# সোনারগাঁ গেলেই রোষানলে পড়েন তিনি
জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হওয়ার পর থেকেই নানা সিদ্ধান্তের কারণে সোনারগাঁ যেন অপয়া হয়েই ধরা দিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের জন্য। এই সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টির এমপির দ্বারা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেনের নাম ফলক ভাঙার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে মুখ ফসকে একটা কথা বলে ফেলেছিলেন জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম।
কারণ না দর্শানোর নোটিশ দিয়ে সরাসরি বহিঃষ্কার করে বিপাকে পড়েছিলেন আব্দুল হাই। পরে জেলা আওয়ামীলীগের ৩৭ সদস্য স্বাক্ষরিত চিঠিতে জাহাঙ্গীর আলম আবার স্বপদে ফিরেন। এর পরের ঘটনা তো আরো করুণ। ২০১৯ সনের ১৫ জুলাই সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের আহবায়ক কমিটি এক প্রেস রিলিজের মাধ্যমে ঘোষণা দেন সভাপতি আবদুল হাই ও সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ বাদল।
সেই বিতর্কিত কমিটি দিয়ে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য আমেরিকায় ছিলেন আবদুল হাই। এরপর দেশে ফিরে সেই কমিটিকে শক্তিশালী করতে সোনারগাঁয়ে গিয়ে ঘটে বিপত্তি। সোনারগাঁয়ে আওয়ামীলীগ নেতাদের তোপের মুখে পড়েন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সেক্রেটারি আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদল।
সোনারগাঁয়ের নেতা কর্মীদের ধাওয়া খেয়ে দৌঁড়ে পালিয়ে বাঁচেন কোনক্রমে। যা বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ তখন নেতাকর্মীদের মাঝে প্রকাশ পায়। পরবর্তিতে প্রায় বছর খানেক পরে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনায় তা বাতিল করে পুনরায় আহবায়ক করা হয়। সেই কমিটি এড. সামসুল ইসলামকে বহাল রেখে আব্দুল্লাহ কায়সার হাসনাতকে যুগ্ম-আহবায়ক করে কমিটি করা হয়। যা গতকাল ওই কমিটি বিলুপ্ত করে সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এদিকে বহু আলোচনা সমলোচনা নাটকীয়তার পর সম্মেলনের মাধ্যমে ঘোষণা হল সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটি। কিন্তু কাঙ্খিত আশানারূপ কমিটি ঘোষণা না হওয়ার সাথে সাথেই সম্মেলন মঞ্চেই নেতা কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তারা উত্তোজিত হয়ে সম্মেলন মঞ্চের মাইক নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের উদ্দেশ্যে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের ঘোষণাকে ভুয়া কমিটি বলে স্লোগান দিতে শুরু করে, তৃণমূলনেতাকর্মীরা।
সেই সাথে একাধিক নেতা কর্মী আবদুল হাইকে উদ্দেশ্য করে বলে উঠে কয় টাকা খেয়ে এই কমিটি ঘোষণা করতে এসেছে। তাছাড়া তাকে তো এর আগেও সোনারগাঁ থেকে দৌড়ানি দেওয়ানো হয়েছে। তখন তিনি কর্মীদের রোষানলে পড়ে ব্যাপক লাঞ্ছিত হন। তবে স্থানীয় কর্মীরা বলা-বলি করেন, সম্মেলনে দেইখা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ আছে আর না হয় আজকেও তাকে দৌঁড়েও পালিয়ে যেতে হত। কেননা তাদের কারণে এই সোনারগাঁ আওয়ামীলীগ বিভক্ত হয়ে আছে। তারা টাকা খেয়ে উল্টা পাল্টা কমিটি দিয়ে যায়।
উপস্থিত অনেক নেতা জানান, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই সোনারগাঁ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ঘোষণা করার পর ভূয়া কমিটি বলে স্লোগান দিতে থাকে। এমনকি কয়েকজন কর্মী তাকে দালাল বলে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। এসময় কর্মীদের রোষানলে পড়তে পারেন বুঝতে পেরে দ্রুত সম্মেলন মঞ্চ ত্যাগ করেন জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি।
একই সাথে তারা সোনারগাঁ নতুন কমিটির সভাপতি এড. সামসুল ইসলামকে মেনে না নিয়ে তাকে প্রত্যাখান করেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে দাবী জানিয়ে বলেন, সোনারগাঁয়ের নবাগত সভাপতিকে জোর করে তৃণমূল নেতা কর্মীদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। কেননা সোনারগাঁয়ে এই সভাপতির কোন কর্মী নেই বলে তারা জানান।
সামসুল ইসলামকে ওই খানে স্থানীয় নেতারা ওয়ানম্যান আর্মি খ্যাত কর্মী শূন্য নেতা হিসেবে চিনেন। স্থানীয় নেতারা জানান, আবদুল হাই দলের জন্য ক্ষতিকর। তার মাধ্যমে দল সুসংগঠিত না হয়ে উল্টো আরও দলে মাঝে বিভক্ত বাড়ছে। তাই এখনি যদি তা দলীয়ভাবে সংশোধন না করা হয় তাহলে ভবিষ্যতে এর খেসারত নেতা কর্মীদের দিতে হবে।
আর এজন্য আবদুল হাইকে বার বার লাঞ্চিত হতে হবে। তাছাড়া মঞ্চ থেকে নামার সময় জেলা আওয়ামীলীগের এই সভাপতিকে সোনারগাঁয়ের স্থানীয় নেতা কর্মীরা গালিগালাজ পর্যন্ত করতে দেখা যায়। গাড়িতে উঠার আগ পর্যন্ত আবদুল হাইয়ের উপর ক্ষিপ্ত ছিল নেতা-কর্মীরা। এসময় পুলিশের উপস্থিতিতে গাড়িতে উঠেন আবদুল হাই। তাই রাজনৈতিক মহলে বলাবলি হচ্ছে সম্মেলনেও আব্দুল হাই লাঞ্ছিত। এন.এইচ/জেসি


