Logo
Logo
×

রাজনীতি

আজাদেই নষ্ট যুবদল

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২২, ০৬:২৪ পিএম

আজাদেই নষ্ট যুবদল
Swapno

 

 

# চাঁদার বিরিয়ানি নিয়ে মারামারির পর হ-য-ব-র-ল
# রিসোর্ট ব্যবসায়ী আর সদস্য সচিব ব্যস্ত নিজেদের গোছাতেই

 

 

জেলা বিএনপি ছন্নছাড়ার জন্য বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদকে দোষারোপ করেন তৃণমূল ও ত্যাগী নেতারা এটা নতুন নয়। নিজের ক্ষমতায়ন আর স্বার্থসিদ্ধির জন্য তৃণমূলের সমর্থন বিচ্ছিন্ন যে কাউকে আজাদ পদে বসান যাতে কেউ তার বিরুদ্ধে না যেতে পারে। জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির মতোই এখন আজাদের কারিশমায় নখদন্তহীন হয়ে পড়েছে জেলা ও মহানগর যুবদল। 


সূত্র বলছে,  জেলা ও মহানগর যুবদলের যেসব আহবায়ক কমিটি দেয়া হয়েছে তারা সাংগঠনিকভাবে অপরিপক্কতা, অদূরদর্শীতা আর স্বেচ্ছাচারিতার আশ্রয় নিচ্ছে মুলত আজাদের পরামর্শে। সূত্র বলছে, আজাদের প্রেসক্রিপশনে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের দেয়া জেলা ও মহানগর যুবদল আদতে কেতাবে আছে গোয়ালে নেই এই ভূমিকাই পালন করছে। জেলা বিএনপির মতো ডাকসাইটের হেভীওয়েট ত্যাগী যুবদল নেতাদের বাইরে রাখা হয়েছিল মূলত আজাদের পরামর্শে। এড. তৈমূর আলম খন্দকার, মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন কিংবা আড়াইহাজারের মাহবুবুর রহমান সুমনের অনুসারী  যুবদল কর্মীদের অনেকটা নীলনকশা করেই তালিকার বাইরে রাখা হয়। কিন্তু মাত্র কয়েকমাসের মাথাতেই আংশিক সেই আহবায়ক কমিটির নেতারা নিজেরাই নানা বিতর্ক সামলাতে নিজেরাই জর্জরিত। রিসোর্ট ব্যবসায়ী হিসেবে খ্যাত  গোলাম ফারুক খোকন ও ছাত্রদল নেতা মশিউর রহমান রনিকে সদস্য সচিব করে জেলা যুবদলের যে আংশিক কমিটি দেয়া হয়েছিল তারা গত কয়েকমাসে চরম ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে। রনি তো নিজেই কিছুদিন পর পর নিজের বিরুদ্ধেই নানা সমালোচনা আর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলে নিন্দা ও প্রতিবাদ দিতে ব্যস্ত। যার কারণে সাংগঠনিক তৎপরতায় তেমন কোন ভূমিকা সামনে আসছেনা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নারায়ণগঞ্জের মতো জায়গায় দক্ষ হাতে যুবদলের নেতৃত্ব না দিতে পারার ব্যর্থতায় সামনের দিনগুলোতে ভুগতে হবে বিএনপিকে।


একই অবস্থা ঠিক মহানগর যুবদলে। মমতাজ উদ্দিন মন্তুকে আহবায়ক ও মনিরুল আলম সজলকে সদস্য সচিব করে মহানগরের যে আহবায়ক কমিটি দেয়া হয়েছে তারা সাংগঠনিক কাজকর্মে কোন মুন্সিআনাই দেখাতে পারেনি। যুগ্ম সম্পাদক পদ পেয়ে মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টি, সাগর প্রধান আর শাহেদ আহমেদ যেন দায় সেরেছেন। সূত্র জানিয়েছে, আজাদের প্রেসক্রিপশনে মহানগর যুবদলকে যেন সাংগঠনিক শক্তিবিহীন করতেই যেন তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। অথচ এই মহানগর যুবদলের কমিটিতে আসার প্রতিযোগিতায় অনেক ডাকসাইটের কর্মীরা ছিলেন। অর্থ যার কমিটি তার এমন নীতির কারণেই শেষতক সেই নেতারা যুবদলের কমিটি থেকে বাদ পড়েন।


সূত্র বলছে, জেলা ও মহানগরের ত্যাগী নেতাকর্মীদের সাথে সমন্বয় করতে পারছেনা প্রেসক্রিপশন যুবদলের আহবায়ক কমিটি। এখানে যুবদলের আহবায়ক কমিটিতে যারা রয়েছেন তারা সাংগঠনিক যে প্রক্রিয়া তা অনুসরণ না করেই ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের পথে হাঁটছেন যার কারণেই এসব ব্যর্থতা। যুবদল কমিটি করার সময় বিভাগীয় টিম যে প্রস্তাবনাটা করেছিলো তাকে পাশ কাটিয়ে আজাদের প্রেসক্রিপশনের আহবায়ক কমিটিগুলো এখন ধুকছে। বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড কিংবা এলাকায় যুবদলের যারা প্রতিষ্ঠিত ত্যাগী  নেতাকর্মী তাদের সাথে সমন্বয় করতে পারছেনা প্রেসক্রিপশন কমিটিগুলোর নেতারা। প্রতিষ্ঠিত নেতাদের মাইনাস করে হঠাৎ করে একটা ফোরাম করে যে কমিটি দেয়া হয়েছে তারা আদতে এখন নিজেরাই শুন্যে ভাসছে। এই দুই পকেট কমিটি আসার পর থেকেই ধাক্কা সামলাতে পারছেনা। কমিটি আসার পরপরই চাঁদা দিয়ে যেই বিতর্কে পড়েছিল মহানগর যুবদল সেটিই দাগ এখনো মুছতে সফল হয়নি তারা।


তরুণ যুবদল কর্মীরা তো একপ্রকার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে আহবায়ক কমিটির উপর থেকে। মহানগর যুবদলের আছড় দিয়ে পড়েছে জেলা ও মহানগর ছাত্রদলেও।  দীর্ঘদিন ছাত্রদল করা নেতাদেরও যুবদলে আসার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। নানা কুটকৌশল আর কলকাঠি নেড়ে ছাত্রদলও রয়েছে বিশৃঙ্খল অবস্থায়।  মহানগর যুবদলের আহবায়ক কমিটি যে ৮১ জনের কমিটি জমা দিয়েছে কেন্দ্রে সেখানে ছাত্রদলের কাউকেই রাখা হয়নি। নিজেদের মুখ চেনা ব্যক্তিদেরই যেন যুবদল নেতা হিসেবে পরিচিত করার প্রয়াস থেকেই এসব লোক দেখানো কমিটি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। উপজেলা কিংবা থানা পর্যায়ে যুবদলে সিস্টেম লস প্রক্রিয়াই অনুসরণ করা হয়েছে। মোট কথা, আজাদের প্রেসক্রিপশনের জেলা ও মহানগর যুবদলের আহবায়ক কমিটি দুটো নিজেদের খাপ খাওয়াতে পারছেনা উপরন্তু রাজনৈতিক পরিবেশ ও সাংগঠনিক তৎপরতা যতখানি অবশিষ্ট ছিল তাও তলানীতে নিয়ে ঠেকিয়েছে। চৌরঙ্গী পার্কে চাঁদার টাকার বিরিয়ানী নিয়ে মারামারির ঘটনা যেন সেই অবস্থার কথাই মনে করিয়ে দেয়।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন