Logo
Logo
×

রাজনীতি

শামীম ওসমানের বক্তব্যকে বিএনপি নেতাদের ড্যামকেয়ার

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৭ আগস্ট ২০২২, ০৮:৪১ পিএম

শামীম ওসমানের বক্তব্যকে বিএনপি নেতাদের ড্যামকেয়ার
Swapno


 
# সরকারের এমপি-মন্ত্রীরা কি বলে নিজেরাও জানেন না: সাখওয়াত
 # মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি, তার অবস্থা সেই রকম : মামুন

 

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জের অনেকেই লন্ডনে থাকা নেতার কথায় নাচতাছেন। যারা নাচুইন্না বুড়ি তাদের বলি, নাইচা যদি গর্তে ঢুকেন তাহলে আমাদের বিচ্ছু বাহিনী কিন্তু ঠিকই হাত দিয়ে বের করে নিয়ে আসবে। এবার আগুন দিবেন মানুষ পুড়িয়ে মারবেন সেটা আর হবে না। এবার যদি আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনাও বলেন যে শান্ত হও তাও হবো না। একই সভায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নিজের মা মরে অথচ তিনি আসে না, আর বিএনপি নেতা কর্মীদের জন্য আসবে কোন দুঃখে।

 

যার মায়ের প্রতি দরদ নাই তার আবার দেশের প্রতি কিসের দরদ? তুই আইতে না পারলে না আস সমস্যা নাই। ছেলের বউ এত বড় ডাক্তার মা অসুস্থ চিকিৎসার জন্য আসে না। আচ্ছা বুঝলাম বউ বোধহয় স্বামীকে ভালোবাসেনা। আচ্ছা নাতনী তো আছে। সে তো আসতে পারতো। সেও আসেনি। আহারে খালেদা জিয়ার জন্য আমার বড় মায়া লাগে। খুবই কষ্ট লাগে। তাই বলি তার কথায় অনেকেই নাচানাচি করে লাভ হবে না।


এদিকে শামীম ওসমানের এই বক্তব্যকে স্ট্যান্টবাজি মনে করছেন বিএনপি নেতারা। আবার কেউ কেউ বলছেন তিনি এখন এই সকল কথা বলে তাদের নেত্রী নজর কাড়তে চান। কিন্তু  ক্ষমতাসীন দলের এই সাংসদের বক্তব্যকে কোন পাত্তা দিচ্ছে না নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতারা। ক্ষমতাসীন দলের এমপিদের আগামীতে ক্ষমতায় টিকে থাকতে কঠিন হয়ে যাবে তা তারা এখন থেকেই বুঝতে পারছে তাই তারা এখন আবল তাবোল বলতাছে। বিএনপির একাধিক নেতা জানান, ইতোমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের এমপি মন্ত্রীরা তাদের বক্তব্যে তারা কি বলে নিজেরাও জানেন না।

 

প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন তাল মাতাল হারিয়ে উল্টা পাল্টা বক্তব্য দিছে শোক দিবসে গিয়ে। তিনি তাদের নেতা বঙ্গবন্ধুকে যেন জাহান্নামের সবচেয়ে ভালো জায়গায় স্থান পায় এই কামনা করে দোয়া করেন। আরেক মন্ত্রী বলেছেন দেশের মানুষ বেহেশতে আছে। তাও আবার পররাষ্টমন্ত্রী আব্দুল মোমেন এই ধরনের কথা বলেন। তাদের এই বক্তব্য এখন হাসি তামাশায় পরিনত হয়েছে। শামীম ওসমান হয়ত তার দলের মন্ত্রী এমপিদের সেই কথা ভূলে গেছেন। তাই তিনিও এখন কি বলবেন নিজেও জানেন না। তবে শামীম ওসমানের এই বক্তব্যকে কোন পাত্তা দিচ্ছে না। বিএনপি নেতারা । কেননা তিনি যা বলে তা করে দেখাতে পারে না।  


রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলেও শামীম ওসমানের এই বক্তব্য নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। তাকে সেই সাথে নেতা কর্মীরা তাকে ধিক্কার জানাচ্ছে। কেননা যখন ২০০১ সনে বিএনপি ক্ষসতায় আসে তখন শামীম ওসমান বোরকা পরে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানান বিএনপির একাধিক নেতা। তখন থেকে তার সম্পর্কে রাজনৈতিক মহল ভালে ভাবে জানেন। আগামীতে তাদের এই অবস্থায় হয় কি না তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন সচেতন মহল।


নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ জানান, শামীম ওসমানের এই ধরনের বক্তব্য একধরনের স্ট্যান্ডবাজি ছাড়া আর কিছু না। বাংলা প্রবাদে একটি কথা আছে মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। তার অবস্থা তাই হয়েছে। কেননা তারা জানেন জাতীয়তাবাদী বিএনপি র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসলে গনতন্ত্রপুনরুদ্ধার হবে।

 

আর এই সাংসদ ভালো করে জানেন তিনি দেশে আসলে তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। তাই তারা ষড়যন্ত্র করে তাকে দেশে আসতে দিতেছেনা। তারেক রহমানের পাসপোর্ট নবায়ন আটকে রেখে তাকে ভিসা দিচ্ছেনা। সেই সাথে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে দূরে রেখেছে। যেন তিনি দেশে আসতে না পারে। সরকার নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনে দিলে তারা ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। মানুষ তাদের আর চায় না।


 
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ক্ষমতাসীন দলের এমপি মন্ত্রীরা এখন কি বলে তা নিজেরাও বলতে পারে না। তাদের এক মন্ত্রী বলে তাদের নেতা বঙ্গবন্ধুকে যেন জাহান্নামের সবচেয়ে ভালো জায়গায় স্থান পায়, আরেক মন্ত্রী বলে দেশের মানুষ বেহেশতে আছে।

 

তাদের আজগুবি কথা শুনে মানুষ এখন সরকার দলীয় এমপি মন্ত্রীদের বক্তব্য নিয়ে হাসি তামাশা করে। সেই জায়গায় শামীম ওসমান বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে কি বললো তাতে মানুষ কর্ণপাত করে না। তাদের নিজেদের গদি রক্ষা নিয়ে তারা এখন চিন্তা পড়ে আছে। পারলে এই সরকার পদত্যাগ করে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিক তখন দেখা যাবে তারা কতক্ষণ টিকে থাকতে পারে।


জেলা বিএনপির ভারপ্রাপÍ আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি জানান, তিনি যেহেতু একটা সভায় এই কথা বলেছে আমরাও আমাদের আরেকটি সভার মাধ্যমে তার এই কথার জবাব দিবো।এসএম/জেসি 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন