Logo
Logo
×

রাজনীতি

গিয়াসউদ্দিন-শামীম ওসমান ট্রাম্পকার্ড

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২২, ০৭:৪১ পিএম

গিয়াসউদ্দিন-শামীম ওসমান ট্রাম্পকার্ড
Swapno



# সময়ের দাবি নারায়ণগঞ্জের সিটির আওতায় ফতুল্লাকে নেয়া

# সুষ্ঠু নির্বাচন হলে তিনি জামানত হারাবেন



নারায়ণগঞ্জে আওয়ামীলীগ-বিএনপি দুই দলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ দুই রাজনীতিক বর্তমান সাংসদ শামীম ওসমান ও সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। মজার বিষয় হচ্ছে, দুইজনেই যে সংসদীয় আসনে নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছে সেই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনটিও সারাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করে। একসময় আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে দুইজনই থাকলেও সময়ের পালাবদলে দল পরিবর্তন করেও মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন প্রমাণ করেছেন দুজনের মধ্যে তিনিই সেরা। 

 

 

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাটকীয়ভাবে আওয়ামীলীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগ দিয়ে এই শামীম ওসমানের বিরুদ্ধেই জয়ী হয়েছিলেন মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। মাঠ পর্যায়ের রাজনীতিতেও শামীম ওসমানের চেয়ে মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনের অভিজ্ঞতাও ঢের বেশি। ছাত্র রাজনীতির মাধ্যমে দুজনের হাতে খড়ি হলেও গিয়াসউদ্দিন ইউপি চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাছাড়া সারাদেশের উপজেলা চেয়ারম্যানদের মহাসচিবও নির্বাচিত হয়েছেন। 

 

 

অন্যদিকে শামীম ওসমানের এই আসনে ব্যাপক গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঢের বাকি থাকলেও এখনই রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতৃবৃন্দের মধ্যে ঘর ঘোছানোর তোরজোর লক্ষ্য করা যাচ্ছে। রাজনীতির এই খুঁটিনাটি নিয়ে যুগের চিন্তার সাথে গল্পে সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিনকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল। আওয়ামীলীগের প্রার্থী যদি শামীম ওসমান হয় তবে বিএনপির মনোনয়ন পেলে তার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে সহজেই জিতবেন বলে আশাবাদী সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন।

 


বিএনপির নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন যুগের চিন্তাকে বলেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ২০০১ সালে যখন শামীম ওসমান আমার সাথে প্রতিপক্ষ হয়ে নির্বাচন করে সেটি জনগণের ভোটে নির্বাচন ছিল। সেখানে সে বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমার কাছে হেরে যায়, আমি বিজয় লাভ করি। এরপরে যে নির্বাচন হল আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী চিত্রনায়িকা সারাহ বেগম কবরী নির্বাচিত হলেন, তখন বর্তমান সাংসদ নির্বাচন করতে পারেনি। 

 

 

এরপরে দুটি নির্বাচনের নামে যে প্রহসন হল এই নির্বাচনে সে তো জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়, জনগণ তাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেনি। কাজেই শামীম ওসমান ইলেকটেড নন, সিলেকটেড একজন। তার এই নির্বাচনী এলকাতে জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নাই। সে তার ইচ্ছামত কাজ করছে। জনগণ চায় সুষ্ঠু ধারার রাজনীতি, একটা ভালো মানুষের নেতৃত্ব। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের নেতা নির্বাচিত করতে। গণতান্ত্রিক ধারায় নির্বাচিত ব্যক্তির মাধ্যমেই তারা এলাকার সমাধান চায়।

 



সাবেক সাংসদ গিয়াসউদ্দিন মনে করেন, যেহেতু এখনকার সাংসদ জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নন, কাজেই এলাকার সার্বিক উন্নয়নের বিষয়টি তার কাছে গুরুত্ব বহন করেনা। গুরুত্ববহন করে তার ব্যক্তিগত চিন্তাভাবনা, ব্যক্তিগত কার্যক্রম। যেমন তার দলের মধ্যে সে একদিকে আর অন্যান্য নেতৃবৃন্দ আরেকদিকে। এখানে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সিটি করপোরেশনে যিনি রয়েছেন তার সাথেও তার সম্পর্কের ঘাঁটতি। 

 

 

সিটি করপোরেশন এলাকাতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা। মেয়রের কারণে সিটি করপোরেশন এলাকায় উন্নয়ন যথেষ্ট পরিমাণে হয়েছে এটা অস্বীকার করা যাবেনা। কিন্তু সিদ্ধিরগঞ্জের পাশাপাশি যদি ফতুল্লা থানার তুলনা করা হয় উনার নির্বাচনী এলাকা সেখানে কাঙ্খিত উন্নয়ন তো দূরের কথা এই যে ডিএনডির জলাবদ্ধতা, রাস্তাঘাটের দুরাবস্থা এটা দৃশ্যমান। 

 

 

এখানে কোন ধরণের উন্নয়নের ছোঁয়া তিনি বসাতে পারে নাই। যা কিছু আগের উন্নয়ন হয়েছিল এসময়ে বরং তা বিনষ্ট হয়ে গেছে। উনি যে হাজার হাজার কোটি টাকার উন্নয়নের কথা বলে বেড়ান তা আমি যেমন দেখিনা, জনগণও তা দেখেনা। জনগণের কাছে আমি যখন যাই তখন জনগণ আক্ষেপ করে রাস্তাঘাটের দুরাবস্থা, জলাবদ্ধতা দেখায়। 

 

 

আর সাথে সাথে বলে, নারায়ণগঞ্জ, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ কত উন্নত হয়ে গেছে একটা মেঠোপথ পর্যন্ত রাস্তা, ঘাট, কালভার্ট সব হয়ে গেছে, আমাদের হয়নি। এখন সময়ের দাবি নারায়ণগঞ্জের সিটির আওতায় ফতুল্লাকে নেয়া। কাঙ্খিত উন্নয়ন তখনই পাবে মানুষ যখন গ্রামীণ জীবনব্যবস্থা থেকে নগরায়নের জীবনযাপনের দিকে মানুষ যেতে পারবে। ইউনিয়ন, পৌরসভার থেকে আরেকধাপ উপরে সিটি করপোরেশন সেখানে যেতে পারলে অল্প সময়ের মধ্যে উন্নয়ন হওয়া সম্ভব। আমি যতদূর জানি সিটি করপোরেশনে যাতে ফতুল্লা না যায় সেজন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

 



নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী হলে কেমন পার্থক্য হতে পারে এমন প্রশ্নে সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, একটি উদাহরণ দিয়ে যদি বলি, ২০১৮ সালে যে নির্বাচন হল সেখানে বিএনপির প্রার্থী ছিল জোটের অন্তর্ভুক্ত মনির হোসেইন কাশেমী। তিনি এলাকায় ইতিপূর্বে রাজনীতিও করে নাই, পরিচিতিও ছিলনা। তারপরেও উনি প্রার্থী হওয়ার পর আওয়ামীলীগের প্রার্থী পাগল হয়ে গিয়েছিল।  কাশেমীর সাথে নির্বাচন করে বিজয়ী হবে সেই চিন্তাও সে করতে পারেনি। 

 

 

নির্বাচনের সে সময় কাশেমীকে এই এলাকা থেকে বিতাড়িত করা হয়েছিল ভয়-ভীতি, আক্রমণ করে। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে সামান্য কিছু ভোট গ্রহণের এক দেড় ঘন্টায় যেই ভোট কাশেমী সাহেব পেয়েছিলেন সুষ্ঠু হলে সেখানে বর্তমান সাংসদ জামানত হারাতেন। জনগণ এতোটাই অতিষ্ঠ হয়ে আছে যদি শুধু নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করার সুযোগ পায় তবে কী হবে নির্বাচন এটা আমি বলে বোঝাতে পারবোনা। ঘটনা ঘটলে সারা দেশ অবাক বিস্মিত হয়ে যাবে।

 


মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার ভীতি থেকেই ২০০৮ সাল থেকে আমার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা, আমার সন্তানদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া, আমাকে ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা। এগুলোর উদ্দেশ্য আমাকে তারা শক্ত প্রতিপক্ষ ভাবে বলেই অন্যায়ভাবে এগুলো করা হচ্ছে আমাকে দমিয়ে রাখার জন্য। এতো সত্ত্বেও আমাকে জনগণ থেকে বিচ্চিন্ন করতে পারছেনা, দল থেকে হটিয়ে দিতে পারছেনা।

 

 

ইনশাআল্লাহ এটা পারেনি, পারবেও না। আমি ছাত্রজীবন থেকেই জনগণের সাথে ছিলাম। সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়নের দুই দুইবারের চেয়ারম্যান, সদর উপজেলা যেটি তিনটি থানা, সিদ্ধিরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ এবং ফতুল্লা নিয়ে গঠিত সেখানে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছি। সারাদেশের চেয়ারম্যানদের সংগঠনের মহাসচিব ও চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই। এ কারণে আমাকে শক্ত প্রতিপক্ষ মনে করেই আমি এবং আমার পরিবারকে নানাভাবে হয়রানির চেষ্টা করেছে। আমরা জনগণের সাথেই আছি, থাকবো। এন.এইচ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন