Logo
Logo
×

রাজনীতি

ক্ষমতায় থেকেও বন্দর আ’লীগে ভরাডুবি

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২২, ০৬:১৫ পিএম

ক্ষমতায় থেকেও বন্দর আ’লীগে ভরাডুবি
Swapno


 
# এখানকার আভ্যন্তরীণ কোন্দল দায়ী : এমএ রশিদ
# এই নির্বাচনে জাপা বিএনপির সাথে আঁতাত করে : ইব্রাহীম কাশেম

 

 

আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন যাবত দেশ পরিচালনার দায়িত্বে থাকলেও তার উন্নয়ন বা সুফল জনগণের কাছে পৌছে দিচ্ছে জাতীয় পার্টি। অন্যদিকে জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতাদের আঁতাত থাকার কারণে সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতৃবৃন্দসহ প্রকৃত এবং ত্যাগী নেতারা সম্পৃক্ত হওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই সাধারণ জনগণের সাথে প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের একটি দুরত্ব তৈরি হয়েছে এবং ধীরে ধীরে এই দুরত্ব আরো বাড়ছে। ফলে জনগণের কোন উন্নয়নে ভূমিকার রাখতে না পারায় শুধু নির্বাচনের সময় তারা জনগণের কাছে গিয়ে ভোট চাইতে পারছে না। দল দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার কারণে এই দলের প্রতি মানুষের চাহিদা অনেক বেশী। কিন্তু সেই তুলনায় জনগণকে সম্পৃক্ত করে আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ দলীয় কোন কর্মকান্ড করতে পারছে না। 

 

তাছাড়া বন্দর এলাকাটি নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন অর্থাৎ সদর আসনের সাথে সম্পৃক্ত থাকায় এই আসনটিতে একটানা তিন মেয়াদে অর্থাৎ প্রায় ১৩ বছরের অধিক সময় ধরে আওয়ামী লীগের কোন এমপি না থাকায় বন্দর আওয়ামী লীগ অনেকটা-ই অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে দীর্ঘ সময় ধরে স্থানীয় সাংসদ জাতীয় পার্টির সমর্থিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বন্দরে জাতীয় পার্টির কর্তৃত্ব সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় জনগণকে বয়স্কভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, সরকারী ত্রাণ বিতরণ এমনকি সাম্প্রতিক করোনা মহামারীর সময় দুর্ভোগের শিকার হওয়া স্থানীয় জনগণকে কোন সহায়তা করতে পারেননি ক্ষমতায় থাকা দলটির নেতাকর্মীরা। সরকারী যে বরাদ্দ ছিল তা বিলিয়েছেন জাতীয় পার্টির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

 

তাছাড়া রাস্তা-ঘাট, স্কুল কলেজ নির্মাণ ও সংস্কারসহ সমাজের বিভিন্ন প্রয়োজনীয় সমস্যায় জনগণের পাশে দাঁড়াতে পারেননি তারা। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের মতে শুধু বন্দর না, নারায়ণগঞ্জ সদর আসনে আওয়ামী লীগের প্রকৃত নেতাকর্মীরা এধরণের কোন সহযোগিতায় অংশ নিতে পারছেন না। তার উপর স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু সুবিধাবাদী নেতা নিজেদের ক্ষমতার দাপট ধরে রাখাসহ পেশি শক্তি ও আর্থিক সুবিধার লাভ করার জন্য আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে গিয়ে জাতীয় পার্টির হয়ে কাজ করে। গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতাকর্মীকে জাতীয় পার্টির হয়ে কাজ করার মতো দৃশ্যও দেখা গেছে। যার ফলে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি তরান্বিত হয়েছে।


 
স্বাভাবিকভাবেই বন্দরে আওয়ামী লীগ, বিএনপি কিংবা জাতীয় পার্টি সব দলেরই গ্রহণযোগ্যতা প্রায় সমান। তবে যেহেতু দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় সাংসদ থেকে শুরু করে স্থানীয় পর্যায়ের বেশিরভাগ জনপ্রনিধি-ই জাতীয় পার্টির। তাই এখানে অর্থ ও ক্ষমতার প্রভাব কিংবা জনগণের সাথে সম্পৃক্ততা জাতীয় পার্টিরই বেশি। তাই দীর্ঘ সময় আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার পরও বন্দর আওয়ামী লীগের কর্তৃত্ব ধীরে ধীরে ক্ষয় হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ। যা গত ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচনের ফলাফলের চিত্র দেখলেই অনুমান করা যায়। গত ইউপি নির্বাচনে বন্দরের ৫টি ইউনিয়নের মাত্র একটিতে চেয়ারম্যান পদে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। বাকী ৪টি-ই দখল করে নিয়েছে জাতীয় পার্টি। একই সাথে নাসিক নির্বাচনে বন্দরের ৯টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র একটিতে জয় লাভ করে আওয়ামী লীগ। বাকীগুলোর মধ্যে বিএনপি ৫টি, জাতীয় পার্টি ২টি এবং স্বতন্ত্র একটি। এতেই বুঝা যায় বন্দরে আওয়ামী লীগের অবস্থা কতটা নাজুক।

 

অনেকেরই ধারণা, এখানে প্রার্থী নির্বাচনে গাফিলতিসহ একটি সুদুর প্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে বন্দর আওয়ামী লীগকে দুর্বল করার অপচেষ্টা চলছে। আর দলীয় অনৈক্যের সুযোগে তারা এই বিষয়ে অনেকটা সফল হচ্ছে। প্রবীণ ও তৃণমূল আওয়ামী লীগের অনেকেই অভিযোগ করে বলেন, বন্দর আওয়ামী লীগে বর্তমানে হাইব্রীড ও কাউয়া মার্কা নেতা কর্মীর সংখ্যা বেড়ে গেছে। মুখে মুখে আওয়ামী লীগ ঝপে ফেনা তুললেও তারা সহজে জয়বাংলা স্লোগান দিতে চান না।


 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলাগাছিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহীম কাশেম বলেন, আমাদের দল দীর্ঘদিন যাবত ক্ষমতায় থাকলেও আমরা বন্দর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জনগণ থেকে অনেক দুরে আছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন, সাহায্য সহযোগিতা, ত্রাণ কিংবা ভাতা এগুলো বিতরণে আমরা শরীক হতে পারছি না। তাই ভোটারদের কাছ থেকে এখানকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অনেকটা দুরে সরে গেছি। আমরা সরকারী দলে থেকেও যেহেতু কোন সহযোগিতায় শরীক হতে পারছি না, সেহেতু তারা আমাদের বিশ্বাস করতে পারছেন না। আমরা বিরোধী দলে থাকলেও বলতে পারতাম যে, আমরা ক্ষমতায় গেলে তাদের সুবিধা প্রদান করব। তিনি বলেন, তবে বন্দরে আওয়ামী লীগের ভরাডুবির অন্যতম কারণ হলো, জাতীয় নির্বাচনের সময় জাতীয় পার্টি মহাজোটের অংশিদার দাবী করে। সেই হিসেব করে তখণ আমরা তাদের ভোট দেই। কিন্তু স্থানীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টি এবং বিএনপির মধ্যে একটি আঁতাত হয়। তখন তারা ভোট কোন অবস্থায়ই আওয়ামী লীগকে দেয় না। জাতীয় পার্টিকে দিচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সিটি কিংবা ইউনিয়ন নির্বাচনে বিএনপির ভোটগুলো সব জাতীয় পার্টির ব্যালটে পড়ে, জোটগতভাবে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়।


 
এই বিষয়ে কথা বলার জন্য মদনপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী আব্দুস সালামের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


 
এই বিষয়ে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ রশিদ জানান, বন্দর আওয়ামী লীগের এলাকাভিত্তিক কমিটিগুলোয় কিছু আভ্যন্তরীন কোন্দল থাকার কারণে এখানে আওয়ামী লীগের পরাজয় হয়েছে। তবে সাধারণ সম্পাদক (হজ্ব পালন শেষে) দেশে আসলে এখানকার কমিটিগুলো পুনর্গঠন করার পর অনেকটা ঠিক হয়ে যাবে বলি আমি মনে করি।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন