Logo
Logo
×

রাজনীতি

পদ-পদবি ছাড়াই চলছে মহানগর ছাত্রলীগ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২২, ০৬:৪৮ পিএম

পদ-পদবি ছাড়াই চলছে মহানগর ছাত্রলীগ
Swapno

 

# বিলুপ্ত কমিটির অনেকেই শীর্ষ পদে আসতে আগ্রহী
# বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, চেইন অব কমান্ড থাকবেনা : সানি
# এতোদিন পরেও কেউ পদে কথা বলেনি : রিয়াদ

 

 

রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নারায়ণগঞ্জে ছাত্রলীগের মতো সংগঠন  গত ৬ মাসেও নেতৃত্ব ব্যতিত চলছে। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে মেয়াদোত্তীর্ণের কারণ দেখিয়ে ৮ জানুয়ারি মহানগর ছাত্রলীগ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। সেই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে হাবিবুর রহমান রিয়াদ সভাপতি ও হাসনাত রহমান বিন্দু সাধারণ সমআদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে সাংগঠনিক নিষ্কৃয়তার জেরেই ওই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছিল বলে মনে করা হয়। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। চলতি বছরের আগষ্টে কোন কমিটি না আসলেও সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছাত্রলীগের কমিটি যাতে দেয়া হয় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে জোর দাবি তোলা হয়েছে।


কেননা, কমিটি বিলুপ্তের পর ছাত্রলীগের চেইন অব কমান্ড, নতুন নেতৃত্ব তৈরি, সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করা সহ নানা বিষয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা সমাধানে নতুন কমিটি করার প্রয়োজনীয়তা ও আবশ্যকতার কথা বলছে খোদ ছাত্রলীগ নেতারাই। যদিও বিলুপ্ত মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান তোলারাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে এখনো দায়িত্বে রয়েছেন তবে সংগঠনের ১৬১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির সাবেক হয়ে যাওয়া ছাত্রলীগ নেতাদের ভবিষ্যত রাজনীতিতেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।২০১৮  সালের ১০ মে বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি দেয়া হয়েছিল।


 
জাতীয় নির্বাচনের আগে নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাফায়াত আলম সানি যুগের চিন্তাকে জানান, ছাত্রলীগ হচ্ছে আওয়ামীলীগের হৃদপিণ্ড, ওয়ার্কিং ফোর্স। নারায়ণগঞ্জ জেলার মতো রাজনীতির সূতিকাগারে ছাত্রলীগ ৬ মাস যাবৎ বিলুপ্ত রয়েছে সেটি আসলে কারো জন্যই কাম্য নয়।


 
ছাত্র রাজনীতিতে কমিটির প্রয়োজনীয়তার প্রসঙ্গ তুলে সানি বলেন, ছাত্রলীগে যারা নিবেদিত প্রাণ তাদের কিন্তু প্রত্যাশা থাকে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার গঠনের। পদ-পদবীর প্রত্যাশা তো থাকবেই। কিন্তু ছাত্ররাজনীতিতে যখন এই সময়টা বিলম্বিত হয় তখন তাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে হতাশা চলে আসে। তিনি নিজের উদাহরণ দিয়ে বলেন, আমি ছাত্রলীগের জেলা কমিটিতে দুট টার্ম দায়িত্ব পালনের পর আমি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছিলাম, যাতে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে নতুনদেরকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ছাত্র রাজনীতির পর যুবলীগ হয়ে মুল রাজনীতিতে প্রবেশে করলে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দুরদর্শীতাও বাড়ে।

 

কমিটি বিলুপ্ত করার পর নানামুখী সমস্যা তৈরি হয় সংগঠনে সে কথাটা স্মরণ করিয়ে দেন স্বজ্জন ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত সাফায়াত আলম সানি। তিনি বলেন, কমিটি বিহীন থাকলে ছাত্ররাজনীতির জন্য অকল্যাণকর। তখন বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়, চেইন অব কমান্ড থাকবেনা। যে যোগ্য নয় সেও নিজেকে অনেক বড় ছাত্রনেতা হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করবে।

 

এদিকে বিলুপ্ত ছাত্রলীগ কমিটির নেতাদের দাবি, কমিটি বিলুপ্ত হলেও তারা তাদের চেইন অব কমান্ড থাকবে। কমিটির একাংশের নেতারা মনে করেন, বিলুপ্ত ছাত্রলীগের কমিটিই পুনর্বহাল থাকতে পারে আবার অনেক ক্ষেত্রে যদি কমিটি দেয়াও হয় তবে আগের কমিটির অধিকাংশরাই নেতৃত্বে আসবেন। বিলুপ্ত ছাত্রলীগের মহানগর কমিটির অধিকাংশ নেতাই আওয়ামীলীগ নেতা সাংসদ শামীম ওসমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ছাত্রলীগ নেতারা বলছেন, বিলুপ্ত করার আগে ছাত্রলীগ যেভাবে পরিচালিত হয়েছে সেভাবেই বিলুপ্ত ছাত্রলীগ নেতাদের কার্যক্রম চালানোর নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতারা। গঠনতান্ত্রিক নিয়ম মেনেই ছাত্রলীগের কমিটি  দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতারা। সেই প্রক্রিয়া কবে থেকে অনুসরণ করা হবে এ ব্যাপারে মহানগর ছাত্রলীগের কমিটির শীর্ষ পদে আসতে ইচ্ছুক কিংবা বিলুপ্ত কমিটির নেতারা পরিষ্কারভাবে এখনো কিছু জানতে পারেননি। তবে বিলুপ্ত কমিটির অনেক নেতাই মহানগর ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে আসতে উদগ্রীব বলে জানিয়েছে সূত্র। এ ব্যাপারে তারা নানাভাবে নিজেদের উপস্থাপন ও দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা অব্যাহত রাখছেন বলে জানা গেছে। বিলুপ্ত ছাত্রলীগের একটা বড় অংশের দাবি, সম্মেলনের মাধ্যমেই যাতে মহানগর ছাত্রলীগের নতুন নেতৃত্ব বাঁছাই করা হয়।

 

বিলুপ্ত ছাত্রলীগের সভাপতি ও তোলারাম কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রিয়াদ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘কমিটি বিলুপ্ত করলেও ছাত্রলীগ নেতারা বসে নেই। মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হলেও মহানগরের ওয়ার্ড ছাত্রলীগের কমিটিগুলো বিলুপ্ত করা হয়নি। ১৬১ জনের মূল কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। তবে তারা সকলেই রাজনীতিতে সচল রয়েছেন। বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের ভুলত্রুটি হলে সেটি হয়তো খাতা-কলমে সংশোধন আমরা করতে পারবোনা। সেটি পারবে কেন্দ্রীয় কমিটি। রিয়াদ বলেন, আমাদের সাংসদ শামীম ওসমান ছাত্রলীগের দেখভাল করেন। আমরা নারায়ণগঞ্জে যারা ছাত্রলীগ করি তারা কেউই পদপদবির রাজনীতি করিনা। কমিটি বিলুপ্তির এতোদিন পরেও কেউ পদের কথা বলেনি, তারা সম্মান ভালোবাসার রাজনীতি করে। কমিটি আসলে সেটি গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আসবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন