতরে প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। আর এজন্য কর্মীদের সাথে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। সেই সাথে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে কয়েকটি সভা করে নেতা কর্মীদের সক্রিয় করার চেষ্টা করেছেন।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির জনপ্রিয়তা থাকার পরও ভুল রাজনীতির কারণে এখনও ‘চোরাগলিতে’ আটকে আছে বিএনপি। দলের ভেতর বিভিন্ন ধরনের সংকটের মধ্যে করোনার ধাক্কায় আরও টালমাটাল দলটি। সাংগঠনিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানো আরও কঠিন হয়ে পড়ছে। এছাড়া দলের ভিতর নেতায় নেতায় কোন্দলতো আছেই। এ থেকে উত্তরণে দলটির সামনে রয়েছে নানামুখী চ্যালেঞ্জ। আর এজন্য উত্তরনের পথ খুজছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।
দলীয় সূত্রে জানাযায়, গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ধাক্কা এখনও সামলে উঠতে পারেননি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতাকর্মীরা। বিশেষ করে নির্বাচনের আগ থেকে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র শীর্ষ নেতাদের আর কাছে পাচ্ছেন না মাঠ পর্যায়ের কর্মী সমর্থকরা। ফলে নেতাদের সাথে দলের কর্মীদের মাঝে দূরত্বে সৃষ্টি হচ্ছে আর এ দূরত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাছাড়া একের পর এক মামলায় জর্জরিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র মাঠ পর্যায়ের কর্মী সমর্থকরা। এক্ষেত্রে পাশে পাচ্ছেন না কোন নেতাকে। বর্তমানে রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় কর্মীদের কোন খোঁজই নিচ্ছেন না নেতারা। অথচ নেতাদের মিটিং মিছিলে গিয়েই এসব মামলার আসামী হতে হয়েছে হতভাগ্য বিএনপি কর্মীদের।
সূত্রে প্রকাশ, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভরাডুবির পরে খুবই করুণ অবস্থা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র অবস্থা। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত এমন বৈরী পরিস্থিতির মুখোমুখি কখনও হয়নি দলটি। নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র অবস্থাতো আরো নাজুক, এখানে দলের শীর্ষস্থানীয় অনেক নেতাই নির্বাচনে প্রকাশ্যে সরকারী দলের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। আর মনোনয়ন না পাওয়ায় অনেকে মাঠেই নামেননি নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র অনেক শীর্ষ নেতা। নির্বাচনের সেই আত্মগোপনে থেকে এখনও বের হননি তারা। তাছাড়া নির্বাচনের পূর্বে দায়ের হওয়া বিভিন্ন নাশকতার মামলায় আসামী হওয়ায় আপাতত সবকিছু এড়িয়ে চলছেন তৃণমূলের অনেক নেতাকর্মী।
নারায়ণগঞ্জ বিএনপির শীর্ষ নেতারা মনে করেন, দলের এই দুঃসময় কাটিয়ে উত্তরনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য জোরালো আন্দোলন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সম্মেলন। দল এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর অন্তর্দ্বন্দ্ব কাটিয়ে পুনর্গঠন, সরকার বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সর্বপ্রথম নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থা ও মনোবল ফিরিয়ে আনতে হবে। পাশাপাশি যে কোনো পরিস্থিতিতে সঠিক ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। দল পূর্ণগঠনের ক্ষেত্রে সুবিধাবাদীদের বাদ দিয়ে যোগ্য ও ত্যাগীদের শীর্ষ নেতৃত্বে আনতে হবে। তবে দলটির নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্খীরা মনে করেন, প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি বিভিন্ন সময়ে বিপর্যয়ে পড়লেও বারবারই তারা ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এবারও দলটি ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ এ দেশের লাখ লাখ তৃণমূল নেতাকর্মী ও সমর্থক জাতীয়তাবাদী শক্তির সঙ্গে রয়েছে।
জেলার শীর্ষ নেতাদের মতে, বিএনপির জনসমর্থন তুঙ্গে থাকলেও টানা বিপর্যয় এবং নানামুখী সাংগঠনিক দূর্বলতার ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হয়নি। সব মিলে আন্দোলনে ব্যর্থতা ও মামলার কারণে নেতাকর্মীদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে এক রকম হতাশা।
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি বলেন, আমরা ১৩ বছরের বেশি সময় ধরে বিরোধী দলের ভূমিকায় আছি। বর্তমান দুঃসময়ে জনগণকে সংগঠিত করার কোনো বিকল্প নেই। জনগণের নিরাপত্তা বিধানের জন্যই গণতন্ত্রকে ফিরিয়ে আনতে হবে। বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়ে হয়রানির খড়গ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমি নারায়ণগঞ্জ জেল কারাগারে খোজ নিয়ে জানতে পারি এখানে ১৪শ লোক জেল কারাগারে বন্দি আছে। তার মাঝে ৯শ’লোক বিএনপির মনা বা সমর্থক সহ নেতা কর্মী রয়েছে। যার বেশির ভাগ মামলাই মিথ্যা এবং প্রতিহিংসা মূলক। তবে আমরা দলকে সংসগিঠত করার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। কমিটি প্রসঙ্গে বলেন, অনেক সময় পরিস্থিতির কারনে সম্মেলন করা যায় না। বর্তমানে আমাদের কৌশল অবলম্বন করতে হচ্ছে। খুব শিগ্রই জেলা বিএনপির সম্মেলন হবে।
জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপির মূল চ্যালেঞ্জ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, জনগণের রাষ্ট্র তাদের মালিকানায় ফিরিয়ে দেয়া। এই কাজগুলো করতে হলে প্রথমে গণতন্ত্রের জন্য যিনি আজীবন লড়াই করছেন সেই নেত্রী খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি প্রয়োজন। তাকে আবারও রাজনীতিতে আগের মতো ফিরে আসার পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে দেশে ফিরিয়া আনার পরিবেশ সৃষ্টি করাই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য। তাছাড়া দলকে সু সংগঠিত করার জন্য আমরা দিন রাত কাজ করে যাচ্ছি। সকলকে নিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি হবে। আশা করি খুব শীঘ্রই জেলা বিএনপির সম্মেলন হবে।এমই/জেসি


