Logo
Logo
×

রাজনীতি

এখন পারলেও তখন পারেননি

Icon

রাকিবুল ইসলাম

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২২, ০৭:১৪ পিএম

এখন পারলেও তখন পারেননি
Swapno

এখন পারলেও তখন পারেননি

রাকিবুল ইসলাম

# কেন্দ্রের ডাকে দূরে ছিলেন তিনি ও তার কর্মীরা
# কেন্দ্রীয় নেতারা ক্ষোভ ঝেড়েছিলেন

 

নারায়ণগঞ্জে ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতি বলতে উত্তর দক্ষিনের প্রভাবশালী দুই জনপ্রতিনিধিকে চেনেন সারাদেশে। এখানকার কমিটি থেকে শুরু করে সকল স্তরে এই দুজনের প্রভাব রয়েছে। নির্বাচন আসলেই তাদের অন্তর্দ্বন্ধ প্রকাশ্যে চলে আসে। এই বছরের শুরুতে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশেন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে তখরন নির্বাচনের সময় ক্ষমতাসীন দলের উত্তর বলয়ের অংশ আওয়ামীলীগের সভানেত্রী মনোনীত নৌকার প্রার্থীর মেয়র আইভীর পক্ষে কাজ করে নাই। আর এজন্য শামীম ওসমানের অনেক অনুসারিকে পদ হারাতে হয়। শামীম ওসমান অনুসারীদের উত্তর বলয় হিসেবে জানেন শহরের রাজনৈতিক মহল। অপর দিকে মেয়র আইভী অনুসারীদের দক্ষিন বলয় হিসেবে জানেন।

 


দলীয় সূত্রে জানাযায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের সময় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত নৌকার প্রার্থী মেয়র আইভীকে জয়ী করার জন্য কঠোর পরিশ্রম করেন। সেই সাথে নাসিকের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার জন্য সকল নেতৃবৃন্দকে নির্দেশনা দেন। অভিযোগ রয়েছে তখন ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সংগঠনের স্থানীয় নেতাদের মাঝ থেকে শামীম ওসমানের বলয় থেকে তেমন একটা সাড়া পান নাই।

 

তাই কেন্দ্রদলীয় ছাত্রলীগ এখানে এসে প্রতিটি ওয়ার্ডে ২৭টি কমিটি গঠন করে তারা ঢাকা থেকে এসে নৌকার প্রার্থীর জন্য কাজ করেন। একইভাবে জেলা মহানগর  স্বেচ্ছাসেবকলীগের কোন সারা না পাওয়ায় সিটি নির্বাচনের দিন এই কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। মেয়র আইভীকে জয়ী করার জন্য ক্ষমতাসীন দলের সেন্ট্রাল থেকে একটি প্রতিনিধি আসে। এই প্রতিনিধির কমিটির আহবায়ক ছিলেন কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলির সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক। তিনি সহ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের টিম নাসিক নির্বাচনের সময় বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে জনসভা করেন। তারই ধারাবাহিকতায় তখন নারায়ণগঞ্জ ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় অস্থায়ী মঞ্চ তৈরী করে বিশাল সভা করেন। কিন্তু তখন শামীম ওসমান অনুসারীরা ওই জনসভায় সারা দেন নাই। তারা ঘাপটি মেরে চুপ ছিলেন।

 


এদিকে শনিবার বিকেলে নগরীর ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় জামাত বিএনপি সকল ষড়যন্ত্রের প্রতিরোধে নেতা কর্মীদের সজাগ থাকার জন্য সমাবেশ করে আহবান করা হয়। তবে আওয়ামীলীগের নেতাদের দাবী এটা এমপি শামীম ওসমানের নিজস্ব সভা। দলের নয়। দলীয় একাধিক নেতা জানান, এমপি শামীম ওসমানের ডাকে অনেক লোক জমায়েত হলেও সভা থেকে নেতা কর্মীরা নতুন কোন বার্তা পান নাই।

 

১৫ আগষ্ট থেকে গত ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ, বন্দর সহ কয়েকটি সভায় যা বলেছেন ওই সভায়ও তাই বলেছেন। কিন্তু শামীম ওসমানের এই সভায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ এবং আওয়ামীলীগের সর্ব স্তরের শামীম ওসমান অনুসারীরা বিশাল লোকের মিছিল নিয়ে সমাবেশ স্থলে যোগদান করেন।এই সমাবেশকে সফল করার জন্য তার অনুসারীরা হুমরি খেয়ে পড়েন। কিন্তু শামীম ওসমানের ডাকে তারা যেই ভাবে সারা দিয়েছে সিটি নির্বাচনের সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের ডাকেও এই ভাবে সারা দেন নাই। এই সাংসদের অনুসারীরা কেন্দ্রীয় নেতাদের থেকে তার নির্দেশনাকেই প্রাধান্য দেন।

 


খোজ নিয়ে জানাযায়, শামীম ওসমানের অনুসারীরা সিটি নির্বাচনে প্রচারনায় অংশ গ্রহন না করায় এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশ উপেক্ষা করে তার নির্দেশকে প্রাধন্য দেন। আর এটা কেন্দ্রীয় নেতারা ভালো ভাবে বুঝতে পারে। যার জন্য নাসিক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন দলের অঙ্গ সংগঠনের কয়েকটি কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

 

তার মাঝে মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি সহন ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সাথে জেলা মহাপনগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটি বিলুপ্ত হয়। মহানগর শ্রমিকলীগের কমিটিও বাতিল করা হয়। এই সকল কমিটিতে সভাপতি সম্পাদক পদে রয়েছেন এমপি শামীম ওসমান অনুসারীরা। তাই রাজনৈতিক মহল মনে করেন দক্ষিন বলয়ের চেয়ে উত্তর বলয়ের নেতা কর্মীরা অনেকটা কঠিন সময় পার করছে। কেননা এই বলয়ের অনেকে এখন পদবিহীন হয়ে আছে।

 


নাসিক নির্বাচনের ২ নম্বর রেলগেট এলাকার সভায় আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডর্লির সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক সাংসদ শামীম ওসমানকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, শেখ হাসিনা নৌকা প্রতীক দিয়েছিলেন বলে এমপি হয়েছেন। আর সেই শেখ হাসিনার প্রার্থীর বিরোধিতা করছেন। জীবিত থাকতে আগামীতে নৌকা পেতে দেব না।‘নির্বাচন এলে এই নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন ধরনের কথাবার্তা আসে। বিশাল জনসভা প্রমাণ করেছে, কোনো হুমকি-ধমকি, কোনো মিথ্যাচারের কাছে মানুষ হার মানবে না। পরাজিত হবে না। বিজয়ী হবেই হবে। তখন নাসিক নির্বাচনে বিপুল ভোটে নৌকার প্রার্থী মেয়র আইভী জয়ী হন।

 


দলীয় একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, শামীম ওসমান যখন বেকায়দায় থাকেন তখনি এই ভাবে সমাবেশ করে তার শক্তির জানান দেন। এসপি হারুনের সময়ও তিনি একাধিকবার এই ভাবে কয়েকটি সভা করেছে। তখনও তার ফাকা বুলিতে কেউ কোন কর্ণপাত করেন নাই। এবারের সামবেশও একই অবস্থা হয়। তবে এবারের সামবেশ ব্যাপক লোক সমাগম হলেও তারা নতুন কোন মেসেজ পান নাই। তাই সব কিছু মিলিয়ে সচেতন রাজনৈতিক বোদ্ধ মহল বলছেন শামীম ওসমানের অনুসারীরা এখন পারলেও তখন পারেন নাই। তাই প্রশ্ন উঠেছে তখনকি তারা ইচ্ছা করে নাসিক নির্বাচনের সভা বাস্তবায়নের এগিয়ে আসে নাই নাকি তাদের নেতার নির্দেশ পান নাই বলে আসেন নাই। 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন