দুইযুগ পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন
ইফতি মাহমুদ
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২২, ০৮:২০ পিএম
# নেত্রী দায়িত্ব দিলে দলকে সুসংগঠিত করে তৃণমূলকে শক্তিশালী করব : কায়সার
# সোনারগাঁয়ে নৌকার প্রার্থী চাই এটাই আমার মূল লক্ষ্য : শামসুল ইসলাম
কেন্দ্রীয় নির্দেশেনা মোতাবেক দীর্ঘ ২৫ বছর পর সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটির এক জরুরী সভায় আগামী ৩ সেপ্টেম্বর সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন হবে এই খবর পেয়েই সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসবের আমেজ।
বুধবার (২৪ শে আগষ্ট) সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে উপজেলা আহবায়ক কমিটির এক জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। আগামী ৩ সেপ্টেম্বর রোজ শনিবার সোনারগাঁ শেখ রাসেল স্টেডিয়ামে বিশাল জনসভার মাধ্যমে উপজেলা আহবায়ক কমিটির সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় আহবায়ক এড. শামসুল ইসলাম ভূইয়া যুগ্ন আহবায়ক ও সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত ও যুগ্ন আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুদ ও আহবায়ক কমিটির সদস্য ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানদের উপস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। আরও জানা যায়, এ সম্মেলনে অতিথি উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক শিক্ষা মন্ত্রী ড. দিপু মনী বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক মির্জা আযম বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়াসহ কেন্দ্রীয় আর একাধিক নেতা উপস্থিত থাকবেন। আর জানা যায়, এ সম্মেলনে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সেক্রেটারী ও জেলার সিনিয়র অনেক নেতৃবৃন্দরা উপস্থিত থাকবেন।
জানা যায়, সোনারগাঁও থানা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম অ্যাডভোকেট সাজেদ আলী মিয়া। পরবর্তীতে সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হন সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম মোবারক হোসেন। ১৯৯৭ সালের দিকে সম্মেলনের মাধ্যমে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের সভাপতি হন বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আবুল হাসনাত সাধারণ সম্পাদক হন আব্দুল হাই। এই কমিটির সভাপতি আবুল হাসনাত মৃত্যুর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হন শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া তার পরবর্তীতে আব্দুল হাই মৃত্যুর পর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হন মাহফুজুর রহমান কালাম। দীর্ঘদিন ভারপ্রাপ্ত দ্বারা কমিটি পরিচালনা এবং কমিটির একাধিক নেতা মৃত্যুর পর এই কমিটি বিলুপ্ত ঘোষনা করে ২০১৯ সালের ১৫ জুলাই সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন দেন জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল। তখন কমিটিতে এড.সামসুল ইসলাম ভূইয়া আহবায়ক ও উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করা হয়। জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক ডা. আবু জাফর চৌধুরী বিরু, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক সম্পাদক এস এম জাহাঙ্গীর, মোগরাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফ মাসুদ বাবু, সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান বাবু ওমর, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার ফেন্সী ও জামপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সামসুদ্দিন খান আবুকে নতুন কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে। এরপর ২০২১ সালের ২৩ মার্চ পূর্বে ঘোষিত করা আহবায়ক কমিটিকে পূর্ণ বিন্যাস করে এ কমিটিতে অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম ভূঁইয়াকে আহবায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ্ আল কায়সার এবং ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুমকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ২১ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটির অনুমোদন দেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. আব্দুল হাই ও সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়।
সম্মেলনের ব্যাপারে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের আহবায়ক এড. শামসুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আমরা প্রস্তুত সম্মেলনকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে সফল করার জন্য। তিনি তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কোন ব্যাক্তি স্লোগান হবে না স্লোগান হবে বঙ্গবন্ধুর শেখ হাসিনার আর আমরা ঐক্যবদ্ধ আওয়ামীলীগ চাই। তিনি আরও জানান, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা জেলা ছাত্রলীগের তৎকালীন সেক্রেটারী ছিলাম কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ও আমি কলেজে জি এসও ছিলাম আমার কখনো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে বিচ্যুতি ঘটেনি। এখন নেত্রী যদি মনে করে আমাকে সভাপতি বানাবে। তিনি বলেন সভাপতি সেক্রেটারী নিয়ে ভাবছি না আমি সোনারগাঁয়ে নৌকার প্রার্থী চাই এটাই আমার মূল লক্ষ্য যাকেই দেয়া হোক তার জন্য কাজ করব।
সম্মেলনের ব্যাপারে সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম আহবায়ক ও সাবেক সাংসদ আব্দুল্লাহ আল কায়সার জানান, আমি কাজ করছি তৃণমূলকে নিয়ে যেহেতু আমি ২০০৮ সালে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করেছিলাম এইবারও আমার লক্ষ্য হল নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করা নৌকার প্রার্থী হিসেবে। তার আগে এখন এই সম্মেলনে নেত্রী যদি মনে করে সভাপতি ও সেক্রেটারী হিসেবে দায়িত্ব দিবে দলকে গোছানের জন্য সামনে যেহেতু নির্বাচন আমাকে যদি একটি পদে নেত্রী আসিয়ান করে আমি অবশ্যই দায়িত্ব গ্রহণ করব। তিনি আরও জানান, সভাপতি হতে হবে সেক্রেটারী হতে হবে এমন আমার কোন ব্যাক্তিগত ইচ্ছা নেই লক্ষ্য হল সামনে সংসদ নির্বাচনে নৌকার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করব। তারপরও দল থেকে আমাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখা হলে ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওমীলীগের কমিটিগুলো করব দলকে সুসংগঠিত করব তৃণমূলকে শক্তিশালী করব।


