Logo
Logo
×

রাজনীতি

আ’লীগে বিভেদ উপকৃত জাপা

Icon

শুভ্র কুমুদ

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২২, ০৭:০৩ পিএম

আ’লীগে বিভেদ উপকৃত জাপা
Swapno

‘শেষ ভালো যার, সব ভালো তার’ এই এক কথাতেই যেন বারবার হেরে যায় নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ। যে কোন বড় দলে বিভেদ থাকবে এটিই স্বাভাবিক। তবে জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামীলীগের বিভেদ যে চরমে উঠে তাতে উপকৃত হয় মহাজোটের দল জাতীয় পার্টি। সূত্র জানিয়েছে, নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগের জয়োধ্বনি তলানীতে প্রায় এক দশকের উপরে। 

 

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে লিয়াকত হোসেন খোকা দুই মেয়াদে সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত রয়েছেন। তবে এই দুটি আসনে আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠিত নেতারা বছরের বেশিরভাগ সময় আওয়ামীলীগের প্রার্থী দেয়ার দাবিতে এক থাকলেও নির্বাচনের আগে বিভেদের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত উপকৃত হয় জাতীয় পার্টি। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দও শেষমেষ জাতীয় পার্টিকে ছাড় দেয়ার পক্ষেই অবস্থান নেন।

 

সূত্র বলছে, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সাংসদ আবদুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত বরাবরই আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নৌকার প্রার্থী হবার দাবি করেন। নৌকার প্রার্থীর হিসেবে মনোনয়ন চাইলেও বাকি আওয়ামী লীগ নেতাদের সংখ্যাও নির্বাচনের আগে বেড়ে যায়। সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান কালাম, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ও স্বাচিপ নেতা আবু জাফর চৌধুরী বীরু, 

 

সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক এড. সামসুল ইসলাম ভূঁইয়াসহ অন্তত দশজন নেতা এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। এমনকি মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে তো বটেই নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনেও মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন। যার ফলে সাবেক সাংসদ কায়সার হাসনাতের পক্ষে আওয়ামীলীগের সমর্থন আদায় করাটা দূরুহ হয়ে পড়েছে। 

 

সম্ভবনা তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত জাতীয় পার্টিকেই ছাড় দিয়েছিল আওয়ামীলীগ। কায়সার হাসনাত সিদ্ধান্ত না মানতে চাইলেও জাতীয় রাজনীতির কৌশল হিসেবে শেষ পর্যন্ত তিনি ছাড় দিতে বাধ্য হন। আর কপাল খোলে জাতীয় পার্টির লিয়াকত হোসেন খোকার। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে খুব বেশি অবস্থার উন্নতি হয়নি নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে। যার ফলে আওয়ামী লীগের বিভেদ এখন যতখানি রয়েছে নির্বাচনের আগে যে তা ঝলন্ত কয়লা থেকে দাবানল ছড়াবার মতো বাড়বে সেটিও অনুমেয়।

 

শহর-বন্দর নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামীলীগের অবস্থান আরো লেজে-গোবরে। সূত্র বলছে, বছরের বেশিরভাগ সময়ে নৌকার দাবিতে স্বোচ্চার থাকলেও নির্বাচনের আগে একে অন্যের ঘাড় চেপে নামানোর চেষ্টা করেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র কিনার প্রতিযোগিতা করে। চেয়ার এক কিন্তু দাবিদার কয়েক হাজার এমন নীতিই যেন চেপে ধরে আওয়ামীলীগের নেতাদের। 

 

গত একাদশ নির্বাচনে এমন প্রতিযোগিতা করার কারণে শেষ পর্যন্ত লাভবান হয়েছে জাতীয় পার্টির সেলিম ওসমান। গাঞ্জার নৌকা তালগাছে উঠাতে চায় বলে সেলিম ওসমান যেই হুঙ্কার দিয়েছিলেন কলাগাছিয়া ইউপি নির্বাচনের আগে। আওয়ামীলীগের সব নেতারা প্রতিবাদ করলেও বিভক্তির কারণে সেলিম ওসমানের সেই কথাকে মিথ্যা প্রমাণ করতে পারেননি। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে হটিয়ে আওয়ামীলীগের এই আসনে প্রার্থী দেয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। 

 

কিন্তু মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বাহার দেখে শেষ পর্যন্ত আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন। সূত্র বলছে, গত নির্বাচনে জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবু সুফিয়ানের সর্বাত্মক মাঠ গোছানো ছিল। প্রস্তুতিও ব্যাপক ছিল। কিন্তু অপেক্ষাকৃত কম প্রস্তুতি থাকলেও কেনার জন্য মনোনয়নপত্র কেনার হিড়িক পড়ে যায় আওয়ামীলীগে। 

 

আওয়ামীলীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এড. আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামীলীগৈর সভাপতি আবদুল হাই, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল ও তার স্ত্রী, জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আবদুল কাদির, জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া, মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদা মালাসহ প্রায় বিশজনের মতো আওয়ামীলীগের মনোনয়পত্র সংগ্রহ করেন।

 

 এতো মনোনয়নপত্র কেনা ছিল আওয়ামীলীগের বিভক্তি ও চরম সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার অন্যন্য উদাহরণ। যার ফলে দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় পার্টির সুরক্ষিত ঘাঁটি নারায়ণগঞ্জ-৫ জাতীয় পার্টির কাছেই রয়ে যায়। এবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আবারও জাতীয় পার্টিই উপকৃত হতে পারে বলে মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের। 

 

তারা বলছেন, গতবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন আরজু রহমান ভূইয়া। লাগাতার ৫৪টি উঠান বৈঠক করেও তিনি মনোনয়ন পাননি। তাকে দমাতে অন্তত তার বন্ধুমহলের বেশ কয়েকজন মনোনয়নত্র কিনেছিলেন। যার ফলে ছিটকে যান তিনি। অপেক্ষাকৃত একেবারে শুন্যের কোটায় চাহিদা থাকা আওয়ামীলীগ নেতাও আওয়ামীলীগের মনোনয়নপত্র কিনেছেন। আওয়ামীলীগের এই বিশৃঙ্খলার দরুণই বারবার সাংগঠনিক তৎপরতা পরিচালনা না করেও জাতীয় পার্টি উপকৃত হয়ে যায় সহজেই।এসএম/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন