বন্ধ্যাত্ব ঘুঁচতে যাচ্ছে মহানগর বিএনপি’র
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২২, ০৭:১৭ পিএম
# সিদ্ধিরগঞ্জকে অন্তর্ভূক্ত করেই হবে এবারের আহবায়ক কমিটি
# সাখাওয়াত-কালাম-টিপু-আশা-সেন্টুতেই ভরসা রাখতে চায় কেন্দ্র
বিশাল কর্মীবাহিনী নিয়েও অচল হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে মহানগর বিএনপি। যতোটা আশা করে ২০১৭ সালে সাবেক সাংসদ আবুল কালামকে সভাপতি ও বর্তমানে আমেরিকায় অবস্থান করা এটিএম কালামকে সাধারণ সম্পাদক করে মহানগর বিএনপির কমিটি দেয়া হয়েছিল তার কোন সুফল পায়নি দল। সিটি করপোরেশন এলাকায় বিএনপির কোন কার্যালয় না থাকায় একমাত্র মিলনস্থল হিসেবে আবুল কালামের বাসাকে কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের সুবিধা পেয়েছিল মাত্র। তবে এরপরেও কার্যক্রম চালাতে পারেনি মহানগর বিএনপি।
শুধুমাত্র নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের অধিভুক্ত এলাকাকে মহানগর বিএনপির কমিটিতে নিয়ে কমিটি গঠন করায় আদালতে মামলা ঠুকে দেন সিটি করপোরেশন এলাকার ১০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি গোলজার হোসেন। আদালত এরপর মহানগর বিএনপির কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। এরপর মহানগর বিএনপির তৎকালীন পদপ্রাপ্তরাও হতাশ হয়ে মহানগর বিএনপি গোছানোর বদৌলতে নিজেদের গুটিয়ে নিতে শুরু করেন। অভিযোগ আছে, আড়াইহাজারের এক বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম আজাদের পরামর্শে জেলা বিএনপির তৎকালীন সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মামুন মাহমুদের সহায়তায় এবং মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালাম ও সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের বদৌলতেই সিদ্ধিরগঞ্জের বিএনপিকে এই অবস্থায় ফেলা হয়। যদিও মহানগর কমিটি সিটি কর্পোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হওয়ার কারণে মহানগর কমিটিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থাকাটাই সমীচিন। বিএনপির প্রায় সকল অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠনের ক্ষেত্রেও মহানগর এলাকা সিটি করপোরেশনের ২৭টি ওয়ার্ড নিয়েই করা হয়েছে। মূলত আজাদের প্রেসক্রিপশনে গুটি কয়েক বিএনপি নেতা এই জটিলতা তৈরি করেন।
মামলার কারণে মহানগর এলাকায় বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতা বলতে গেলে একেবারেই স্থবির হয়ে পড়েন। কমিটিতে থাকা বিএনপি নেতা শওকত হাশেম শকু, মনিরুল ইসলাম সজল, মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদসহ আরো বেশ কয়েকজন ডাকসাইটের নেতা মহানগর বিএনপির কমিটি থেকে ঘোষণাবিহীনভাবেই সরিয়ে নেন। এড. আবুল কালাম, সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু, সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুলসহ বেশ কয়েক নেতার স্বকেন্দ্রীক রাজনীতির জন্য কমিটি দেয়ার পর থেকেই বিচ্ছিন্নভাবে বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সাথে বিএনপির কার্যক্রমে সচল ছিলেন মহানগর বিএনপির সহসভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান। সিদ্ধিরগঞ্জের বিএনপি নেতাদের বাদ দিয়ে মহানগর কমিটি করার যে মামলা হয়েছে এরপর থেকে আশাহত হয়ে দেশ ছাড়েন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামাল। সদ্য সমাপ্ত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে দেশে ফিরলেও দলের সমর্থন ডিঙিয়ে নির্বাচন করতে যাওয়া বিএনপি নেতা তৈমূরের পক্ষ নেয়ায় এটিএম কামাল বহিষ্কার হন। আবারও দেশ ছাড়েন তিনি। সভাপতি আবুল কালামের অসুস্থতা ও এটিএম কামালের অনুপুস্থিতিতে পুরোটা সময় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আবদুস সবুর খান সেন্টু। মহানগর বিএনপির এমন অচলাবস্থা থেকে কর্মীদের উদ্দিপ্ত করতে শীঘ্রই মহানগর বিএনপির কমিটি আসছে বলে জানায় সূত্র। সূত্র জানিয়েছে, এবার মহানগর বিএনপির কমিটি অবশ্যই আহবায়ক কমিটি হবে এবং তাতে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকাকে যুক্ত করেই কমিটি দেয়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।
সূত্র বলছে, সভাপতি হিসেবে মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানের নাম জোরেসোরে আলোচনায় রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় নেতাদের কয়েকজনের মুখে দীর্ঘদিন অসুস্থতার দরুণ রাজনীতির মাঠপর্যায় থেকে দুরে থাকা আবুল কালামের নামই প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে সাখাওয়াত হোসেন খানকেই এবার মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক তৎপরতার বাড়ানোর দায়িত্ব দিয়ে আহবায়ক করা হতে পারে। এক্ষেত্রে আবদুস সবুর খান সেন্টুকেও দায়িত্বশীল পদে আহবায়ক কমিটিতে রাখা হবে। তবে মহানগর বিএনপির একটি বড় অংশ সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে সদস্য সচিব হিসেবে প্রস্তাবনা দিলেও মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটির আরেকটি বড় অংশ নানা অভিযোগ তুলে টিপুকে এই পদে দেখতে ভেটো েিদেচ্ছন। মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব পদে আবুল কালামের অবর্তমানে তার ছেলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও কাউন্সিলর আবুল কাউছার আশার নামও প্রস্তাব করা হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে খুব দ্রুতই মহানগর বিএনপির এই আহবায়ক কমিটি ঘোষণার তোরজোর চলছে বলে জানিয়েছে সূত্র। সূত্র জানায়, সিদ্ধিগঞ্জ থানা বিএনপির বিতকির্ত আহবায়ক কমিটি এবং পরবর্তীতে কমিটি ঘোষণা নিয়ে সিদ্ধিরগঞ্জের চিটাগাংরোডে চাইনিজ রেস্টুরেন্টে মারামারির ঘটনা, মামুন মাহমুদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ এবং তার উপর হামলার ঘটনার জেরে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কমিটি গঠনের উপরে গুরুত্বারোপ করেছেন। এরফলেই সিদ্ধিরগঞ্জ থানা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করেছে কেন্দ্র। তাছাড়া দীর্ঘদিন ধরে মহানগর বিএনপির মামলা জটিলাতার দরুণ কার্যক্রম বন্ধের স্থায়ী সমাধানও চাইছে কেন্দ্র। তাই যে কোন মুহুর্ত্বেই ঘোষণা আসতে পারে মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির। এমই/জেসি


