‘ত্বকী হত্যা নিয়ে দোষারোপ না করে বিএনপি-জামাত বললেও সমস্যা ছিলনা’
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২২, ০৭:৫৯ পিএম
ত্বকী হত্যাকাণ্ড নারায়ণগঞ্জ তো বটেই, দেশ বিদেশে ব্যাপক চ্যাঞ্চল্য তৈরি হয়। ২০১৩ সালের ৮ মার্চ ত্বকীর মরদেহ উদ্ধারের পর নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী ওসমান পরিবারকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য সরাসরি দোষারোপ করা হয়। শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান ও শামীম ওসমানের ভাতিজা আজমেরী ওসমানকে এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী করেন নিহত ত্বকীর বাবা সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রফিউর রাব্বি।
এরপর র্যাবের খসড়া চার্জশীট, দুই আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়। তবে সময় যত গড়িয়েছে এই হত্যামামলার বিচারেও নানাদিকে প্রবাহিত হয়েছে বলে অভিযোগ রফিউর রাব্বির। গতকাল নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানকে চ্যানেল আইয়ের এক মেট্রোসেম টু দ্যা পয়েন্ট রাজনীতির আয়-ব্যয় অনুষ্ঠানে চ্যানেল আই টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সোমা ইসলাম ত্বকী হত্যা প্রসঙ্গ তোলেন।
সোমা প্রশ্ন করেন , ত্বকী হত্যা নতুন মোড় নিয়ে নতুন করে জজ মিয়া নাটক তৈরী হয়েছে কি না। নাকি ষড়যন্ত্রের ফাঁদ ছিল। এতো দিন পর এসে বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী জানিয়েছেন কেন। তার জবাবে শামীম ওসমান বলেন, নারায়ণগঞ্জে যখন সাত খুন হয় তখনও একই খেলা হয়েছিল। আর এই খেলার জন্য লোক আছে সরকারের ভিতর কিছু লোক এবং দলের ভিতর কিছু মোশতাক রয়েছে। তারা আমাকে এমনিভাবে কাবু করতে না পেরে অন্যভাবে কাবু করে। রোববার রাতে চ্যানেল আইয়ের এক মেট্রোসেম টু দ্যা পয়েন্ট রাজনীতির আয়-ব্যয় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় চ্যানেল আই টেলিভিশনের বিশেষ প্রতিনিধি সোমা ইসলাম পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ বলে সকল খেলা আপনি খেলে থাকেন। সেই খেলাটা কি? তখন এমপি শামীম ওসমান বলেন, ত্বকী একজন বাচ্চা ছেলে। ত্বকীকে যখন হত্যা করা হয় তখন কিন্তু কেউ আমাদের নাম বলে নাই। তাকে আমরা কেউ চিনিও না। ১৭ দিন পর আমার দলের একজন বলে উঠল এটা শামীম ওসমান ও তার ছেলের কাজ। একই কথা বার বার বলা শুরু করলো।
তারা যদি আমাকে বিএনপি-জামাত বলত তাতেও কোন সমস্যা ছিলনা। আমরা জানি এজহারের পরে আর কিছু হয় না। একজন নারী নেত্রী আছে যিনি নারায়ণগঞ্জের মেয়র তিনি বলেন এটা শামীম ওসমান করেছে। একাধিকবার এই কথা বলেন তিনি। এরপর বলা হলো মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি করেছে। এমনকি আমার ছেলেসহ আমি নিজে থেকে করেছি। আমি তাকে ছোট বোন বলি। ত্বকীর পিতা একটা অবগতিপত্র দিয়েছে।
শামীম ওসমান বলেন, যখন আমাকে এবং আমার ছেলের নাম তোলা হলো তখন আমি তার কয়েক দিন পর সংবাদ সম্মেলন করে বলি ত্বকীকে হত্যার দিন আমরা দেশের বাইরে দুবাই ছিলাম। ওই সংবাদ সম্মেলনে আমি আমার পাসপোর্ট পর্যন্ত শো করি। সংবাদ সম্মেলন করে আমি চুপ হয়ে গেলাম। তার তিন মাস পরে বলা হলো আমার বড় ভাই নাসিম ওসমানের ছেলের বাসায় হত্যা হয়েছে।
এই ঘটনায় একটা ছেলে লিটন ১৬৪ জবানবন্দি দিয়ে বলেছে সে নিজে এটার সাথে অংশগ্রহণ করেছে, লাশ বস্তায় ভরেছে। তার চার মাস পরে আরেকটি ছেলে নিখোঁজ সে বলল এই হত্যা নাসিম ওসমানের ছেলে আজমেরী ওসমানের বাসায় হয়েছে। এটা নিয়ে অনেক নাটক হলো। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছবি আসলো। দেখলাম রক্ত মাখা প্যান্ট, কিন্তু ত্বকীর লাশ যখন উঠানো হলো তখন তার পরনে প্যান্ট ছিল, পকেটে মোবাইল ছিল, তার পায়ে স্যান্ডেল ছিল। সব কিছু ঠিকটাক ছিল। তাহলে রক্ত মাখার নাটকটা করল কে? এদিকে নারায়ণগঞ্জে ত্বকী হত্যার নতুন মোড় নিয়ে ব্যপক আলোচনা সমালোচনা তৈরী হয়েছে।এসএম/জেসি


