Logo
Logo
×

রাজনীতি

শামীমের খেলায় বিএনপির নানা মত

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২২, ০৯:২১ পিএম

শামীমের খেলায় বিএনপির নানা মত
Swapno


# সিটি নির্বাচনে পদ হারানো নেতাদের তিনি উজ্জীবিত করছেন : রবি

# আমরা যেটা খেলবো, সেটি নির্বাচনী খেলা : মামুন

# খেলার দায়িত্বে থাকেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কিংবা ক্রীড়া পরিষদ : রাজীব

# তিনি কখনো হাডুডু খেলেছেন কিনা জানতে হবে : মান্নান

 


আওয়ামী লীগেরতো বটেই, নারায়ণগঞ্জের পুরো রাজনীতিতেই আওয়ামী লীগ মনোনীত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমান একজন স্বীকৃত প্রভাবশালী ব্যক্তি। তাই স্বভাবতই নারায়ণগঞ্জে তার বিরাট একটি কর্মী বাহিনীসহ বিশাল একটি বলয় আছে। এরই ধারাবাহিকতায় শামীম ওসমানের ঘোষিত কোন কর্মসূচিতে জনগণের উপস্থিতি থাকে চোখে পড়ার মতো। 

 


এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার তিনি জনসমাবেশ করবেন বলে ঘোষণা দিয়ে আবার প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাই তার কর্মী ও সমর্থকরাও দীর্ঘদিন যাবৎ অপেক্ষা করছিলেন নেতার একটি জনসভার জন্য। যেখানে তিনি তাদের দিকনির্দেশনা দিবেন। 

 


বিশেষ করে গত সিটি নির্বাচনের বিষয়ে শামীম ওসমানের বিরুদ্ধে উঠা বিভিন্ন অভিযোগের পর আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দসহ এমপির সমর্থকদের মধ্যে এই আশা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। তাই হঠাৎ করে গত ১৫ আগস্ট তিনি যখন ঘোষণা দিলেন ২৭ আগস্ট জনসভা করবেন তখন অনেকের কাছেই তা প্রত্যাশিত ছিল। 

 


এর মধ্যে তিনি বিভিন্ন আয়োজনে এই জনসভা ডাকার একটি কারণ ব্যাখ্যা করলেন। যেখানে তিনি বিএনপির বর্তমানের সভা সমাবেশ, ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তকে মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করলেন। জনসমাবেশে শামীম ওসমান বিএনপিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে খেলা হবে বলে হুশিয়ারি দেন। এমনকি কারো হাতে পায়ে ধরে কিংবা বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়েও ক্ষমতায় আসতে পারবেন না বলে হুশিয়াার দেন তিনি।

 


 বিএনপিকে স্বাধীনতা বিরোধী উল্লেখ করে নারায়ণগঞ্জেই তাদের বিরুদ্ধে খেলা হবে বলে ঘোষণা দেন। তবে এমপির এই জনসভা বা ঘোষণাকে পাত্তা দেননি বিএনপিসহ তার নিজ দলীয় নেতারা। আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের দাবি, এটা দলীয় কোন কর্মসূচি না, এমপির ব্যক্তিগত আয়োজন।

 


 অন্য দিকে বিএনপির নেতৃবৃন্দের দাবি, রাজনীতি কোন খেলার বিষয় না। তারা নির্বাচন ছাড়া কোন প্রতিযোগিতায় যেতেও রাজি না। একইসাথে শামীম ওসমানের মতো একজন প্রজ্ঞাবান ও বড় মাপের রাজনীতিবিদের কাছ থেকে এধরণের বক্তব্য, যা তাদের ভাষায় ‘অশালীন বক্তব্য’ কোন ভদ্র ও সৃশীল সমাজ আশা করেননি। 

 


জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি বলেন, ‘শামীম ওসমানের বক্তব্য হলো রাজনৈতিক বক্তব্য। গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর নারায়ণগগঞ্জ আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকটি অঙ্গ সংগঠনের কমিটি বাতিল করে দেওয়ায় উনার ভক্ত হিসেবে পরিচিত অনেক নেতাকর্মী-ই এখন পদশূন্য অবস্থায় আছে।

