# দল কোন বিভক্তিকে সমর্থন করবে না : মামুন মাহমুদ
# দাওয়াত দেওয়া হলেও কেউ আসেনি : টিটু
দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ক্ষমতায় নেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।দলটির চেয়ারম্যান সাবেক তিন তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতির মামলায় প্রায় তিন বছর জেল খাটার পরে অসুস্থতার কারনে প্যারোলে মুক্তি লাভ করলেও হাসপাতাল এবং তার বাসা ছাড়া কোথাও যাওয়ার অনুমতি নেই এমনকি তার নেতাকর্মীরা তার সাথে দেখা করতে হলে লাগবে অনুমতি শুধু তাই নয় দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া মামলার কারনে দেশে আসতে পারছে না তবে লন্ডনে বসেই নেতাকর্মীদের ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।দীর্ঘদিন ক্ষমতা না থাকার কারনে দলের নেতৃত্বে অনেকটাই ভাটা পরেছিল তবে এ বছরের শুরু থেকেই আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে ব্যাপক ভাবে কাজ করে যাচ্ছে আর দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারাদেশে সরকার পতনের আন্দোলন করে যাচ্ছেন বলা চলে বিএনপি অনেকটা চাংঙ্গা অবস্থানে রয়েছে।
তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জেও জেলা ও মহানগর বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে যাচ্ছে এবং দলের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রত্যেকটি কর্মসূচি ব্যাপক ভাবে আলোড়ন সৃস্টি করেছে।তবে একটি দিকে ঘাটতি দেখা গেছে ফতুল্লা থানা বিএনপিরকে নিয়ে এর কারন হচ্ছে ফতুল্লা থানা বিএনপির দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে সকল রকম কর্মসূচি পালন করছে এমনকি কেন্দ্রে ঘোষিত প্রেগ্রাম গুলোতেও আলাদা আলাদা ভাবে প্রেগ্রাম করতে দেখা গেছে আর এতে করে বিভিন্ন নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
জানা যায়, ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক জাহিদ হাসান রোজেল ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম টিটু আহবায়ক কমিটিতে আসার পর থেকেই আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করতে থাকে।
তারই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ আগষ্ট সারাদেশে জ্বালানী তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুতের লোডশেডিং, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোলা জেলায় পুলিশের গুলিতে নিহত নুরে আলম ও আব্দুর রহিমের হত্যার প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ঘোষিত প্রোগ্রাম হলেও ফতুল্লা থানা বিএনপির সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম টিটু তার নেতাকর্মীরা সেদিন সকালে বিক্ষোভ করে। আর ওইদিনই বিকালে আলাদা ভাবে কেন্দ্রে ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে ফতুল্লা থানা বিএনপির আহবায়ক রোজেলের নেতৃত্বে বিকেলে বিক্ষোভ সমাবেশ করে নেতাকর্মীরা। আর এতে করেই বোঝা যায় তাদের মধ্যে ফাটল রয়েছে যার কারণে ফতুল্লা থানা বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত এবং কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে তারা এক হতে পারছেন না। আর তাদের এই বিভক্তির কারণে নেতাকর্মীরাও বিভ্রান্তির মধ্যে পরছে। আর অনেক নেতাকর্মী মনে করছেন তাদের এই দন্দের অবসান না ঘটে তাহলে দলের ওপর প্রভাব পরতে পারে।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ জানান,ফতুল্লা থানা বিএনপি দুইভাগে বিভক্ত হয়ে প্রোগ্রাম করলো এইটা সবাই দেখলো এখন যদি আমি বলি বিভক্তি নাই এইটা কতটুকু গ্রহণযোগ্য হয় বিষয়টা।বিভক্তি বড় বিষয় না এটা সাময়িক এটা বেশিদিন থাকবে না।বিভক্তির যে বিষয়টা তাদের উপর যে অর্পিত দায়িত্ব সেটা মূলত হলো সাংগঠনিক এখানে আহবায়ক কমিটি দেওয়া হয়েছে একটা টাইম সিডিউল করে সেই সময়ের মধ্যে ইউনিয়ন কমিটি সম্মেলন করবে, থানা সম্মেলন করবে এইটাই মূলত তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব। তাদেরকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি দেওয়া সেই দায়িত্ব তারা পালন করবে এইটাই আশা করি সময় তাদের দেওয়া হয়েছে আরও দেওয়া হবে তারপরও যদি তারা না পারে তখন দল বিবেচনা করবে সবকিছু দল তো কোন বিভক্তি নিয়ে এগোবেনা দল কোন বিভক্তিকে সমর্থন করবে না এটা দলের সিদ্ধান্ত তারা কি সিদ্ধান্ত নিবে তারা একসাথে কাজ করবে কিনা সেটা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয় বা তাদের উপর যে দায়িত্ব সেটা তারা পালন করবে কিনা এইটাই হচ্ছে আমাদের পক্ষ থেকে তাদের কাছে প্রশ্ন।এখানে বিভক্তি কি কতদিনের এইটা বলা যাচ্ছে না আর এই কমিটিটা হচ্ছে অস্থায়ী তাদের উপর নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে তাদের দায়িত্বটা কি ।
ফতুল্লা থানা বিএনপির সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম টিটুর না গিয়ে রোজেলের প্রোগ্রামে যাওয়ার কারণ হিসেবে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মামুন মাহমুদ জানান, আমি টিটুর প্রোগ্রামে যাওয়ার জন্য কোন দাওয়াত পাইনি তাই যাইনি।
এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা বিএনপির সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম টিটু জানান, আমাদের আহবায়ক কমিটি হওয়ার পর থেকেই ফতুল্লা থানা বিএনপির সকল কর্মসূচি আলাদাভাবে পালন করেছি।তবে জেলার প্রোগ্রাম গুলোতে একসাথে করেছি।আর সেদিন কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে জেলার শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের দাওয়াত দিয়েছি কিন্ত তারা আসেনি।আর ফতুল্লা থানা বিএনপিতে আমার সাথে কারো দন্দ নেই তবে মতের পার্থক্য রয়েছে তাই আলাদাভাবে প্রোগ্রাম করি।আর আলাদা ভাবে কর্মসূচি করার কারন হলো আমার সাথে যে সকল নেতাকর্মী রয়েছে তারা সকলই ত্যাগী যারা বিগত দিন থেকে এখনো রাজপথে আছে এবং আমার সাথে যে আহবায়ক হিসেবে আছে তিনি নতুনদের নিয়ে নেতৃত্বে দিচ্ছেন যারা দলের দূর্সময়ে ছিলো না তাই আমি ওনার সাথে থানার কার্যক্রমে একত্রিত হই না ।


