পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেয়ার পর থেকে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল এককভাবে নানা সিদ্ধান্ত নিতে থাকেন। যার ফলে জেলা আওয়ামীলীগের কমিটিতে বিভক্তি চরমে উঠে। জেলা আওয়ামীলীগের শুন্যপদ পূরণ করতে পারেনি এই বিভক্তির কারণে। কিন্তু এতোকিছুর পরও নিজেরা সংশোধন না হয়ে উল্টো নিজেদের স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তে অটল থাকেন তারা।
বরং নিজেদের ক্ষমতা জাহির করতে গিয়ে সোনারগাঁয়ে বিতর্কিত আহবায়ক কমিটি দিয়ে জেলা আওয়ামীলীগ ও স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতাদের তোপের মুখে পড়েন। এসব সামাল দিতে না দিতেই সোনারগাঁয়ে জাপা নেতা মহানগর আওয়ামীলীগ ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নাম ফলক ভেঙে দেয়ার অভিযোগ উঠে। এব্যাপারে নিন্দা জানিয়ে আয়োজন করা সভায় ভুল করে একটি বেফাঁস শব্দ বলে ফেলার অপরাধে যুগ্ম সম্পাদক পদ থেকে সাথে সাথে বহিঃষ্কার করেন হাই-বাদল।
পরে জেলা আওয়ামীলীগের নেতাদের তীব্র আপত্তির মুখে এবং ৩৭ জন স্বাক্ষরিত চিঠি কেন্দ্রে পাঠানোর পর আবারো স্বপদে ফেরেন জাহাঙ্গীর আলম। যার ফলে আবারও হোঁচট খান হাই-বাদল। প্রশ্নবিদ্ধ হয় তাদের নেয়া সিদ্ধান্ত। সম্প্রতি অব্যাহতি প্রাপ্ত ফেরদৌসী আলম নীলাকে আবারও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগে যুক্ত করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ জেলা সভাপতি আদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক এড. আবু হাসনাত মো. শহিদ বাদল অব্যাহতি প্রদানের আদেশ প্রত্যাহার করেন।
ফেরদৌসী আলম নীলা নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও রূপগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান। গত ৩ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘দলের স্বার্থ, আদর্শ, তথা শৃঙ্খলাভঙ্গ ভঙ্গের দায়ে গঠনতন্ত্রের ৪৭ এর (ক) এবং ৪৭ এর (ঙ) ধারা মোতাবেক গঠনতন্ত্র পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের জন্য তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক সহ নিম্নস্তরের সকল পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
২৭ দিন পর ৩০ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক জানান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশে আপনাকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশে অব্যাহতি আদেশ প্রত্যহার করা হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) দুপুরে জেলার আড়াইহাজার উপজেলায় জেলা আওয়ামীলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় সাংগঠনিক আলোচনায় নীলাকে অব্যাহতি প্রত্যাহারের বিষয়টি জেলা আওয়ামীলীগের সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক), জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, সাধারন সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মোঃ বাদল, আড়াইহাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহ্বাজ নজরুল ইসলাম বাবুসহ আরো অনেকে। নীলাকে স্বপদে বহাল করার মাধ্যমে আবারো হোঁচট খেলেন হাই-বাদল।


