Logo
Logo
×

রাজনীতি

ঐক্যবদ্ধ বিএনপি, সক্রিয় কর্মীরা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২২, ০১:৩৩ পিএম

ঐক্যবদ্ধ বিএনপি, সক্রিয় কর্মীরা
Swapno

 

# বিভেদের মাত্রা কমিয়ে নেতাদের একসাথে রাজপথে দেখা যাচ্ছে


দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে দল গোছাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি। সারাদেশের সকল জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠনের মাধ্যমে দলকে শক্তিশালী করার কাজ চলছে। একই সাথে বিভিন্ন দাবী নিয়ে ইউনিয়ন, ওয়ার্ড থেকে শুরু করে জ্বালানি তেল সহ দ্রব্যমূল বৃদ্ধির প্রতিবাদ করছে। 

 


দল গোছানোর কাজ তদারকি করার জন্য এলাকাভিত্তিক সিনিয়র নেতাদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এদিকে সরকারও চায় দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকুক। তাই স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল প্রত্যাশা করেছেন।

 


এদিকে আর মাত্র দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। বিভিন্ন জেলা-উপজেলাসহ তৃণমূল পর্যায়ে কাউন্সিল করে দল পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে। মার্চ মাস থেকে শুরুর পর ইতোমধ্যেই অনেক ইউনিট কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়। নারায়ণগঞ্জ জেলার ১০ টি ইউনিটের মাঝে ইতোমধ্যে ৫টি ইউনিটের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়েছে বাকি গুলোর কাজ চলমান আছে।

 


দলীয় সূত্রে জানা যায়, এসব কাউন্সিলে সবার মতামত নিয়েই কমিটি পুনর্গঠনের কাজ করা হচ্ছে। কোন কোন এলাকায় কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে কমিটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁ, আড়াই হাজার উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল ও ভোটের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠন।

 


অন্যদিকে শুধু বিএনপির নয় তৃণমূল পর্যায়ে দলটির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনও পুনর্গঠন করা হচ্ছে। দেশে করোনার সংক্রমণ শুরুর পর তৃণমূল পর্যায়ে বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের কাজ বন্ধ থাকে। এ কারণে গত ২ বছরে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীরা কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। কিন্তু এখন তৃণমূল পর্যায়ে কমিটি পুনর্গঠন শুরু করায় আবার নেতাকর্মীরা দলে সক্রিয় হতে শুরু করেছে বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন।

 

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জানান, দল পুনর্গঠনের কাজ পুরোদমে এগিয়ে যাচ্ছে। শীঘ্রই যে সকল ইউনিটের কমিটি এখনো হয় নাই তা দ্রুত শেষ হবে। তাছাড়া সকল স্তরে দল পুনর্গঠনের কাজ শেষ করা হবে। পাশাপাশি দেশে গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে আন্দোলন-সংগ্রামও চলবে।

 


রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৬ সালে রাষ্ট্রক্ষমতা ছাড়ার পর থেকেই বিএনপি আস্তে আস্তে দুর্বল হতে থাকে। বিশেষ করে ২০১৫ সালে লাগাতার হরতাল-অবরোধসহ নেতিবাচক আন্দোলন-কর্মসূচী করতে গিয়ে দেশ-বিদেশে চরম সমালোচনা হওয়ার পর দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা ঝিমিয়ে পড়ে। 

 


আর ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজা হওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাগারে চলে যাওয়ার পর দলটির অবস্থা আরও নাজুক হয়। বর্তমান সরকারও চায় দেশে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল থাকুক। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশে শক্তিশালী একটি বিরোধী দল থাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমরা শক্তিশালী বিরোধী দল পাচ্ছি না।

 


অপজিশন বলতে দু’টি রাজনৈতিক দল আছে। কিন্তু এ দু’টি দলই মিলিটারি ডিকটেটরদের হাতে গড়া। তারা এসেছে একটা ভাসমান অবস্থায়। জনগণের কাছে তাদের অবস্থান নেই, দেশের মাটি ও মানুষের সঙ্গে যে সম্পর্ক সেই সম্পর্কটা এই দু’টি দলের নেই। এক সময় তাদের কাছে ক্ষমতাটা ছিল একটা ভোগের জায়গা। তাই তাদের মধ্যে পলিটিক্যাল সমস্যা রয়ে গেছে। এ কারণে আমরা শক্তিশালী বিরোধী দল পাচ্ছি না।’ 

 


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শক্তিশালী বিরোধী দল অপরিহার্য। বিরোধী দল ছাড়া গণতন্ত্র বিকশিত ও কার্যকর হয় না। সরকারের কাজের ভুল-ত্রুটি ধরার জন্য সংসদে শক্তিলী বিরোধী দল আবশ্যক। তা না হলে কখনও কখনও জনগণের প্রত্যাশা উপেক্ষা করে সরকার কাজ করলে সে বিষয়ে প্রতিবাদ করার কেউ থাকে না। 

 


শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলে জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে সংসদে প্রতিবাদের ঝড় তুলতে পারে। এ কারণেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধী দলকে সরকারের অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে বিরোধী দল দূর্বল হলে সরকার আইন পাস করাসহ সুবিধামতো বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়। এর ফলে কখনও কখনও সরকারের কোন পরিকল্পনা জনগণের জন্য ইতিবাচক না হয়ে নেতিবাচকও হতে পারে। 

 


এমন পরিস্থিতিতে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকলে সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে সঠিক পথ দেখাতে পারে। তখন সরকারও চাপে পড়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়বদ্ধতার মধ্যে থেকে কাজ করতে বাধ্য হয়। এর ফলে দেশের মানুষ উপকৃত হয়।

 


রাজনেতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দলের কাজ সরকারকে পাহারা দিয়ে রাখা। যখন যেখানে প্রয়োজন সরকারের সমালোচনা করা এবং ছায়া সরকারের ভূমিকা পালন করা। এভাবে শক্তিশালী বিরোধী দল গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দেয়। আর বিরোধী দল দুর্বল হলে জনগণের কপালে দুর্ভোগ নেমে আসে। তাই উন্নত বিশ্বে জনস্বার্থে বিরোধী দল জনগণের পক্ষে অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করে।

 


বিরোধী দলের নেতাদের দাবী , বর্তমান সরকার বিরোধী দলের নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে দমন করে রাখছে। আর এজন্য আদালত পাড়া  নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপির নেতাদের মিলন মেলা হয়ে আছে। তবে তারা এখন বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন করে সক্রিয় হয়ে উঠছে; সেই সাথে দল গোছানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

 


জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মনিরুল ইসলাম রবি জানান, ‘আমরা বিভিন্ন কর্মসূচির পাশা পাশি দলকে গোছানোর জন্য কাজ করছি। আর এজন্য জেলার ১০ টি ইউনিটের মাঝে ৫টির কমিটি গঠন করা হয়েছে। বাকি গুলো দ্রুত শেষ করার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সেই সাথে দূর্বার  আন্দোলন গড়ে তুলে সরকারের পতনের জন্য নেতা কর্মীদের সক্রিয় করা হচ্ছে।’ এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন