বিএনপি’র প্রস্তুতিম্যাচ; শামীম ওসমানের খেলা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২২, ০১:১০ পিএম
# প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ হচ্ছে, খেলা হবে : সাখাওয়াত
# কোন খেলা খেলতে চান; তা ক্লিয়ার করেন নাই : রাজীব
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান আগামী ২৭ আগষ্ট সমাবেশের ডাক দিয়েছেন। এই সমাবশেকে সফল করার জন্য ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, শহর, বন্দর সহ বিভিন্ন এলাকায় কর্মী সভা করেছে এই প্রভাবশালী নেতা। প্রতিটি সভায় তিনি বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, ‘এখানেও ষড়যন্ত্র হয়, খেলা হয়। যারা খেলছেন, এত দিন চুপ ছিলাম। ধৈর্য্যরে একটা সীমা আছে; সামাল দিয়ে চলেন।
রাজপথ দখল করবেন করেন; আমাদের সাথে খেলবেন আসেন দেখি আপনারা কত বড় খেলোয়াড় । আমরা বসে আছি তোমাদের সাথে খেলার জন্য। রাজাকারের সন্তানদের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের খেলা হবে। সে খেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানরাই জিতবে।’
বিএনপিকে চায়ের দাওয়াত দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে শামীম ওসমান বলেন, ‘কেন তাদের চায়ের দাওয়াত দেন? যারা আপনাকে হত্যার চেষ্টা করেছিল তাদের আপনি চায়ের দাওয়াত দিতে পারেন না। কী ঠেকা পড়েছে আমাদের যে গণতন্ত্রের চর্চা করতে হবে। আমাদের ঠেকা পড়েনি গণতন্ত্র চর্চা করার। যারা দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র বানাতে চায় তাদের কেন চায়ের দাওয়াত দিচ্ছেন?’
শামীম ওসমানের এই কথার জবাব দিতে গিয়ে বিএনপি নেতা রাজীব বলেন, ‘আপনি একটি কথা বার বার বলছেন, তা হলো খেলা হবে, খেলা হবে। আমরা এই খেলায় বিশ্বাসী না; রাজনীতি মানে কোনো খেলা না। রাজনীতি মানে মানুষের উপরে দায়িত্ববোধ। আপনি আপনার সমস্ত কিছু ত্যাগ করে নিজেকে অন্যের জন্য বিলিয়ে দেয়ার নাম রাজনীতি।
রাজনীতি কোনো ফুটবল খেলার ম্যাচ না। কিন্তু আপনি কোন খেলা খেলতে চান তা ক্লিয়ার করেন নাই। আপনারা বিএনপি নেতাদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে খেলছেন এটাও এক ধরনের খেলা।’
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘আপনারা জানেন যখন খেলা শুরু হয় তখন মূল খেলা শুরুর আগে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সারাদেশের প্রতিটি থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে বিএনপি‘র।
এভাবে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সারা দেশে শুরু হবে এক দফার আন্দোলন। সেই এক দফার আন্দোলন হবে এই সরকার পতনের আন্দোলন। এ আন্দোলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে এই সরকারকে হটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা, দেশের মানুষের ভাতের অধিকার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।’
এই নেতা জানান, আমাদের সরকারি দলের নারায়ণগঞ্জের দায়িত্বশীল নেতাদের উদ্দেশ্য করে বলতে চাই, ‘আপনারাতো জনপ্রতিনিধি নন, আপনারাতো জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন নাই। তাই আপনারা জনগণের পক্ষে কথা না বলে জনগণের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।
আওয়ামী লীগের উচিত ছিলো দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদ করা কিন্তু তারাতো মিডনাইট ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন তাই তারা জনগণের মুখাপেক্ষী না; জনগণকে পরোয়াও করেনা। তাই আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই এদেশের জনগণ আপনাদের ক্ষমতা থেকে টেনে হিচড়ে নামাবে আর সেদিন বেশি দূরে নয়। আপনারা পালানোর পথ খুঁজে পাবেন না।’
ক্ষমতাসীন দলের এমপির বক্তব্য এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নেতাদের বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলের মাঝে আলোচনা তৈরী হয়েছে। সেই সাথে দুই দলের নেতাদের পাল্টা পাল্টি বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতি উত্তপ্ত হচ্ছে। ক্ষমতাসীন দল চায়; বিএনপি নেতাদের সাথে খেলতে, অপর দিকে বিএনপি নেতারা বলছে ইতোমধ্যে তারা প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা শুরু করেছে।
দেশ নিয়ে, দেশের মানুষ নিয়ে, দেশের সম্ভাবনাময় আগামী দিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে, আগামী প্রজন্মকে নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের এ আবার কোন খেলা শুরুর ইঙ্গিত তা সময়ই বলে দিবে, বলে মনে করেন সমাজ সচেতন নাগরিক সমাজ। এন.এইচ/জেসি


