Logo
Logo
×

রাজনীতি

একদিকে দুর্বার আন্দোলন অপরদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২২, ০৩:১৩ পিএম

একদিকে দুর্বার আন্দোলন অপরদিকে নির্বাচনের প্রস্তুতি
Swapno

 

# এমপি-মন্ত্রীরা আবোল-তাবোল বলছে : মামুন

# ভেদাভেদ ভুলে আন্দোলন ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে : সাখাওয়াত

# বিএনপি নির্বাচনের মাধ্যমে পরিবর্তনে বিশ্বাসী : রবি

 
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার শর্তে বেশ কিছু দফা তুলে ধরেছে বিএনপি। তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকার। দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না- বলে আপাতত এমন বার্তাই দেওয়া হয়েছে দলটির পক্ষ থেকে। এসব দাবির পেছনে যৌক্তিক কারণও তুলে ধরা হয়েছে। 

 


সরকার এসব দাবি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ না নিলে সরকার হঠানোর এক দফা আন্দোলনে যাওয়ার চিন্তা করছে দলটির হাইকমান্ড। পাশাপাশি আন্দোলন এবং নির্বাচনে দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সমর্থন আদায়ে আগাম কিছু প্রতিশ্রুতিও দিয়ে মাঠে নামছে বিএনপি। ইতোমধ্যে বিএনপির আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। 

 


তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ২২ আগষ্ট থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন ইস্যুতে নানা দাবী নিয়ে এরও আগে মাঠে নেমে প্রতিবাদ সভা, সমাবেশ করেছে; এবার সেই আন্দোলন আরো জোরালোভাবে করার জন্য মাঠে নামছে বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি)।

 


এদিকে দলীয় সূত্রে জানা যায়, গণবিরোধী আওয়ামী সরকার কর্তৃক জ্বালানি তেল, পরিবহন ভাড়া সহ সকল দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ঘোষণা অনুযায়ী উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন, এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে জনগণকে নিয়ে সরকার হঠাও আন্দোলনে নামছে বিএনপি। তবে ক্ষমতাসীন দলের নেতারা মনে করে বিএনপি আন্দোলনের পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে। রাজনৈতিক বোদ্ধামহলও তাদের সাথে একমত পোষণ করেন। 

 


কিন্তু বিএনপির হাই কমান্ড জানান তারা এই সরকারের আমলে নির্বাচনে যাবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছে। তবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপি’র অংশ গ্রহণ করতে কোন বাধা নেই।

 


অন্যদিকে প্রাথমিক দফা ও প্রতিশ্রুতি যোজন-বিয়োজন করে তা চূড়ান্ত করার হিসেব নিকেশ কষছেন বিএনপি। আপাতত নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারসহ বেশ কিছু দফা জাতির সামনে তুলে ধরার পক্ষে হাইকমান্ড। আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। এতে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে। বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য।

 


এদিকে নারায়ণগঞ্জের গত কয়েক মাস যাবৎ জেলা মহানগর বিএনপি সভা সমাবেশ করে নেতা কর্মীদের জাগিয়ে তুলছে। পাশা পাশি কমিটি গঠনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব তৈরী করছে। অপরদিকে ক্ষমতাসীন দলও তাদের কোন ভাবে ছাড় দিতে নারাজ। সেই সাথে পিছিয়ে নেই জেলা মহানগর জাতীয় পার্টির কার্যক্রমও। তারাও বিভিন্ন ইস্যূতে মাঠে নামছেন। 

 


কিন্তু সচেতন রাজনৈতিক মহলের মতে বিএনপিকে দমানোর জন্য নারায়ণগঞ্জ শহর বিভিন্ন সভা সমাবেশে গরম বক্তব্য দিয়ে নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত করছে এমপি শামীম ওসমান। ইতোমধ্যে ১৫ আগষ্ট শোক দিবস উপলক্ষে ফতুল্লা, বন্দর, সিদ্ধিরগঞ্জ অর্ধ শতাধিক সভা করেছে। তার বক্তব্যে নেতা কর্মীরাও মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। 

 


নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি বলেন, ‘ক্ষমতাসীন দলের নেতৃবৃন্দ চেইন অব কমান্ড হারিয়ে বেসমাল হয়ে গেছে। সেই সাথে তারা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছে। তারা মাঠে ময়দানে গরম বক্তব্য দিয়ে তাদের কর্মীদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করছে। আমরা এতে কিছু মনে করি না। তবে আমরাও ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কর্মীদের চাঙ্গা করার পাশা পাশি মানুষের দাবী নিয়ে মাঠে ময়দানে নেমেছি। 

 

 

ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন থানা এবং পৌরসভা পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ করেছি। তবে এই সরকারের এখন নড়ে বড়ে অবস্থা তা তারা বুঝতে পেরেছে। আর বিএনপি নির্বাচনেরে মাধ্যমে রাষ্ট্রয়ী ক্ষমতায় পরিবর্তনে বিশ্বাসী। আর সেই নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে।’

 


নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘আমরা গত কয়েক মাস যাবৎ মানুষের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন প্রতিবাদ সভা, সমাবেশ করেছি। সেই সাথে সংগঠনকেও গোছানোর জন্য কাজ করছি। ক্ষমতাসীন দলের এমপি মন্ত্রীরা দিশেহারা হয়ে এখন আবোল তাবোল বলছে।

 

 

কেননা তারা জানে আগামীতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তারা এখন হুমকি ধমকি দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। কিন্তু তাদের শেষ রক্ষা হবে না; জনগনের কাছে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে হবে।’ 

 


নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘সরকারবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করতে তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপি থেকে যে কর্মসূচি দেয়া হয়েছে তা পালন করতে হবে। জনগনকে সাথে নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজপথে আন্দোলন সংংগ্রাম গড়ে তুলতে হবে।

 


এই স্বৈরাচারী সরকারের পতন ঘটিয়ে একটি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে। তাই সকলকে পুরানো সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সরকার হঠানোর জন্য যা যা করা দরকার তাই করতে হবে।’ এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন