স্থবিরতা কাটাতে প্রয়োজন মহানগর বিএনপির কমিটি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৮ জুলাই ২০২২, ০৬:২৬ পিএম
# বলয় কেন্দ্রিক রাজনীতি করবেনা এমন ব্যক্তিকেই দায়িত্ব দেয়া প্রয়োজন
মহানগর কমিটি ঘোষণা দেয়ার পর নারায়ণগঞ্জ শহরে জেলা বিএনপি যতগুলো কর্মসূচি পালন করেছে তার ধারেকাছেও নেই মহানগর বিএনপি। স্বেচ্ছাচারিতা, যোগ্য নেতৃত্বের অভাব, বিশৃঙ্খলা আর বলয়ের কারণে মহানগর বিএনপির কর্মকাণ্ড তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। সভাপতি হিসেবে সাবেক সাংসদ আবুল কালামের দীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা আর সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের দীর্ঘ অনুপুস্থিতি মহানগর বিএনপিকে মাথা ছাড়া কমিটিতে পরিণত করেছে।
তাছাড়া যুগ্ম সম্পাদক নাসিক ১২নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাসেম শকুও ছিলেন একেবারে নীরব। এই আছি এই নাই নীতিতে চলা কাউন্সিলর শকুর সাপোর্ট থেকে এক প্রকার দূরেই ছিল মহানগর বিএনপি। ১৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের তৎকালীন সভাপতি মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ তো মহানগর বিএনপিতে তার অনীহা প্রকাশই করেছেন।
কমিটিতে যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে নাম আসার পরপরই নিজেকে মহানগর বিএনপির কমিটি থেকে সরিয়ে নেন। আরেক যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল ইসলাম সজল তো যুবদলের পদ পাওয়ার আসায় পদত্যাগ করেছেন মহানগর বিএনপির কমিটি থেকে। মহানগর বিএনপি যে অচল সংগঠনে পরিণত হয়েছে সেটি যেন প্রমাণই করলেন সজল।
ঠিকই মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে পদ পেয়েছেন সজল। মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আতাউর রহমান মুকুলও ধরি মাছ না ছুঁই পানি এমন নীতি অবলম্বন করেছেন। একসময় জাতীয় পার্টির সাথে সখ্যতার অভিযোগ উঠেছিল তার উপর। বন্দর উপজেলা চেয়ারম্যানের পদ যাওয়ার পর থেকে আতাউর রহমান মুকুল এক প্রকার স্তিমিত অবস্থাতেই রয়েছেন।
মহানগর বিএনপির কমিটি দেয়ার পর শুরু থেকেই অজানা কারণে মহানগর বিএনপির সহসভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খানকে পাশ কাটিয়ে চলছিলেন মহানগরের নেতারা। কমিটির সভাপতি আবুল কালাম নিজ বাড়িতে নেতাকর্মীদের বসার স্থান দেয়া ছাড়া সাংগঠনিক আর কোন দায়িত্ব পালন করতে পারেননি। মহানগর বিএনপির কর্মসূচি পালনে ধীর গতির কারণেই অপেক্ষাকৃত বেশি সচল অঙ্গসংগঠনের সাথেই লাগাতার কর্মসূচি পালনকেই সমুচিত বলে
মনে করেছেন সাখাওয়াত। আদতে তার ধারণাই সঠিক হয়েছে। অঙ্গসংগঠনগুলো যে ধরণের কর্মসূচি পালন করেছে মহানগর বিএনপি তার ধারে কাছেও ছিলনা। গত কয়েক বছরে হাতে গোনা সাত আটজন ব্যক্তি নিয়ে কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে হাসির খোরাকে পরিণত হয় মহানগর বিএনপি। এতোটুকুও কেবল সম্ভবপর হয়েছে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আবদুস সবুর খান সেন্টুর কল্যাণে।
পাশ থেকে কোনক্রমে সাপোর্ট যোগানোর চেষ্টা করেছেন সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল আল ইউসুফ খান টিপু। মহানগর বিএনপির ফখরুল ইসলাম মজনু, জাকির হোসেনসহ সহসভাপতির বিশাল তালিকা শুধু মাঝে মাঝে হাজিরা দেয়ার কাজে এসেছে।
সাংগঠনিক তৎপরতায় তেমন কোন ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি। এছাড়া বিশাল ১৫১ সদস্যের বেশি যে তালিকা দেয়া হয়েছিলো তাদেরকে মুখ দেখাতেও আসতে দেখা যায়নি। যদিও অভিযোগ উঠে মহানগর এলাকায় থেকেও সিদ্ধিরগঞ্জের নেতাদের জেলা কমিটির দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছিল। এই অভিযোগে মামলার দরুণ মহানগর বিএনপি আদতে কাগুজে সংগঠনে পরিণত হয়।
সূত্র বলছে, মহানগর বিএনপি মূল সংগঠন হলেও এখন মহানগর বিএনপির ভগ্নাংশ দেখে মহানগর বিএনপির দায়িত্ব নিতে বেশিরভাগ নেতাই আগ্রহী নয়। বিশাল কর্মযজ্ঞ আর গুরু দায়িত্ব নেয়ার মতো নেতা আছে হাতে গোনা। কিন্তু বলয় ভিত্তিক রাজনীতি আর বিএনপি নেতা আড়াইহাজারের নজরুল ইসলাম আজাদের আগ্রাসী ভূমিকার কারণে মহানগর কিংবা জেলার কোন কমিটিই স্বস্তিতে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারবে কি না এটাই দুঃশ্চিতার বিষয়। অবশ্য বিএনপি নেতাকর্মীরা হুট করে মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি আসার কথা শুনে নড়েচড়ে বসেছেন। তারা বলছেন আজাদের অযাচিত হস্তক্ষেপ আর বলয় কেন্দ্রিক রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠতে পারবে এমন নেতাদের হাতে দায়িত্ব দিলে আবারও ঘুুরে দাঁড়াতে পারবে মহানগর বিএনপি। নেতাকর্মীদের মতামত বিশ্লেষণ করলে, তৈমূর কিংবা খোরশেদ পরিবার মুখী আগ্রহী হতে অনীহা অধিকাংশ নেতাকর্মীদের। নতুন এবং দক্ষ ও পরীক্ষিত নেতাদের হাতে মহানগর বিএনপির দায়িত্ব দিলে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভবপর হবে বলে মনে করেন তারা। মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি হলে ২০১৬ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে স্বচ্ছ ইমেজের জন্য প্রশংসিত হওয়া এড. সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এমনকি দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আবদুস সবুর সেন্টুকেও তালিকার শীর্ষে দেখতে চায় তৃণমূল। এর সাথে বর্তমান সভাপতি আবুল কালামের ছেলে স্বেচ্ছাসেবক ও মহানগর বিএনপি নেতা আবুল কাউছার আশা, আবু আল ইউসুফ খান টিপু কিংবা অভিমানে দূরে থাকা বিএনপি নেতাদের আহবায়ক কমিটিতে পদায়ন করলে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে মহানগর বিএনপি এমন অভিমত তৃণমূলের। জাতীয় নির্বাচনের আগে মহানগর বিএনপিকে ঘুরে দাঁড়াতে এখনই আহবায়ক কমিটি দেয়ার বিকল্প নেই বলে মানছেন খোদ বিএনপি নেতাকর্মীরাই।


