বড় আপার ছেলে জয় নাকি ছোট আপার ছেলে ববি কে নেতা হবে, প্রশ্ন রবির?
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২২, ১০:৪৯ পিএম
# বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্ব ফিক্সড হয়ে গিয়েছে
# আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব কে দিবেন??
নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম রবি বলেছেন, তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে তত্তাবধায়ক সরকার, নিরপেক্ষ সরকার যতদিন পর্যন্ত আমাদের মাঝে উপস্থিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত বিএনপি নেতাকর্মীরা ঘরে ফিরে যাবে না। তারা এই হাসিনা সরকারকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দিয়ে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে, তার পরেই বাড়ি ফিরে যাবে।
আজ থেকে এই সরকার ও হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু। আজ থেকে প্রতিদিন মিছিল হবে প্রতিদিন সংগ্রাম হবে, প্রতিদিন মিটিং হবে। এবারের সংগ্রাম হাসিনার বিদায় সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম হাসিনা উৎখাতের সংগ্রাম। মঙ্গলবার (২ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, একটি নিউজ খুব বেশি ঘুরে বেড়াচ্ছে, গত দু’দিন এটা টক অফ দা টাউন, সেটা হলো ‘মা নেতা না ছেলে নেতা’। তবে এটা একটা রাজনৈতিক বক্তব্য আমি এটাকে সেভাবে নেই না। তবে একটি কথা আপনাদের সামাজিকভাবে আমি বলি, ভাইয়ে ভাইয়ে বিভাজন হয়, বোনে বোনে বিভাজন হয়, সন্তান পুত্রের মধ্যেও কোন কোন সময় বিভাজন হয়ে যায়।
তবে মা এমন একটি জিনিস যার সাথে বিভাজনের প্রয়োজন হয় না। মা হলো সর্বশেষ্ঠ। সকল সন্তানই মায়ের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। অতএব আপনাদেরকে জানিয়ে দিতে চাই। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্ব ফিক্সড হয়ে গিয়েছে। আমাদের নেতা হলো বিএনপি চেয়ারপারসন আমাদের মা বেগম খালেদা জিয়া। উনি যখন থাকবেন না তখন আমাদের প্রিয় নেতা আগামী রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান এই দলের নেতৃত্ব দিবেন।
শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমার যে বন্ধু প্রশ্ন করেছেন তার কাছে আমি একটি প্রশ্ন রাখলাম যে, আপনাদের দলের সভানেত্রী যখন আর দল চালাতে পারবে না। তখন এই দলের নেতা কে হবে। বড় আপার ছেলে জয়, নাকি ছোট আপা ছেলে ববি। কে নেতা হবে? আপনি আগামীর যেকোনো সময় এই প্রশ্নের জবাব দিয়ে দিবেন, তাহলেই আমরা খুশি হয়ে যাব।
তিনি আরও বলেন, আজকে আমাদের নেতৃবৃন্দ পুলিশ সদস্যদের নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। কিন্তু আমি একটি ছোট্ট কথা এখানে বলতে চাই। আপনারা দেখেছেন সেদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তার সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশনে সংলাপের গিয়েছিলেন।
সেখানে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দাবি উত্থাপন করেছেন নির্বাচন কমিশনারের কাছে। যারা বিএনপি আমলে চাকুরি পেয়েছে পুলিশ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা। তাদেরকে আগামী নির্বাচনে কোনো কাজে লাগতে পারবে না। তিনি দেশে বিভাজন সৃষ্টি করছেন।
তারা কি বলে স্বাধীনতাবিরোধী? স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি? বিএনপি-জামায়াত? সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছিল এই দেশটাকে। এবার আমাদের সুশৃংখল বাহিনী, পুলিশ সেনাবাহিনী এবং প্রশাসনের কর্মকর্তারা, যারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। যারা নিষ্ঠার সাথে দেশের জন্য কাজ করতে চায় তাদের মধ্যে বিভাজন করে দিল এই আওয়ামী লীগ।
কারণ বিএনপির আমলে কার চাকুরি হয়েছে এবং আওয়ামী লীগ আমলে কার চাকরি হয়েছে একথা বললে একটি নিয়মিত বাহিনীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা হতেই পারে। আমরা এটার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। বিএনপি নেতা রবি বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা প্রজাতন্ত্রের কাজ করবে। সেখানে কে, কোন আমলে, কোন চাকুরি পেয়েছে সেই বিভাজন টানার কিছু আছে বলে আমরা মনে করি না।
বিএনপির এই নেতা বলেন, আমরাতো বক্তব্য দেবো রাজনীতির কারণেই। যত ব্যাথা, মৃত্যু, বেদনা, গুম, খুন, নির্যাতন সবকিছু মাথায় রেখেই আমাদের কর্মীরা জনতার সাথে বুক চেতিয়ে দাঁড়িয়ে যায়। বুকের রক্ত দেওয়ার জন্য। আজকে রহিম দিয়েছে, কালকে আপনি দিবেন আমি দেবো।
তিনি বলেন, অত্যন্ত দুঃখ ও ব্যথিত মন নিয়ে আজকে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে আমরা দাঁড়িয়েছি। আপনারা জানেন, যেদিন আমরা এখানে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলাম। ঠিক তখনই ভোলাতে পুলিশের গুলিতে আমাদের একজন প্রিয় সহযোদ্ধা, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম শহীদ হয়েছেন।
এই সভা থেকে আমরা আব্দুর রহিমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। আমাদের ভোলা জেলার ছাত্রদলের সভাপতি যিনি আইসিইউ’তে আছেন। তিনিসহ প্রায় ৫০ জন এখন হাসপাতাল আছেন, যারা এখন মৃত্যুশয্যায়। আমি তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।
রবি বলেন, আমার প্রিয় সাংবাদিক ভাইয়েরা প্রায় রাতেই ফোন করে আমাকে প্রশ্ন করে, যে ভাই সংগ্রাম আন্দোলন কবে হবে? ঈদের আগে না ঈদের পরে, কোরবানির আগে না কোরবানির পরে, বর্ষাকালে না শীতকালে। আপনাদের প্রশ্নের জবাবটা দেওয়ার জন্যই আজকে এখানে উপস্থিত হয়েছি।
সেটা হলো আমাদের নেতা তারেক রহমান নির্দেশ দিয়ে দিয়েছেন। ভোলাতে শহীদ রহিমের রক্ত এই বাংলার জমিনে পড়েছে। এই রক্তের দাগ মুছে ফেলা যাবে না, সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে যাবে। আজ থেকে এখন থেকে সব দিন সব সময় হাটে-বাজারে ও ঘাটে, শহরে-বন্দরে বিএনপি নেতারা আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। আজ থেকে আন্দোলন শুরু হয়ে গেলো।
এসময় প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান, মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেন, মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু আল ইউসুফ খান টিপু, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনিসহ নারায়ণগঞ্জ মহানগর ও জেলা বিএনপি, তাঁতী দল, শ্রমিক দল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদলের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীবৃন্দ। জেসি / এন.এইচ


