# শক্তিশালী বলয় থাকায় পদ নিয়ে চলছে গবেষণা
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র দেড় বছরের মতো বাকি। হিসেব মতে আগামী বছর (২০২৩ সাল) এর শেষ দিকে কিংবা এর পরের বছরের শুরুতেই অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করার জন্য কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলকে ঢেলে সাজাতে নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে সারা বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করতে আগামী ডিসেম্বর দলটির ২২তম জাতীয় সম্মেলন হওয়ার কথাও রয়েছে। তাই জাতীয় সম্মেলনের আগে যেসব জেলা কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে সেগুলো কাউন্সিলের মাধ্যমে পুনর্গঠিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের হাই কমান্ড থেকে। তাছাড়া যেসব এলাকায় দলের মধ্যে আভ্যন্তরীণ ভুল বুঝাবুঝি আছে তা মিটিয়ে ফেলার জন্য সর্বোচ্চ হুশিয়ারী দেওয়া হয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের সূতিকাগার হিসেবে খ্যাত নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের জেলা কমিটির মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও দলীয় কোন্দল, রেষারেষি আর একাধিক বলয়ের কারণে এখনও সম্মেলনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন দলীয় একাধিক সূত্র। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন। অন্যদিকে জেলা শহরে আওয়ামী লীগের দুটি শক্তিশালী বলয় থাকায় এখানে পদ নিয়েও চলছে বিস্তর গবেষণা।
দলীয় কোন্দল, সদ্য অনুষ্ঠিত ইউপি ও সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রকাশ্য বিরোধ, এখানকার ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিটি থেকে শুরু করে উপজেলা কমিটিতেও দ্বন্দ্ব ও সমালোচনা তৈরি করারা জন্য বর্তমান কমিটির উপর ব্যাপক অভিযোগ আছে। নতুন কমিটি গঠনের নামে অর্থ বাণিজ্য, নিজেদের ক্ষমতাকে শক্তিশালী করার জন্য অন্য দলের সাথে আঁতাত করা, কিংবা হাইব্রীডদের দলে প্রবেশ করানোসহ জেলা সভাপতি ও সম্পাদকের বিরুদ্ধে দলীয় হাই কমান্ডের কাছে বিস্তর অভিযোগ আছে। সব মিলিয়ে এই সময়ের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন হবে কি না তা নিয়ে আছে অনিশ্চয়তা। তৃণমূল থেকে এই কমিটির উপর তাই কোন ভরসা-ই রাখতে পারছে না। তবে যদি কাউন্সিল হয়-ই, তাহলে যেন নতুন কমিটিতে নিজের অবস্থানটা ধরে রাখা যায় সেজন্য অনেকেই আবার লবিং করাও শুরু করে দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, এর আগে গত ২০২০ সালের মার্চ মাসের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল করার জন্য সময় বেধে দেওয়া হয়েছিল। কাউন্সিল সফল করা নিয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি’র সাথে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের পৃথক পৃথক বৈঠক হয়েছে বলে সূত্র জানায়।
সে সময় কমিটির ৩ বছর মেয়াদ পূর্ণ হয়নি এবং সকল উপজেলা কমিটিও গঠন করা হয়নি বলে কাউন্সিলের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল। সেই বৈঠকে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রমের সর্বশেষ জানতে চান মির্জা আজম। তারও আগে ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবর ৩ সদস্য বিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। সে সময় আবদুল হাইকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সিনিয়র সহসভাপতি এবং আবু হাসনাত শহিদ মো. বাদলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। এর প্রায় এক বছরের বেশি সময় পর ২০১৭ সালের ২৫ নভেম্বর ৭৪ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়। এই কমিটি গঠনের পর অনুষ্ঠিত হওয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিগুলোর কাউন্সিলের বিষয়ে রূপগঞ্জ ও আড়াইহাজার এর কমিটি ছাড়া বাকীগুলো নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে জেলা কমিটি। জেলা কমিটির নেতৃবৃন্দকে পাশ কাটিয়ে একটি নির্দিষ্ট পক্ষকে খুশি করানোর জন্য শুধু তাদের ইচ্ছে মতো সভাপতি এবং সম্পাদক কমিটি গঠন করেছে বলে বিস্তর সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের প্রথম সারি বা প্রভাশালী নেতৃবৃন্দের মধ্যে যাদের নাম আসে তারা হলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী, নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের সাংসদ পাট ও বস্ত্র মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনের সাংসদ একেএম শামীম ওসমান এবং নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনের সাংসদ নজরুল ইসলাম বাবু। এদের মধ্যে মূল শহরে সাংগঠনিকভাবে এখনও শক্তিশালী অবস্থানে আছে মেয়র আইভী এবং শামীম ওসমান। তবে অন্য দুটি আসনে (নারায়ণগঞ্জ-৩ ও ৫) জাতীয় পার্টির সাংসদ থাকায় সেসব জায়গায় এখনও শামীম ওসমানের সমর্থকদের একটি শক্তিশালী গ্রুপ আছে। তাই এখন জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি গঠনে সমর্থনের বিচারে শামীম ওসমান অনেকটাই এগিয়ে আছে বলে শামীম সমর্থকদের ধারণা।
তারপরও যেহেতু মূল সিদ্ধান্ত কেন্দ্রীয় কমিটির হাতে ন্যাস্ত এবং গত দুটি নির্বাচন (ইউপি এবং সিটি) নিয়ে জেলা কমিটির বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে নেতিবাচক ম্যাসেজ গেছে বলে আওয়ামী লীগের সচেতন মহলের বিশ্বাস। তাই শুধু সমর্থক, বলয় কিংবা লবিং নয়, ব্যক্তি ইমেজসহ সংগঠনিকভাবে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করার দিকে দলীয় হাই কমান্ড দৃষ্টি দিবেন বলে রাজনৈতিক বোদ্বাদের বিশ্বাস। কেননা, এমনিতেই দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকার কারণে নারায়ণগঞ্জের বন্দর এবং সোনারগাঁও আওয়ামী লীগের অনেকটাই দৈন্য দশা। তাই এসব এলাকার আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী ও কার্যকর করতে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন এবং সঠিক নেতা নির্ধারণে বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে না পারলে এখানকার আওয়ামী লীগ হুমকীর মুখে পড়বে বলে স্থানীয় তৃণমূলের অভিমত।এমই/জেসি