 


জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দও এখন তার সাথে নাই। উনার মনে হলো এইসব কর্মীদের সংগঠিত করার প্রয়োজন। সাধারণত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কিছু বলা হলেই কর্মীরা সংগঠিত হবে। তাই ওনার এই রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে কোন চিন্তা করি না।’

 


স্বাধীনতার পক্ষ বিপক্ষের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার যুদ্ধের ময়দানে সরাসরি আওয়ামী লীগের কয়জন নেতা অংশগ্রহণ করেছেন? অস্ত্র হাতে তাদের কয়জন নেতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আরও প্রশ্ন করে বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য যে পদক দেওয়া হয়, আওয়ামী লীগের যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছেন এমন কয়জন পদকপ্রাপ্ত নেতা আওয়ামী লীগের দলের সাথে আছে?’

 


‘তিনি আবার স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে হুংকার দেয়। তিনি বলেন, প্রকৃত ভোটের মাধ্যমে যে নির্বাচিত হয়, সে যে-ই হোক না কেন, আমরা তাকে ফুলের মালা দিয়ে স্বাগত জানাবো। উনি আমার প্রতিপক্ষ, যদি জনগণ ভোট দিয়ে উনাকে নির্বাচিত করে তাহলে আমি সর্বপ্রথম উনাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানাবো। তবে সেই নির্বাচন অবশ্যই  নিরপেক্ষ ও নির্দলীয় সরকারে অধীনে হতে হবে।

 


জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘আমরা দিনের আলোতে খেলতে চাই, রাতের আঁধারে খেলতে চাই না। যারা রাতে বেলায় নির্বাচিত এমপি তারাতো রাতের খেলায় অভ্যস্ত। আমরা দিনের বেলায় যে খেলা খেলতে চাই, সেটা হবে নির্বাচনের খেলা। সারা বছর আমরা যা করছি তা দলকে সুসংগঠিত করার জন্য দলীয় কর্মসূচী পালন করছি। এগুলোই আমাদের খেলা, অন্যকেউ কি ধরণের খেলা খেলতে চায়, সেটা আমার জানা নাই।’

 


‘এমন কোন খেলার সাথে আমরা যুক্ত হতে চাই না, আমরা পরিচিতও না। আমি মনে করি বিরোধী দল থাকবে, সবসময়ই একটি গঠনমূলক দায়িত্ব পালন করবে। সেজন্য তাদের কথা বলার জন্য জায়গা দিতে হবে। তা নাহলে সরকার দৈত্য হয়ে যায়, সরকার স্বৈরশাসক হয়ে যায়। তাই সরকারের পাশাপাশি একটি ছায়া সরকার হিসেবে কাজ করে বিরোধী দল। বিরোধী দলকে উদ্দেশ্য করে কেউ যদি অসাংগঠনিক বক্তব্য দেয়, অশালীন বক্তব্য দেয়, সেই বক্তব্যের পাল্টা বক্তব্য দেওয়ার মত কোন রুচি বা ভদ্রতা আমার জানা নাই।’

 


‘আমরা জেনেছি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ভারতে গিয়ে মোদীর হাতে পায়ে ধরেছেন আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর জন্য। সুতরাং হাতে পায়ে ধরার অভ্যাস তাদেরই আছে, আমাদের শক্তি জনগণ। আমরা একটি ফ্রি এবং ফেয়ার নির্বাচনের জন্য দীর্ঘদিন যাবত আন্দোলন করছি। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হলেই আমরা নির্বাচনে যাব। জনগণ ভোট দিতে পারবে এবং জনগণের ভোটেই আমরা নির্বাচিত হবো। জনগণের উপর আমাদের আস্থা রয়েছে। অন্যকারো উপর আস্থা নেই; তবে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সবার সাথেই থাকবে, তবে আমরা কাউকে প্রভু মানি না।’

 


জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য মাসুকুল ইসলাম রাজিব বলেন, ‘উনার ভক্তদের উদ্দেশ্যে জনসভা করেছেন সেই বিষয়ে আমাদের কিছু বলার আছে বলেইতো আমি মনে করি না। উনার দলের নেতারাই-তো বলেছেন এটা উনার দলের জনসভা না। তাছাড়া খেলা হবে বলে উনি যে কথা বলেছেন, আমি রাজনীতিটাকে খেলা বলে মনেই করি না। আমি মনে করি রাজনীতি হলো এমন একটি দায়িত্ববোধ যেখানে মানুষের জন্য কিছু করা।’

 


‘উনি যেসব ডেট লাইন দিয়ে খেলার কথা বলেছেন, আসলে আমার কাছে রাজনীতি কোন খেলা না। খেলার দায়িত্বে থাকেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কিংবা ক্রীড়া পরিষদ। উনার খেলার দৃষ্টি ভঙ্গির সাথে আমি সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করি। রাজনীতি কোন খেলা না, রাজনীতি হলো মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কল্যাণমূলক কিছু করা। উনারা যদি মনে করেন দুইটি দল হিসেবে ফুটবল কিংবা ক্রিকেট খেলবে তাহলে সেটা হয়তো হতে পারে। 

 


তিনি আরও বলেন, ‘উনি একজন বিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হয়ে প্রজ্ঞাশীল ব্যক্তি হয়ে কিভাবে আমাদের অন্যকারো হাতে পায়ে ধরার কথা বলেন তা বোধগম্য নয়। দেশের বাইরে থেকে বর্তমানে ব্যাংকিং সেক্টর ছাড়া হিউজ পরিমান টাকা পাঠানোর মতো কোন সুযোগ আছে কি না আমার জানা নাই। বিএনপি বাইরের কারো দ্বারস্থ হয়েছেন বলে ওনি হয়তো মুখে বলতে পারবে, কিন্তু প্রমাণ দিয়ে বলতে পারবে না।’ 

 


‘সম্প্রতি তাদের দলকে ক্ষমতায় রাখার জন্য ভারতের সহযোগিতা কামনা করার বিষয়ে এক মন্ত্রীর ঘটনাটি সবার মুখেই এখন আছে। যা নিয়ে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলেছেন অনেকেই। জনগণের রায়কে বিএনপিই সবসময় সম্মান জানিয়েছে। ওনারাই সম্মান জানাতে ব্যর্থ হয়েছে। তাছাড়া বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় ও রাতের আধারের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার অভিজ্ঞতাও তাদেরই আছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার অধিকারটা আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।’


 
সোনারগা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, ‘শামীম ওসমান বলেছেন খেলা হবে, তিনি কি কখনও হাডুডু খেলেছেন নাকি কাবাডি খেলেছেন সেটা প্রশ্ন করতে হবে। যখন কুমিল্লা জেলা ত্রিপুরা নামে পরিচিত ছিল তখন আমরা ঢাকা বনাম ত্রিপুরা যে হাডুডু’র লড়াই হতো সেখানে আমরা সারা রাত হাডুডু খেলতাম।’ 

 


‘খেলা হবে কি করে তিনিতো জীবনে কোনদিন হাডুডু খেলেননি। আমরা হডুডু এবং কাবাডি খেলার প্লেয়ার। সুতরাং আমাদের এই খেলার ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই, আমরা খেলেই অভ্যস্ত।’

 


‘তিনি বলেন, আমরা শেখ হাসিনার অধীনে কোন নির্বাচন হতে দিব না। আমরা শামীম ওসমানের মতো বোরকা পড়ে এদেশ ছেড়ে পালিয়ে যাইনি। তিনি আরও বলেন, কোন বিদেশীরা আমাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে যায়নি। বরং তার দলকে ২০১৪ সালে বিদেশীরা (ভারত) এসে ক্ষমতায় বসিয়ে দিয়ে গেছেন। এখনও তারা ভারতের সহযোগিতা চাইতেছে; সুতরাং তাদের পক্ষে এত বড় বড় কথা বের হওয়া মানায় না।’  এন.এইচ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন