Logo
Logo
×

রাজনীতি

জাতীয় পার্টির মধ্যেই আওয়ামী লীগ  

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২২, ০৭:৩১ পিএম

জাতীয় পার্টির মধ্যেই আওয়ামী লীগ  
Swapno

 

# মূল বিষয়টা হলো একই বাসায় দুই দল : আনোয়ার হোসেন
# ওসমান পরিবার আ’লীগেরও পরিবার, জাতীয় পার্টিরও পরিবার : আরজু ভূইয়া

 

জাতীয় নির্বাচনের সময় রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনী ফলাফলের সুবিদা আদায়ে জোট গঠন করে থাকে। তেমনি ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় নির্বাচনে জাতীয় পার্টিকে জোটভূক্ত করে মহাজোট গঠন করে আওয়ামী লীগ। যার ফলে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনের ২টি আসন ছেড়ে দিতে হয় জাতীয় পার্টিকে। আর সেই থেকে পর পর তিনবার নারায়ণগঞ্জ-৫ ও নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হচ্ছেন জাতীয় পার্টি থেকে।

 

ফলে আওয়ামী লীগের সূতিকাগার খ্যাত এই নারায়ণগঞ্জে দলটির অন্যতম দূর্গ হিসেবে পরিচিত দুটি আসন এখন অনেকটাই জাতীয় পার্টির কাছে হার স্বীকার করছে। এই এলাকা দুটিতে আওয়ামী লীগ তার গৌরব ও অস্তিত্ব সংকটে পড়ে জাতীয় পার্টির মধ্যে নিজেদের খুঁজছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতৃবৃন্দ। প্রভাব ও রাজনৈতিক ফায়দা লাভের উদ্দেশ্যে সৃষ্ট দ্বন্দ্ব, কোন্দল ও বিভক্তিতে দিশেহারা নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগ এখন অনেকটাই নীতি নিধারকহীন হয়ে পড়েছে।

 

আওয়ামী লীগের খাঁটি প্রেমিক, যারা অনেক মারধর ও জেলা নির্যাতনের শিকার হয়েও পথভ্রষ্ট হননি তাদের অভিযোগ, এখানকার জাতীয় পার্টি প্রীতি এবং নিজেদের মধ্যে দোষারোপের রাজনীতিতে অনেকটাই কোনঠাসা আওয়ামী লীগ। গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলে একেবারেই স্পষ্ট হয়ে যায়।

 

অনেকে আবার মনে করেন এখন আওয়ামী লীগের নেতা বলে যাদের বেশি ঢাক-ঢোল পেটাতে দেখা যায়, যারা আওয়ামী লীগের বড় বড় পদ নিয়ে বসে আছেন তাদের পরিচয় খোঁজতে হলে এখন জাতীয় পার্টির মধ্যেই খোঁজ করতে হয়। দলীয় বিভক্তি এবং কোন্দলের বিষয়টি এখন নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের জাদরেল সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের মুখেও বেড়িয়ে এসেছে। দলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সবাইকে একই প্লাটফর্মে আনার জন্য মাঠে নেমেছেন তিনি।


 
মূল শহরের রাজনীতিতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এর মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান এর মধ্যকার দ্বন্দ্ব’র বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে বেশি। তবে শহরের বাইরে বিশেষ করে বন্দর ও সোনারগাঁ উপজেলায় একাধিক বিভক্তি দেখা যায়। গত ইউপি নির্বাচনে এসব বিভক্তি ব্যাপকভাবে চোখে পড়ে।

 

এসব এলাকার তৃণমূলের আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের এই বিষয়টি নিয়ে বিশেষ করে ঐতিহ্যবাহী এই দলটির অস্তিত্ব টিকিয়ে স্বার্থে হলেও আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী নেতৃবৃন্দের প্রতি হাইকমান্ড থেকে শক্ত হাতে নিয়ন্ত্রণের আবেদন জানান। এসব এলাকার আওয়ামী লীগের সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে শক্তিশালী এবং সত্যিকার অর্থে আওয়ামীপ্রেমী নীতিনির্ধারক নিযুক্ত করতে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডকে ঐকবদ্ধ হওয়ার আহবান জানান সচেতন মহল।


 
এই বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জানান, আমাদের দলের মধ্যে বিভক্তি আছে। আওয়ামী লীগের কিছু আছে জাতীয় পার্টি ঘেষা, কিছু আছে খাঁটি আওয়ামী লীগ। যারা খাঁটি আওয়ামী লীগ তারাতো তাদের কাছে প্রশ্রয় পায় না। তাদেরকে তোয়াজ করতে পারে না। তারা তাই সেরকম কোন সুযোগ সুবিধাও পায় না। আওয়ামী লীগের হয়ে যারা তোয়াজ করে, তারা সুযোগ সুবিধা পায়। আজকে আওয়ামী লীগ যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারতো তাহলে জাতীয় পার্টি এমন অবস্থান তৈরি করতে পারতো না। এখানে মূল বিষয়টা হলো একই বাসায় দুই দল।

 

আওয়ামী লীগের মিছিলেও জাতীয় পার্টি যায়, আবার জাতীয় পার্টির মিছিলেও আওয়ামী লীগ যায়। এসব এলাকায় এখন এই অবস্থাই চলছে। এ কারণেই আমাদের প্রকৃত কর্মীরা কিছুটা হাতাশাগ্রস্ত। তারা কোন সহযোগিতা পায় না। কারণ দল ক্ষমতায় থাকলে কিছুটা সুযোগ সুবিধা সবাই চায়। এখন এমপি ভিত্তিক সবকিছুই চলছে।

 

এমপির কাছে সুযোগ সুবিধা থাকে, এমপির কথা প্রশাসনও শুনে। যারা এমপি ভক্ত তারা সেই সহযোগিতা পায় যারা এমপি ভক্ত না তারা সে সহযোগিতা পায় না। কিছু জাতীয় পার্টি ঘেষা আওয়ামী লীগ, কিছু এমপি ঘেষা আওয়ামী লীগ আবার কিছু খাঁটি আওয়ামী লীগ। খাঁটি আওয়ামী লীগ যারা করে তারা তাদের আদর্শ নীতির কারণে সেদিকে ঘেষতে পারে না। তারা সুযোগ সুবিধা পায় না, নিগৃহীত হয়, মারধর খায়, পুলিশও তাদের কিছু করে না কারণ এমপির ভয় পায়। জাতীয় পার্টির ভিতরই আওয়ামী লীগ।


 
জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আরজু রহমান ভূইয়া বলেন, আওয়ামী লীগের অন্তর্দ্বন্দ্ব বলতে আমরা যা দেখতেছি এখানে ওসমান পরিবার আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টি দুইটি দলই করে। শামীম ওসমানের সাথে বরাবরই মেয়রদের সাথে বৈরি সম্পর্ক আছে, এটা চলছেই।

 

রাজনৈতিক বিবেচনায় নির্বাচন কালীন সময়ের জন্য ভাল ফলাফলের জন্য জোট করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কয়েকটি আসন ছেড়ে দিতে হয়েছে। তাই এসব এলাকায় জাতীয় পার্টি একটি অবস্থান তৈরি করে ফেলেছে। যেহেতু ওসমান পরিবার আওয়ামী লীগেরও পরিবার, আবার জাতীয় পার্টিরও পরিবার, তাই স্বাভাবিকভাবেই বন্দরে আওয়ামী লীগের অবস্থা শক্তিশালী হবে না। সেখানে ওসমান পরিবার লীগ যেটা আছে সেটাই চলবে।

 

রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নাই, সবাই শেখ হাসিনার (আওয়ামী লীগ প্রধান ও প্রধানমন্ত্রী) আওয়ামী লীগই করে। মেয়রও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ করে আবার শামীম ওসমানও শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ করে। এখানে দ্বন্দ্বটা হলো রাজনৈতিক প্রভাব। সারা বাংলাদেশে যা নাই, নারায়ণগঞ্জে তা আছে।
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন