শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাঙ্খিত উন্নয়ন প্রত্যাশা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২২, ০৯:০৭ পিএম
# নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল দুই নেতার এই নিরবতাকে সমর্থন করছেন
নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে এখন আর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডাক্তার সেলিনা হায়াৎ আইভী এবং সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান একে অপরকে আক্রমন করে কোনো বক্তব্য রাখছেন না। ফলে নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরিণ রাজনীতিতে একেবারেই থেমে গেছে উত্তাপ। লক্ষ্য করা গেছে এবারের সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে তারা একে অপরকে আক্রমন করা থেকে বিরত রয়েছেন। জানা গেছে, নির্বাচনের পরপরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেয়র আইভীকে ও শামীম ওসমানকে নির্দেশ দিয়েছেন তারা যেনো একে অপরের বিরুদ্ধে কোনো কথা না বলেন। মূলত প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশের পর থেকেই নারায়ণগঞ্জের পরিস্থিতি বদলে যায় বলে মনে করছেন এই শহরের রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল। ফলে সেই থেকে বন্ধ রয়েছে এই দুই নেতার মাঝে কাঁদা ছোড়াছোড়ি। শামীম ওসমানও এখন আর আইভীকে টার্গেট করে কিছু বলছেন না। নারায়ণগঞ্জের সচেতন মহল দুই নেতার এই নিরবতাকে সমর্থন করছেন। এ বিষয়ে অনেকে মনে করেন মেয়র আইভীর পাশে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন যারা চান না আইভী ও শামীম ওসমানের মাঝে বিরোধ মিটে যাক। তারা বিরোধ জিইয়ে রাখতে চান। এতে তাদের কি লাভ সেটা তারাই জানেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জের সাধারন মানুষ মনে করেন শামীম ওসমান ও আইভী দুইজনই জনপ্রতিনিধি। তাদের নিজ নিজ এলাকার উন্নয়নের বিরাট দায়িত্ব রয়েছে তাদের উপর। কারন তারা দুইজনই ক্ষমতাসীন দলের নেতা। তাই তাদের উচিৎ নিজেদের মাঝে কাঁদা ছোড়াছোড়ি বাদ দিয়ে জনগনের স্বার্থে কাজ করা। তারা কোনো রকম অহেতুক রাজনৈতিক উত্তাপ চান না। তারা আরো মনে করেন বিরোধে জড়িয়ে বিগত বছর শামীম ওসমান ও আইভী কারোই কোনো লাভ হয়নি। বরং দুইজনেরই ক্ষতি হয়েছে। যতো দূর জানা যায় দুইজনেই ভূগেছেন মানসিক যন্ত্রনায়। এছাড়া তারা যদি এই ধরনের বিরোধে না জরাতেন তাহলে হয়তো তারা নিজ নিজ এলাকায় আরো বেশি উন্নয়ন করতে পারতেন। তাদের এলাকায় যে সকল সমস্যা রয়েছে এই সকল সমস্যার আরো সুন্দর সমাধান করতে পারতেন। তাই সাধারন মানুষ মনে করেন এখনো এই দুই নেতার হাতে যে সময় রয়েছে তাদের উচিৎ এই সময়কে কাজে লাগানো। কারন এরই মাঝে দুই জনের যথেষ্ট বয়স হয়েছে। আর স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে কর্ম ক্ষমতা কমতে থাকে।
কেই মানুক বা না মানুক শামীম ওসমান এবং আইভী দুই জনেই রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এবং এই জেলার রাজনীতিতে তারা অভিসংবাধিত নেতা। অনেকের মতে এক সময় প্রয়াত জননেতা একেএম শামসুজ্জোহা এবং আলী আহম্মদ চুনকাকে দেশের যতো মানুষ চিনতো এখন তাদের সন্তান শামীম ওসমান আর আইভীকে তার চেয়ে বেশি মানুষ চিনে। সারা বাংলাদেশে এখন এমন কোনো মানুষ নেই যিনি নাকি শামীম ওসমান আর আইভীকে চিনেন না। তাই নারায়ণগঞ্জের সর্ব স্থরের মানুষ চান এই দুই নেতার মাঝে ঐক্য না হলেও অন্তত তাদের মাঝে যেনো কোনো বিরোধ না থাকে। তারা দুইজন যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে উপকৃত হবে তাদের এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ।এমই/জেসি


