# কুতুবপুরে নেতাকর্মীদের দুরঅবস্থা দেখে ক্ষমা চাইলেন শওকত চেয়ারম্যান
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা কুতুবপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৭ তম শাহাদাৎ বার্ষিকি উপলক্ষে কুতুবপুর ইউনিয়ন ৪,৫ও ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দের আয়োজনে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম সাইফুল্লাহ বাদল ও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ এম শওকত আলীর সামনেই কুতুবপুর আওয়ামী লীগের দুরঅবস্থা তুলে ধরেন।
শনিবার কুতুবপুর শাহী মহল্লা এলাকায় শোকের আয়োজনে নেতাকর্মী দীর্ঘদিন পর সিনিয়র নেতাদের কাছে পেয়ে তাদের ক্ষোপ প্রকাশ করেন। দীর্ঘ দিন কুতুবপুরে কমিটি না হওয়া ত্যাগীদের অবমূল্যায়ন এবং হাইব্রিডদের দখল সহ নানান অভিযোগ তুলে ধরেন কুতুবপুরের নেতাকর্মীরা।
এসময় কুতুবপুর ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মীর হোসেন মীরু বলেন, নারায়ণঞ্জের মধ্যে যে কোন প্রগ্রামে কুতুবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা ব্যাপক ভূমিকা পালন করে থাকে। তবে আমাদেরকে মূল্যায়ন করা হয় না এমনকি আমাদের নাম টা পর্যন্ত বলা হয় না খুব কস্ট লাগে নিজেদের অর্থ ব্যয় করে দলের স্বার্থে প্রত্যেকটি প্রগ্রামে শত শত নেতাকর্মী নিয়ে উপস্থিত থাকি। তাই সিনিয়র নেতাদের বলবো আপনারা এই বিষয়টা গুরুত্ত্বের সাথে দেখবেন।
এ সময় কুতুবপুর ইউনিয়ন ৪,৫ ও ৬ নং আওয়ামী লীগের সভাপতি সালাউদ্দিন ভূইয়া বলেন,আমরা ২০০৩ সাল থেকে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে কাজ করছি।তবে বেশ কয়েক বছর যাবৎ কুতুবপুর আওয়ামী লীগে বিশৃঙ্খলা হয়ে আছে কিছু হাইব্রিডদের কারণে তাই সিনিয়র নেতাদের কাছে বলবো এই সকল হাইব্রিডদের যদি দমন না করেন তাহলে কুতুবপুরে প্রকৃত আওয়ামী লীগ আর খুজে পাবেন না।আমরা যে ২৭ তারিখ আন্দোলনে নামবো বিএনপি ওলারা যে পায়তারা করতেছে আমরা কি বিএনপির হাতে মাইর খাবো না আওয়ামী লীগের হাতে মাইর খাবো এটার দিক নির্দেশনা দিয়ে যান।
এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের অন্যতম সদস্য এম ও এফ খোকন বলেন,কুতুবপুরে ৪,৫ও ৬ নং ওয়ার্ডে অনেক গরীব দুখি আছে তাদেরকে সব সময় সাহায্য করার চেষ্টা করি যতটুকু পারি তবে আপনাদের ও অনুরোধ করবো আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই এলাকার মানুষের পাশে থাকা উচিত। সামনে নির্বাচন আমি সিনিয়র নেতাদের বলবো এই এলাকায় অনেক ত্যাগী আওয়ামী লীগ নেতা রয়েছে আপনারা অতিদ্রুত সময়ের মধ্যে যদি কমিটিটা দেন তাহলে কুতুবপুর আওয়ামী লীগ উজ্জীবিত হবে এবং সাংসদ নির্বাচনের আগে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারবে।
এসময় কুতুবপুর ইউনিয়ন ৪,৫ ও ৬ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলাউদ্দিন হাওলাদার বলেন, কুতুবপুর ২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এই আয়োজন করেছি সবার সাথে আলোচনা করে ব্যানারে নাম দিয়েছি কারো নাম বাদ দেই নাই তারপও তারা আসেনাই।এতো বছর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় কোন বিএনপি বলতে পারবে না কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করেছি।
এই শাহী বাজারে বসে অনেক বিএনপি নেতা শামীম ওসমানকে নিয়ে উলটা পাল্টা কথা লেখে এই দেশে অনেকেই আওয়ামী লীগ করে যেদিন শামীম ওসমান নারায়ণগঞ্জ থাকবেনা আওয়ামী লীগ করার মতো লোক থাকবেনা। শামীম ওসমান হুংকার দিলে এই নারায়ণগঞ্জের আনাচে কানাচে সব কাপে। সামনের নির্বাচনে কুতুবপুরে ত্যাগী নেতাদের প্রয়োজন হবে কোন হাইব্রিড না।
উক্ত অনুষ্ঠানে কুতুবপুর নেতাকর্মীদের কথা শুনে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম শওকত আলী বলেন, আজকে এই শোক সভায় এসে নেতাকর্মীদের দুর্দশার কথা শুনে নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছে আপনাদের ঠিক খেয়াল এবং খোঁজ নিতে পারি না তাই আপনাদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।
কুতুবপুরে যারাই আছেন সব সময় ভালো নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। আপনারা বিগত দিনেও এ কে এম শামীম ওসমানকে বিজয়ী করতে ব্যাপক ভূমিকা পালন করেছিলেন। তাই কুতুবপুর নেতাকর্মীদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আপনাদের এই কুতুবপুরকে নিয়ে আমরা বসবো আমাদের নেতা শামীম ওসমানের সাথে কার কি কস্ট সব কিছু সমাধান করা হবেই আমি চেষ্টা করছি ২৭ তারিখ সমাবেশের আগেই সকল ত্যাগী নেতাকর্মীদের নিয়ে বসবো।এসএম/জেসি


