Logo
Logo
×

রাজনীতি

যিনি বিএনপি তিনিই আ’লীগ

Icon

অর্ণব হাসান

প্রকাশ: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৯:২৯ পিএম

যিনি বিএনপি তিনিই আ’লীগ
Swapno


# ফেসবুক আইডিতে যুবদল কর্মী হিসেবে শাওনের নানা পোস্ট

# শাওন বিএনপি করত কেউ জানত না: শওকত
 

জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির ৪৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর বিএনপি র‌্যালী বের করেন। তবে র‌্যালীর পরিবর্তে বিএনপি পুলিশের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে পুরো শহর চার ঘন্টা অচল ছিল। এই সংঘর্ষে রনক্ষেত্রে পরিনত নারায়ণগঞ্জ শহর।

 

 

দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল কয়েক শতাধিক নেতা কর্মী আহত হন। জাতীয়তাবাদী দলের অঙ্গসংগঠন যুব দলের শাওন আহম্মেদ রাজা নামের এক কর্মী নিহত হয়। বিএনপি নেতৃবৃন্দের দাবী পুলিশের গুলিতে শাওন নিহত হয়েছে।

 

 

একই সাথে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে ১০ থেকে ১২ জন সদস্য আহত হন। যুবদল নেতা নিহত শাওনকে নিয়ে এখন সারা দেশে আলোচনা তুঙ্গে। সবচেয় বড় বিষয় এখন শাওনকে নিয়ে আওয়ামীলী এবং পুুলিশ প্রশাসন বলছে সে আওয়াীমী লীগের কর্মী। অন্যদিকে শাওনের ফেসবুক প্রোফাইল বলছে যে, সে যুবদল নেতা।

 

 

এদিকে বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে তার ছবিও রয়েছে। সংঘর্ষের দিন শাওনকে যুবদলের মিছিলের প্রথম সারিতে দেখা যায়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন খান সহ কয়েকজন নেতৃবৃন্দ শাওনকে ধরাধরি করে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপতালে নিয়ে যান।

 

 

তবে যুবদল নেতা শাওন হত্যা নিয়ে নাগরিক সমাজ থেকে নানা প্রশ্ন তুলেন। এই শাওন হত্যা নিয়ে ইতোমধ্যে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায়  পাচঁ হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত নামা আসামী করে মামলা হয়। সচেতন মহল প্রশ্ন তুলেন আজকে শাওন মারা যাওয়াতে তাকে নিয়ে কেন দুই দল নিজেদের কর্মী দাবী করছেন; এই হত্যার কি আদৌ বিচার হবে।

 

আজকে শওানকে নিয়ে সরকারি দলের মন্ত্রী পর্যন্ত বক্তব্য দিচ্ছে। অন্যদেিক গতকাল শুক্রবার বিএনপির মহসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিহত শাওনের পরিবারকে সমবেদনা জানতে আসেন। সেই সাথে তাদের হাতে নগদ অর্থ সাহায্য দিয়ে যান।

 


খোঁজ নিয়ে জানাযায়, যুবদল কর্মী শাওন নিহতের পেরিয়েছে ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময়। এখনও পর্যন্ত দোষীদের খুঁজে বের করা না গেলেও শাওনের রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।

 


আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মহল থেকে তাকে যুবলীগ নেতা উল্লেখ করে ফতুল্লা থানা আ' লীগের সেক্রেটারির ভাতিজা দাবি করা হয়েছে। এমনকি জেলা পুলিশ সুপারও শাওনকে আ'লীগ নেতার ভাতিজা হিসেবে উল্লেখ করে; তিনি যুবদলের কর্মী নয় বলে জানান।  অথচ বিএনপি'র হয়ে করা শাওনের অসংখ্য রাজনৈতিক কর্মকান্ডের ছবি, ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।

 


নিহত যুবদল নেতা শাওনের ফেসবুক আইডিতে লেখা দেখা যায় 'কর্মীর চেয়ে বড় পদ নেই, সাক্ষী দেহের ঘামে ভেজা নগরীর রাজপথ, ফতুল্লা থানা যুবদল জিন্দাবাদ'" নিজের ফেসবুক প্রোফাইলের বায়োতে এমনটিই লিখে রেখেছিলেন শাওন। কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সদস্য সাদেকুর রহমান গ্রেফতার হলে তার মুক্তি চেয়ে প্রোফাইলে পোস্ট করা ব্যনারেও নিজের ছবি রেখেছিলেন তিনি।

 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বক্তাবলী ইউনিয়ন বিএনপি'র দুজন নেতা জানান, শাওন যুবদলের ১নং ওয়ার্ড কমিটির সেক্রেটারি পদে আসতে আগ্রহী ছিলেন। সে লক্ষে কর্মকান্ডও চালাচ্ছিলেন, ১ নম্বর ওয়ার্ডের যুবদল নেতা তিনি। ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইসহাক সরকার, সাবেক কেন্দ্রীয় যুবদল সদস্য সাদেকুর রহমান ব্যক্তিগতভাবে শাওনকে চিনতেন। তাদের সাথে অনেক কর্মসূচিতে তাকে দেখা গেছে।

 


ফতুল্লা থানা যুবদল নেতা সেলিম জানান, শাওন পরীক্ষিত যুবদল নেতা। কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা সাদেক ভাইয়ের সাথে তার ভালো সম্পর্ক। তাছাড়া বৃহস্পতিবার সে আমার সামনে মিছিলে থেকে গুলিবিদ্ধ হন। পুলিশ তাকে গুলি করে হত্যা করেছে। একটা কুচক্রী মহল শাওনের ত্যাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য উঠে পরে লেগেছে; আমরা এই মর্মান্তিক হত্যার বিচারের দাবী জানাই।

 


নারায়ণগঞ্জে বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচীতে পুলিশ গুলি করে যুবদল কর্মী শাওনকে হত্যা করেছে বলে দাবি করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের শাওন গণতন্ত্রের জন্য গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য প্রাণ দিয়েছে । সে যুবদলের প্রমানিত ও পরীক্ষিত একজন সক্রিয় কর্মী। দলীয় কর্মসূচীতে তার অংশগ্রহণের অনেক ছবি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে। তার চাইতে বড় পরিচয় সে এদেশের নাগরিক তাকে পুলিশ এভাবে গুলি করে মারতে পারে না। অবিলম্বে শাওন হত্যাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।’



রাজনৈতিক বোদ্ধামহলে আলোচনা হচ্ছে নিহত শাওনকে নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বলছে সে তাদের দলের কর্মী। আর তার রাজনৈতিক কর্মকান্ড বলছে সে যুবদলের নেতা। সে এখন নিহত হওয়ায় তাকে নিয়ে দুই দল কাড়াকাড়ি করছে।



ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও বক্তাবলী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শওকত আলী বলেন, শাওন বিএনপির করত তা আমাদের পরিবারের কেউ জানত না। সে ২৭ আগষ্ট শামীম ওসমানের সভায় উপস্থিত ছিলেন; সে আমার ভাতিজা হয়।

 

 

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার সকালে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিকে ঘিরে বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে; সেই সময় সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন শাওন আহম্মেদ রাজা। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন