Logo
Logo
×

রাজনীতি

আবদুল হাইয়ে জাতীয় পার্টিতে ক্ষোভ

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২২, ০৩:০৯ পিএম

আবদুল হাইয়ে জাতীয় পার্টিতে ক্ষোভ
Swapno

 

# তার মুখে এমন মন্তব্য মানায় না : দুলাল

# আ’লীগ জাতীয় পার্টির উপর ভর করে ক্ষমতায় এসেছে : ইকবাল

# বন্দরে তাকালেই জাপার জনপ্রিয়তা প্রমাণ পাওয়া যায় : আফজাল

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই তার বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টি নিয়ে মন্তব্য করায় ক্ষোভ ঝেড়েছে জাপা নেতারা। বঙ্গবন্ধুর ৪৭ তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভপতি আবদুল হাই বলেছেন, জাতীয় পার্টি আমাদের ভোট দিয়ে পাশ করে। 

 


আমরা না থাকলে দুই শতাংশ ভোটও তারা পাবে না। জাতীয় পার্টির ভোট কোথায়? নেত্রী দয়া করে জোটের খাতিরে তাদের দেয়। আমরা আজ লাঙলের ভারে জর্জরিত, লাঙলের জোয়াল আর বইতে চাই না; এই দাবীটা এবার আমরা নেত্রীর কাছে জানাবো।

 

এদিকে আবদুল হাইয়ের বক্তব্য নিয়ে নিন্দার ঝড় তুলেছে নারায়লগঞ্জ জেলা মহানগর জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দ। সেই সাথে তারা দাবী তুলেছে তিনি যেন তার এই মন্তব্য প্রত্যাহার করেন। জাতীয় পার্টির একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, জাতীয় পার্টির ভোট পার্সেন্টিজ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতির বক্তব্য দায়িত্ব জ্ঞানহীন ও  শিশুসুলভ। তিনি একজন প্রবীণ রাজনীবিদ হয়ে কি করে এই ধরনের মন্তব্য করেন তা বোধগম্য নয়।   

 

 

অপরদিকে রাজনৈতিক মহলে ক্ষমদতাসীন দলের জেলা সভাপতি আব্দুল হাইয়ের বক্তব্য নিয়ে ব্যপক সমালোচনা তৈরী হয়েছে। একই সাথে সচেতন রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল প্রশ্ন তুলেন তার মত ব্যক্তি মুখে এই ধরনের মন্তব্য কি করে করতে পারেন? কেননা তিনি ভালো করে জানেন আশির দশকে জাতীয় পার্টি তাদের জনপ্রিয়তায় বারবার ক্ষমতায় এসেছে। 

 


তখন আওয়ামীলীগ বিএনপির চেয়ে জাতীয় পার্টি শক্তিশালী দল ছিল। তিনি তা ভুলে গেছেন। সেই সাথে ক্ষমতাসীন দল ২০০৮ সনের নির্বাচনের আগে জাতীয় পার্টির সাথে মহাজোট গঠন করে ক্ষমতায় আসে। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির নেতাদের মতে এখানেও তাদের ব্যপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। 

 


 
জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তার বিষয়টি তুলে ধরতে গিয়ে তারা বলেন, বন্দর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের ভোটের চিত্র যদি পর্যবেক্ষণ করা হয়, তাহলেই জনগণের নিকট আমাদের গ্রহণযোগ্যতার বিষয়ে সম্যক ধারণা পাওয়া যায়। এখানে ৫টি ইউনিয়নের মাঝে ৪টিতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। পাশাপাশি নাসিক ২৪নং ওয়ার্ডের বারবার নির্বাচিত কাউন্সিলর। 

 


এছাড়া নারায়গঞ্জের-৩ ও নারায়গঞ্জের-৫ আসন থেকে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী বার বার এমপি নির্বাচিত হয়েছে। তারা ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে। তাই সচেতন মহল মনে করেন, আবদুল হাই  মুরুব্বী হয়ে যে মিথ্যাচার করেছে তা নিন্দনীয়। কেননা এখানে জাতীয় পার্টির ব্যাপক ভোট রয়েছে।  

 


জেলা জাতীয় পার্টির একাধিক নেতা জানান, তিনি বলেছেন লাঙলের জোয়াল কাঁধে আর আমরা বইতে চাই না। আমরা তাকে মনে করিয়ে দিতে চাই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে, জামাত শিবির ও বিএনপির অরাজকতা থেকে দেশকে রক্ষা কল্পে ও দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের বিচক্ষণ নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির মধ্যে যে ঐক্য ২০০৬ সাল থেকে শুরু হয়েছিলো তার ফল জাতি আজ পাচ্ছে। 

 


এই ঐক্যের ফলে ২০০৬ সালে ইয়াজউদ্দিনের একতরফা নির্বাচন প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়। ২০০৮, ২০১৪ ও ২০১৮ এর নির্বাচনে আওয়ামী জোট বিপুল ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে আজ রাষ্ট্র ক্ষমতায় সুদূর অবস্থান করে নিয়েছে। নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মুদাছিরুল হক দুলাল জানান, ‌‘নারায়ণগঞ্জের  ২টি আসন থেকে জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙল মার্কা প্রতীক নিয়ে দু্ইজন ব্যক্তি জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছে। মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে তাদের ভোট প্রদান করেছে। 

 


জনপ্রিয় এই দুইজন জনপ্রতিনিধি হলেন, নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ)  আসন থেকে লিয়াকত হোসেন খোকা এবং অপর আরেকজন জনপ্রিয় জনপ্রতিনিধি হলেন, জেলার সদর বন্দর  নারয়নগঞ্জ-৫ আসন থেকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত সেলিম ওসমান। সেই সাথে বন্দর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মাঝে ৪টিতেই জাতীয় পার্টির মনোনীত চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে। এতেই প্রমান করে নারায়ণগঞ্জে জাতীয় পার্টির ভোট আছে কি নাই। 

 


মহানগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফজাল হোসেন জানান, ‘জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তার মুখে এই ধরনের মন্তব্য মানায় না; কেননা জাতীয় পার্টির নতুন কোন দল নয়, এ দলের ঐতিহ্য আছে। সেই আশির দশকে টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থেকেছে জাতীয় পার্টি।’

 


‘নারায়ণগঞ্জ জাতীয় পার্টির জনপ্রিয়তা আছে না নেই তা বন্দর উপজেলায় তাকালেই প্রমান পাওয়া যায়। যা আমার বলা লাগে না। বন্দর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান সানাউল্লা সানু জনগনের ভোটে নির্বাচিত। সেই সাথে এই উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মাঝে ৪টি তেই আওয়ামীলীগের নৌকার প্রার্থীকে হারিয়ে লাঙলের প্রার্থী ভোটের মাধমে নির্বাচিত হন।’

 


‘তাছাড়া সবচেয়ে বড় কথা হলো আমি নাসিক ২৪নং ওয়ার্ড থেকে মানুষের ভালোবাসায় ভোটের মাধ্যমে তিন বার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছি। তার আগে আমাদেয়র প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমান লাঙল প্রতীক নিয়ে ৫ আসন থেকে বার বার এমপি নির্বাচিত হয়েছে। বর্তমানে সেলিম ওসমানও লাঙল প্রতীক নিয়ে ২ বার সংসদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। তাহলে আব্দুল হাই সাব কি করে বলে জাতীয় পার্টির দুই তৃতীয়াংশ ভোট নেই। আমি তার এই বক্তব্যের নিন্দা জানাই। সেই সাথে তিনি যেন সত্য কথা বলেন, তার প্রতি আহবান জানাই ‘

 


নারায়ণগঞ্জ জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম ইকবাল বলেন, ‘জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই যা বলেছে এটা তার ব্যক্তিগত মতামত। তার এই মন্তব্যের জন্য আমি নিন্দা জানাই। তার মাথা হয়ত ঠিক নেই তাই তিনি এমন ধরনের মন্তব্য করেছে। জাতীয় পার্টি নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশে ৩শ’ আসনে প্রার্থী দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন