নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি জুয়েল হোসেন বলেছেন, এই বন্দর পবিত্র স্থান কদম রসূল এলাকার মানুষকে আমি পবিত্র মনে করি। যেখানকার মানুষকে সারা বাংলাদেশ মানুষ চিনেন ও জানেন। এখানে অনেক বার এসেছি, অনেক বার বক্তব্যে রেখেছি। অনেকে বলে থাকি মানুষ টাকা কাছে হেরে যায়। আমি বিশ্বাস করি টাকা কাছে আমরা কখনো হারি নাই। মহান আল্লাহ বলেছেন, যে ব্যক্তি মাঝে তিনটি গুন আছে, তার মাঝে আমি পাশে থাকি ও সহযোগিতা করি।
একটা হলো বড় গুন হলো, যারা মসজিদের সাথে সম্পর্ক আছে। যিনি কখনো মিথ্যা কথা বলেন না। যিনি অপচয় করেন না, সে সব ব্যক্তি পিছনে আল্লাহ পাক থাকেন। আমরা সেসব স্বেচ্ছাসেবকলীগ, আমরা সেসব স্বেচ্ছাবেলীগের নেতৃত্বে দিচ্ছি। অনেকে মনে দুঃখ আছে, অনেকে মনে কষ্ট আছে। দুঃখ-কষ্ট থাকাটা স্বাভাবিক। ১৯৯৩ সালে যখন রাজনীতি করি তখন এই এলাকার সন্তান বাদশা মামা ছিলেন। তিনি আমার গোলাম সারোয়ার মামা বন্ধু। তখন এত আওয়ামীলীগার ছিলো না, এত আওয়ামীলীগার নেতৃত্বে ছিলো না। তখন আমরা সবাই বিরোধী দলের হিসেবে রাজনীতিতে ছিলাম। ছাত্র রাজনীতিতে যখন স্লোগান দিয়ে ছিলাম- ‘তুমি কে আমি কে বাঙালী বাঙালী, তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা মেঘনা যমুনা। লাইলাহা ইল্লাল্লাহ শেখ হাসিনার মালিক তুমি আল্লাহ। শামীম ওসমানের নেতৃত্বে আমরা আছি এক সাথে’।
সে সময় থেকে আজ ২০২২, প্রায় ২৯ বছর যাবৎ রাজনীতি করে যাচ্ছি। আমি একটি বাগান তৈরি করেছি- সে বাগানের নাম নারায়ণগঞ্জ মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগ। আমি ২৭টি ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে একটি বাগান তৈরি করেছি। সেই বাগানের কথা বলতে গেলে, ১ থেকে ২৭টি ওয়ার্ডের নেতৃবৃন্দর কাছে একটি অনুষ্ঠানে ক্ষমা চেয়েছিলাম যখন আমি মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি হয়ে ছিলাম। কারণ, আমি তাদেরকে পদ পদবি দিতে পারি নাই। এই পদ পদবি দিতে গিয়ে বাধাগ্রস্থ হয়ে ছিলাম, আঘাতও পেয়ে ছিলাম। তখন মুখ ভেঙ্গে কিছু বলেনি, কারণ আমি বিশ্বাস করি, সত্যের পথে আছি, সহি পথে আছি। আমার মনে প্রাণে সব সময় চোখে ভেসে উঠে আমার মৃত্যু, সেই মৃত্যু আমি সব চোখে আনি। যার চোখে সামনে মৃত্যু আসে, সে কখনো মিথ্যা কথা বলতে পারে না। যার মৃত্যু চিন্তা আসে, সে কখনো কোনো মানুষকে ক্ষতি করতে পারে না। আমরা সেই স্বেচ্ছাসেবকলীগ। আমার প্রয়াত নেতা মৃত্যুর ৭দিন আগে ফোন দিয়ে ছিলেন। তখন আমাকে তিনি বলে ছিলেন- জুয়েল তোমার মনটা কি খারাপ। জুয়েল তুমি পরিস্থিতি শিকার। প্রতিউত্তরে আমি তাকে বলেছিলাম, লিডার- আপনি আমাকে ফোন দিয়েন-আমার কাছে খুব ভালো লাগছে।
আপনাদের মত নেতা মানববতা ফেরিওয়ালা, যারা জনগণের মুখে হাসি ফুটাতে চায়, যারা জনগনের জন্য কাজ করতে চায়, যারা সংগঠনকে সু-সংগঠিত করতে চায়, জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে চায়, বাংলাদেশ পাড়া মহল্লা প্রতিটি অলিগলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমি বললাম- লিডার, আপনার কিছু করতে হবে বা কিছু দরকার আছে। তোমার এলাকার দেউলি এলাকায় আমার এক পছন্দের লোক আছে। তার জন্য তোমাকে কিছু করতে হবে। হাদিসে মহান আল্লাহ স্পর্ষ্ট বলেছেন, ধনী গরিব হবে-গরিব ধনী হবে। বড় লোক যখন গরীব হয়ে যায়, তখন কিন্তু তারা কারো কাছে হাত পাততে পারে না। তখন লিডার-কে বললাম, কি করতে হবে বলেন? তিনি আমাকে বলেন, তোমার কাছে আমি অনুরোধ করলাম। তার জন্য তুমি কিছু ব্যবস্থা করে দিবো। তাকে যখন আমার অফিসে আসতে বলেছিলাম। ওই দেউলি ভদ্রলোকটি এসেছিলেন, তিনি গোলাম সারোয়ার সাথে স্মরণী কথা তুলে ছিলেন। এই তো আমাদের গোলাম সারোয়ার। যিনি মৃত্যু এতদিন পরও মানুষ তার ভালো কথাগুলো তুলে ধরে। তারা শামীম ওসমানের পিছনের রাজনীতি করে গেছেন। আমরা তো শামীম ওসমানের ওয়ারিশ।এমই/জেসি


