Logo
Logo
×

রাজনীতি

না.গঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যস্ত আ’লীগ, রাজপথে বিএনপি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২২, ০৯:৫৮ পিএম

না.গঞ্জে ব্যবসা-বাণিজ্যে ব্যস্ত আ’লীগ, রাজপথে বিএনপি
Swapno

 

# আগামী বছরের শেষ সময়ে দেশে অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় নির্বাচন
# নির্বাচনকে সামনে রেখে দুই দলে দুই রকমের প্রস্তুতি

 

 

নারায়ণগঞ্জে দুই বড় দলের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের নেতারা নানা রকম ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে ব্যাস্ত থাকলেও বিএনপির নেতারা রয়েছেন রাজপথে। তাদের মতে তারা ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে ব্যাস্ত রয়েছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে আওয়ামী লীগ নেতাদের মাঝে প্রায় সকলেই নানা রকম ব্যবসা বানিজ্য নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। তাদের মাঝে এখন রাজনীতির লেশ মাত্র নেই। শুধু তাই নয় তাদের অনেকে এখন কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। অনেকেই নারায়ণগঞ্জ শহরে এবং রাজধানী ঢাকায় বহু বাড়ি গাড়ি এবং ফ্লাটের মালিক। আওয়ামী লীগ নেতারা এবং তাদের পরিবার পরিজন এখন খেয়ে পড়ে বেশ ভালো আছেন। তাই আগামী দিনে আওয়ামী লীগ যদি রাজনৈতিক ভাবে সংকটে পরে তাহলে তাদের অনেককেই খুঁজে পাওয়া যাবে না বলে মনে করেন নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক সচেতন সাধারন মানুষ।

 

নারায়ণগঞ্জে কোরাবানীর গরুর হাট থেকে শুরু করে ঝুটের ব্যবসা পর্যন্ত সব কিছুই রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ন্ত্রনে। নাম মাত্র মূল্যে এই জেলার সব খেয়া ঘাটের ইজারা, হাট ও বাজার গুলির ইজারা, কোটি কোটি টাকার টেন্ডার সহ সব কিছুই রয়েছে তাদের নিয়ন্ত্রনে। কারো কারো মতে এই জেলায় প্রতি মাসে অন্তত একশ কোটি টাকার ঝুটের নিয়ন্ত্রন রয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাদের হাতে। বিশেষ করে যারা এমপিদের কাছের লোক তারাই নিয়ন্ত্রন করছে এই মোটা অংকের টাকার ঝুটের ব্যাবসা। এছাড়া জেলা ব্যাপী জমির ব্যবসাও নিয়ন্ত্রণ করছে এই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডির ভেতর, ফতুল্লার কাশীপুর ও এনায়েতনগর ইউনিয়ন এলাকায়, নারায়ণগঞ্জ সদরের গোগনগর ইউনিয়ন এলাকায়, বন্দর, সোনারগাঁ, আড়াইহাজার ও রূপগঞ্জ থানা এলাকায় বিগত এক যুগ ধরে লাখ লাখ কোটি টাকার জমি বেঁচাকেনা হয়েছে। আর এসব জমি বেচাঁকেনার ব্যবসাটা প্রায় পূরোটাই নিয়ন্ত্রন করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। তাই তারা এখন বহু টাকার মালিক। ফলে যার যতো টাকা তার জীবনের মায়া ততো বেশি। টাকা যাদের আছে তারাই ভোগ বিলাসে মত্ত থাকেন। তাই আগামী দিনে কোনো প্রতিকুল পরিবেশ আসলে আওয়ামী লীগের এসব টাকাওয়ালা নেতারা দলের জন্য কতোখানি ভূমিকা রাখতে পারবেন সেটাই এখন দেখার বিষয়।

 

বিপরিতে বিগত প্রায় পনেরো বছর ধরে রাষ্ট্র ক্ষমতার বাহিরে বিএনপির নেতা কর্মীরা। আর এই দলের এমন কোনো নেতাকর্মী নেই যাদের নামে রাজনৈতি মামলা হয়নি। এমন অনেকে রয়েছেন যাদের বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা পঞ্চাশটির বেশি। তারপরেও ডজন ডজন মামলা নিয়ে রাজপথে রয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। তাদের মতে তারা এখন জনগনের ভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলন নিয়ে ব্যাস্ত রয়েছেন। আর এই অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না বলেই দৃঢ় মনোভাব ব্যাক্ত করছেন।

 

এদিকে আগামী বছরের শেষের দিকে দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ওই নির্বাচনে অংশ নেয়ার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা মনে করেন বিগত নির্বাচনের মতোই এবারের নির্বাচনেও তাদের দল আওয়ামী লীগ সহজেই বিজয় লাভ করবে। তাই নির্বাচন নিয়ে তারা মোটেও চিন্তিত নন। কিন্তু বিপরীতে বিএনপির নেতাকর্মীরা মনে করেন সরকার এবার কোনো মতেই বিনা ভোটে পার পাবে না। সবাই নিয়ে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যাবস্থা করতে হবে। আর তা না করলে জোরালো আন্দোলনের মাঝে সেটা আদায় করা হবে। তাই আগামী দিনে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আসলে কোন দিকে মোড় নেয় সেটা বলা যায় না। তবে রাজনৈতি পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন আগামী নির্বাচনের আগে বিএনপি সহ বিরোধী দলগুলি যদি মাঠে নামে তাহলে প্রশাসনের সমর্থন ছাড়া আন্দোলন মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না।এমই/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন