# নতুন এসপি আসলেই সমাবেশের ডাক
# বিএনপি আট-ঘাট বেঁধেই মাঠে নেমেছে
উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মাঠের রাজনীতি। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনীতির ডালপালা ততই সক্রিয়ভাবে প্রসারিত হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগরের নেতৃবৃন্দের মাঝে অন্তর কোন্দল থাকলেও কেন্দ্রীয় কর্মসূচি পালনে বিরোধী দলের নেতাদের মাঝে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে যে ঐক্য গড়ে উঠেছে, তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা চলছে।
সরকারি দলের শীর্ষ নেতারা এই ঐক্য প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত দলগুলোর তীব্র সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে। এরই মধ্যে নগরীতে আগামী ২৭ আগষ্ট শনিবার একই দিনে সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তবে দুজনের সমাবেশের স্থান ভিন্ন জায়গায়। ক্ষমতাসীন দলের এমপি শামীম ওসমানের ডাকে সমাবেশে দলের অবস্থান জানান দিতে নানা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বিভিন্ন থানা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
ক্ষমতাসীন দল আগামী নির্বাচন পর্যন্ত রাজনীতির মাঠ দখলে রাখার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। অপরদিকে বিএনপিও রাজপথ দখলের জন্য ইতোমধ্যে নানা ইস্যুর দাবী নিয়ে মাঠে ময়দানে তৃনমূল পর্যায়ে প্রতিবাদ করে যাচ্ছে। এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কেন্দ্রিক নানা মেরুকরণের চিত্র ফুটে উঠতে শুরু করায় রাজনীতিতে এক ধরনের উত্তাপ সৃষ্টি হয়েছে।
এই মুহূর্তে শহরজুড়ে যেখানে ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীরা শোকা হত থাকার কথা; কিন্তু সেখানে তাদের নেতার ডাকে সামবেশ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে কর্মীরা। অপর দিকে সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে মাঠে থাকা বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল কোনো সমঝোতা ছাড়া নির্বাচনে অংশ নেয়ার পক্ষপাতী নয়। আন্দোলনকে অগ্রাধিকার দিয়েই তারা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। যার ফলে অক্টোবর থেকে পরিস্থিতি পাল্টে যেতে পারে। সরকারি দলও সেই পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নির্বাচনী মাঠ এককভাবে দখলে রাখতে চায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। বিএনপি ও জাতীয় ঐক্যসহ সরকারবিরোধী কোনো জোটকে ফাঁকা মাঠ ছেড়ে দেবে না তারা। সেই লক্ষ্যে সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ ও মতবিনিময়সহ নানা রাজনৈতিক কর্মসূচি নেয়া হচ্ছে। সরকারবিরোধী এসব দল বা জোট কোনো কর্মসূচি পালন করলে তার পাল্টা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকবে ক্ষমতাসীনরা।
জেলা আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা জানান, নির্বাচন পর্যন্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখবে আওয়ামী লীগ। সে জন্য ছাত্রলীগের সাবেক নেতাসহ আওয়ামী লীগের নেতাদের প্রস্তুত থাকার জন্য আহবান জানান নেতৃবৃন্দ। নিয়মিত সভা-সমাবেশের মাধ্যমে মাঠ দখল করে নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতে চায় সরকার দলীয় এমপি শামীম ওসমান।
গতকাল ১৫ আগষ্ট থেকে নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান, রাজপথ দখলে রাখার জন্য বিভিন্ন কর্মী সভায় গিয়ে নেতা কর্মীদের মাঝে গরম বক্তব্য দিচ্ছে। তিনি সিদ্ধিরগঞ্জে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, যারা লন্ডনে থাকা এক নেতার কথায় নাচা নাচি করতাছেন তারা বেশি নাইচেন না। আপনাদের নেতা এসে আপনাদেরকে রক্ষা করবে না।
‘এখানেও ষড়যন্ত্র হয়, খেলা হয়। যারা খেলছেন, এত দিন চুপ ছিলাম। ধৈর্যের একটা সীমা আছে। সামাল দিয়ে চলেন। রাজপথ দখল করবেন করেন। আমাদের সাথে খেলবেন আসেন দেখি আপনারা কত বড় খেলোয়াড় । আমরা বসে আছি তোমাদের সাথে খেলার জন্য।’
তার এই বক্তব্যের জবাবে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এড. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘আপনারা জানেন যখন খেলা শুরু হয় তখন মূল খেলা শুরুর আগে প্রস্তুতিমূলক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সারাদেশের প্রতিটি থানা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে বিএনপির। এভাবে জনগণকে সম্পৃক্ত করে সারা দেশে শুরু হবে এক দফার আন্দোলন। সেই এক দফার আন্দোলন হবে এই সরকারের পতনের আন্দোলন।’
নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগে সভাপতি এড. খোকন সাহা সিদ্ধিরগঞ্জের এক সভায় বিএনপি নেতা কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘তাদের মাঠে প্রতিহত করবেন, রাস্তায় প্রতিহত করবেন। চক্রান্তকারীরা মাঠে নামবে। আমরা দেখব কারা মাঠে নামবে, আর কে নামবে না; আমরা তাদের মাঠের জবাব মাঠেই দিবো।’
রাজনৈতিক বোদ্বা মহলে এমপি শামীম ওসমানের ডাকা সমাবেশ নিয়ে নানা আলোচনা হচ্ছে। তাদের মতে এই সাংসদের সমাবেশ নিয়ে শহরের নানা উত্তেজনা তৈরী হয়েছে। সেই সাথে সচেতন মহল থেকে প্রশ্ন উঠে হঠাৎ করে শামীম ওসমান কেন এই সমাবেশের ডাক দিলেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেন তিনি কি তার বিশাল কর্মী বাহিনী দিয়ে নতুন এসপিকে তার শক্তির জানান দিতে চান।
এর আগেও এসপি হারুনের আমলে শহরে তিনি একাধিক সমাবেশ করেছেন; তখন পুলিশ প্রশাসন নিয়ে তিনি নানা মন্তব্যও করেন। তাই ২৭ আগষ্টের সমাবেশ নিয়ে নানা আলোচনা উত্তেজনা চলছে। এই সামবেশে তিনি কি বলবেন? কি দিক নির্দেশনা দিবেন? এই সব কিছু মিলিয়ে আগামী শনিবারের সমাবেশে জানা যাবে সকল প্রশ্নের উত্তর। এন.এইচ/জেসি


