# মামলার আগেই পুলিশ বলেছে শাওন আ’লীগ পরিবারের লোক : সাখাওয়াত
# চোখের সামনে কর্মী মারা গেছে, তার প্রতি দায়িত্ব পালনই এখন বড় : রোজেল
# সত্যিটা কি, একদিন তা বেরিয়ে আসবেই : মামুন মাহমুদ
# এই ঘটনা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে সরানোর জন্য : সেন্টু
বিএনপি ও পুলিশের মধ্যকার সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে যুবদল কর্মী শাওন আহমেদ নিহতের ঘটনায় বিএনপির ৫ হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শাওনের পরিবারের পক্ষ হতে দায়ের করায় মামলায় হতবাক হলেও বিচলিত নন নারায়ণগঞ্জ বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ। তাদের দাবি শুধু গতকালই নয়, শাওন যে এর আগে বিএনপির বিভিন্ন সভা সমাবেশে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন তা সংবাদ মাধ্যম ও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার সংবাদ ও ছবি দেখলেই প্রমাণ হয়ে যাবে।
এমনকি সে লুকিয়ে লুকিয়ে বিএনপি করতো বলে পরিবার থেকে যে দাবি তোলা হচ্ছে তাকেও ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন তারা। মিডিয়ার বিভিন্ন ছবি দেখলে এবং শাওনের ফেসবুক আইডি যাচাইসহ বিচার বিভাগীয় তদন্ত করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে মনে করেন বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
তাছাড়া শাওনের পরিবার কি কারণে কার বিরুদ্ধে মামলা করেছে সেই বিষয়টি নিয়ে না ভেবে শাওনের বিষয়ে করণীয় কি তা নিয়ে ভাবতে চাচ্ছেন তারা। বাকি বিষয়গুলোকে তারা মিডিয়া, জনগণ এবং বিচার বিভাগীয় তদন্তের হাতে ছেড়ে দিতে চান। বিএনপি নেতৃবৃন্দের বিশ্বাস প্রকৃত হত্যাকারীদের বিষয়ে মিডিয়া, জনগণ, বিএনপির নেতাকর্মী এবং পুলিশ প্রশাসনও জানে।
এই বিষয়ে ফতুল্লা বিএনপির আহবায়ক জাহিদ হাসান রোজেল বলেন, ‘শাওন আমাদের কর্মী এটাই বড় বিষয়। মামলায় পরিবার কি বলল না বললো তা পরিবারের বিষয়। শাওন তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত থেকেই শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শ ধারণ করে। সে আমাদের একজন কর্মী হিসেবে তার প্রতি আমাদের দায়-দায়িত্ব রয়েছে।’
‘আমরা আসামী কতটুকু হইলাম না হইলাম কে আমাদের আসামী করলো সেটা এখন আমরা ভাববো না, আমাদেরকে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। ভাবতে হবে শাওনের হত্যা কেন ঘটলো, কারা ঘটালো। তিনি বলেন, এটা দিবালোকের মতো সত্য। নারায়ণগঞ্জে আমরাতো দীর্ঘদিন যাবত শান্তিপূর্ণ মিছিল করছি, বড় বড় সমাবেশ করেছি, কোথাওতো কিছু হয়নি।’
‘অথচ এমন একটি র্যালি যেখানে সরকার পতনের কোন আবেদন নাই। জাতির কাছে উপস্থাপন করার জন্য বিএনপির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালনের একটি আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছি আমরা। এখানে বিশৃঙ্খলা করার কিছুই নেই। এখানে প্রশাসনের নির্বিচারে গুলি করা, যা মিডিয়ার বদৌলতে নারায়ণগঞ্জ এলাকার জনগণসহ পুরো জাতি দেখেছে।’
‘ছেলেটি আমাদের সাথে কর্মসূচীতে থেকে আমাদের চোখের সামনে এভাবে মারা গেছে। আমাদের একজন কর্মী হিসেবে তার দায়-দায়িত্ব আমরা এড়াতে পারি না। যতদিন বিএনপি থাকবে ততদিনে সে বিএনপির নেতাকর্মীদের হৃদয়ে একজন কর্মী হিসেবে সে বেঁচে থাকবে।’
এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সবুর খান সেন্টু বলেন, ‘শাওন আমাদের কর্মী এ বিষয়ে কোন প্রকার সন্দেহ নাই। এখন হয়তো অনেকে প্রভাব খাটিয়ে বিষয়টিকে অন্যদিকে প্রবাহিত করার চেষ্টা করবে। কিন্তু কখনও বিচার বিভাগের তদন্ত হলে প্রকৃত হত্যাকারী কে তা কোন না কোনদিন বের হয়ে আসবেই।’
তিনি বলেন, ‘যে কোন দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর র্যালি করার সময় আমরা দেখে এসেছি প্রশাসনের সদস্যরা তাদের স্কাউট করে নিয়ে যায়। কোন প্রকার অনাকাঙ্খিত ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করার জন্য তারা সহযোগিতা করে। কিন্তু সেদিন এমন কি ঘটলো যে, তারা কোন প্রকার উস্কানী ছাড়াই র্যালিতে লাঠিচার্জ, টিয়ার শেল নিক্ষেপসহ গুলি ছুঁড়তে হলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস বর্তমানে দেশের দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে জনগণের মধ্যে যে প্রতিবাদ প্রতিরোধের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে সেদিক থেকে জনগণের দৃষ্টি সরানোর জন্যই এই হামলার ঘটনা ঘটেছে।’
মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, ‘গতকালের (বৃহস্পতিবার) ঘটনায় কারা গুলি চালিয়েছে তা সেখানে উপস্থিত নারায়ণগঞ্জবাসীসহ মিডিয়া কর্মীরা দেখেছে। বিএনপির নেতাকর্মীগণ সবাই ছিল নিরস্ত্র। পুলিশের গুলিতে যে শাওন মারা গেছে তা সকল মিডিয়ায়ই আসছে।’
‘এখন আমরা যতটুকু জানতে পেরেছি ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী, বক্তাবলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান (শওকত আলী) ঐ পরিবারকে জিম্মি করে এধরণের একটি এজাহার করতে বাধ্য করেছে। বিষয়টি নারায়ণগঞ্জসহ সারা বাংলাদেশের মানুষই বুঝতেছে। মানুষের ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকারও খর্বিত হচ্ছে। নিরস্ত্র মানুষকে যদি এই ধরণের মামলায় জড়িত করা হয়, এটা খুবই দুঃখজনক।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘মামলা হওয়ার আগেই, আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে দাবি করার আগেই নারায়ণগঞ্জ পুলিশের পক্ষ হতে বলে দেওয়া হলো যে, শাওন আওয়ামী লীগ পরিবারে লোক। সে বিএনপি বা যুবদলের কারও সাথে জড়িত না। অথচ সে গতকালও আমাদের মিছিলে অংশগ্রহণ করেছে যার ছবি বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে।’
‘এর আগের অনেক ছবি আছে, তার ফেসবুক আইডির মধ্যেও অনেক ছবি আছে যা প্রমাণ করে সে বিএনপির কর্মী। সেই ছেলেকে হত্যা করলো পুলিশ।’
জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অধ্যাপক মামুন মাহমুদ বলেন, ‘সত্যকে কখনো মিথ্যে দিয়ে ঢাকা যায় না। সে আমাদের সাথে র্যালিতে ছিল এবং অগ্রভাগেই ছিল। আপনারা মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন ভিডিও ছবিতে তা দেখেছেন। সে আমাদের সাথে মিছিলে থাকাবস্থায় অপজিশন থেকে আসা গুলিতে বিদ্ধ হয়েছে।’
আপনারা সংবাদ মাধ্যমে আরও দেখেছেন, ‘আমাদের মিছিলের লোকজন ছিল শান্ত ও সম্পূর্ণ নিরস্ত্র। এখানে উপস্থিত সাংবাদিকসহ নারায়ণগঞ্জবাসী সবাই দেখেছেন। তিনি বলেন, আমরা পুরো সড়কও বন্ধ করিনি। দুই লেনের সড়কের মধ্যে আমরা একটি লেন ব্যবহার করে অন্য লেনটি উন্মুক্ত রেখেছি।’
‘আমাদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ হতে এই হামলাটা অনেকটা উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই করা হয়েছে। পরবর্তীতে আমাদের নেতাকর্মীরা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছে। সে অবস্থায় পুলিশ অসংখ্য গুলি করেছে। যারফলে আমাদের শতাধিক নেতাকর্মী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। সে অবস্থায় আমাদের কর্মী শাওন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।’
মামলায় বিষয়ে আমি যা শুনেছি, ‘তাহলো শাওনের বড় ভাইকে গতকাল থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত থানায় তাকে বসিয়ে রেখে এজাহার করে তার কাছ থেকে স্বাক্ষর আদায় করা হয়। এর পরে শাওনের দেহ হস্তান্তর করে পুলিশ। তার মানে অনেকটা জিম্মি করেই তাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে বলে আমরা শুনেছি।’
আজকে আমাদের দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যখন তাদের বাসায় যায়, ‘তারা সকলেই এই ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। সেখানে সত্যিটা উঠে এসেছে। সেখানে উপস্থিত সকলেই তা দেখেছে এবং শুনেছে। এখানে কেউ আড়াল করতে চাইলেও এই সত্যিটাকে আড়াল করতে পারবে না। একদিন না একদিন তা বেড়িয়ে আসবেই।’ এন.এইচ/জেসি


