Logo
Logo
×

রাজনীতি

ভোটার পাঁচের প্রার্থী চারের

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২২, ০৭:০৮ পিএম

ভোটার পাঁচের প্রার্থী চারের
Swapno

 


# নির্বাচন অনেক বড় ব্যাপার : ফেরদাউস

 

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কাজ শুরু করেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। এ লক্ষ্যে সারা দেশে ৩০০ আসনেই যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীর সন্ধান করা হচ্ছে। একাধিক উপায়ে প্রতিটি আসনে কে বেশি যোগ্য প্রার্থী জানতে ৬০০ জনের মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে। তারই ধারবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেও ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী অনুসন্ধান করা হচ্ছে। কিন্তু এখানে ৪ আসনের প্রার্থী নিয়ে ক্ষমতাসীন দলে সব সময় আলোচনায় থাকে। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে ২০১৮ সনের নির্বাচনে শামীম ওসমান এমপি নির্বাচিত হন।

 

কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের পাশা পাশি প্রধান বিরোধী দল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রার্থীরা নিজেদের মত করে মাঠ গুছিয়ে নিচ্ছেন। তবে গুঞ্জন উঠেছে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা সিদ্ধিরগঞ্জ ৪ আসনে এবার ইসলামিক দল থেকে প্রার্থী হতে পারে। আর তাও আবার জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম থেকে। কিন্তু প্রার্থী হিসেবে ইসলামী দল গুলোর পছন্দের তালিকায় রয়েছেন হেফাজত নেতা ও জমিয়তে উলামা ইসলামের জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন সহ অন্যান্য দল থেকে যারা প্রার্থী হবেন তারাও আগে থেকে মাঠ গোছানোর জন্য কর্মীদের নিয়ে মাঠে নামছে।

 

এদিকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৩ সাল বছরের শেষের দিকে হতে পারে। তার জন্য নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল গুলোর সাথে বৈঠক করছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ তৈরী করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মাঠ গোছাতে শুরু করেছে বর্তমান ক্ষমতাশীন দল আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য সকল সংগঠন। ব্যতিক্রম হয়নি নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির ক্ষেত্রেও। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও, বিএনপি, ইসলামী আন্দোলন, বাম সংগঠন গুলোর পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্ততি নিচ্ছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখার নেতৃবৃন্দরা। 


নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম নির্বাচনে অংশ নিতে পারে বলেও গুঞ্জন উঠেছে। এই আসন থেকে প্রার্থী হিসেবে থাকতে পারেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান, এমনটাই দাবী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে খোলামেলা কোন কিছু বলেননি ফেরদাউসুর রহমান। ফেরদাউসুর রহমানকে ক্ষমতাসীন দলের নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান ছোট ভাই বলে ডাকেন। তাই সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেন ৪ আসনে ফেরদ্উাস প্রার্থী হলে তাহলে ছোট ভাই বড় লড়াই হবে।

 

অপরদিকে খোঁজ নিয়ে জানাযায়, জেলা জমিয়তে উলামা ইসলামের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান নারায়ণগঞ্জ আসনের আলীরটেক ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার। তিনি গত বছরের আলীরটেক ইউনিয়ন নির্বাচনে ভোটও প্রদান করেন। তবে তিনি ফতুল্লা জামতলা এলাকায় বসবাস করেন। তাকে ৪ আসনে প্রার্থী হিসেবে চান জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতৃবৃন্দ। কিন্তু রাজনৈতিক বোদ্ধমহল প্রশ্ন তুলেন মাওলানা ফেরদাউস ভোটার জেলার সদর বন্দর ৫ আসনের আলীরটেক ইউনিয়নের ভোটার হয়ে তিনি কি করে ৪ আসনের প্রার্থী হবেন। আর তাকেই চার আসনের প্রার্থীই হতে দাবী করে কি করে। কেননা তাকে চার আসনে প্রার্থী হতে হলে হেফাজত নেতার ফেরদাউসুর রহমানের ভোটার চার আসনে স্থানান্তর করতে হবে।

 

অন্যদিকে ২২ জুলাই নগরীতে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান। সেখানে আলোচনা সভা চলাকালীন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মাওলানা ফেরদাউসকে দেখতে চায় বলে অভিমত প্রকাশ করে উপস্থিত নেতৃবৃন্দরা। এসময় নারায়ণগঞ্জ জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সকল অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দদের এলাকা, ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন পর্যায়ে কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন মাওলানা ফেরদাউস। তিনি বলেন, ‘আমরা মহানগর ও জেলা কমিটি গঠন করে জমিয়তের জাগরণ আবার এই নারায়ণগঞ্জে তৈরি করবো ইনশাহ আল্লাহ।’


 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের হেফাজতে ইসলাম ও ওলামা পরিষদের যে সিনিয়র নেতৃবৃন্দরা রয়েছে তাদের বয়সের কারনে বেশির ভাগ নেতৃবৃন্দরাই মাঠ পর্যায়ের কাজ করতে ততটা সক্ষম না। তাই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনায় উঠে আসা ও নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে নিজের পোক্ত অবস্থান সৃষ্টি করা মাওলানা ফেরদাউসুর রহমানের উপরই বেশিরভাগ সভা-জনসভার দায়িত্ব অর্পন করা হয়। জানা যায়, ফেরদাউসুর রহমান ২০১৩ সনে শাপলা চত্বরে ঘটনায় নারায়ণগঞ্জে নেতৃত্ব হিসেবে আলোচনায় আসেন। পরে তিনি বিভিন্ন নেতৃত্ব দিয়ে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটির পদে নেতৃত্বে আসেন। বর্তমানে মহানগর ওলামা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে আছেন। ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের অভিযোগ ফেরদাউস শামীম ওসমানের এজেন্ডা হিসেবেও কাজ করেন। বছর খানিক আগে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে মাঠ কাপান ফেরদাউস। তবে তাদের বক্তব্যে গরম করা মাঠ কোন কাজে আসে নাই।

 

উল্ল্যেখ এর আগে জমিয়তে উলামা ইসলাম জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির সাথে জোট হয়ে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। সর্বশেষ ২০২১ সনের ১৪ জুলাই জাতীয়তাবাদি বিএনপির জোট ছাড়ে শরিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম।

 

জমিয়তে উলামা ইসলাম বাংলাদেশ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান বলেন, জমিয়তের প্রতিটি ওয়ার্ড, ইউনিয়ন থানা ভিত্তিক কমিটি হবে। প্রত্যেক এলাকায় ছাত্র জমিয়তের কমিটি থাকবে। আমাদের এত লোকের দরকার নেই। যারা ইসলাম মহব্বত করে তাদের নিয়েই আমরা কমিটি করবো। জেলা জমিয়ত কমিটি হবে মহানগর জমিয়ত কমিটি হবে। প্রত্যেকটি এলাকায় কমিটির মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জে জমিয়তের জাগরণ সৃষ্টি করা হবে।

 

আগামী সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে কথা হচ্ছে। নির্বাচন অনেক বড় ব্যাপার। তবে মনে করিয়ে দেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে জমিয়ত নির্বাচন করেছে। এটা অস্বীকার করার সুযোগ নাই। আমরা নির্বাচন বুঝি না। আমাদের ইসলামী সংগঠন শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক সংগঠন না। আমরা সামাজিক কাজকর্ম করবো। ঈদের আগেও মানুষের সাহায্য সহযোগিতা করেছি। দেশে আজ হাহাকার। দেশে বিদ্যুৎ নেই। দেশের শৃঙ্খলা বিনষ্টের দিকে চলে যাচ্ছে। কিছু কিছু বক্তারা বলেন, দেশ শ্রীলঙ্কা হয়ে যাবে। শ্রীলঙ্কা হলে আমরাই সবার আগে ভুক্তভোগী হবো। এই দেশ শ্রীলঙ্কা হতে দেয়া যাবে না। দেশের ভবিষ্যতের জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন