# পূর্ণাঙ্গ হওয়ার আগেই কমিটির মেয়াদ শেষ
নারায়ণগঞ্জে ৫টি উপজেলার মাঝে রুপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন সবার আগে অনুষ্ঠিত হলেও এই উপজেলায় সবার পরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পূর্বের আংশিক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। তারপরেও দীর্ঘ দিন পরে সকল আলোচনা সমালোচনা শেষে রুপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেয় জেলা আওয়ামীলীগ।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার জেলা আওয়ামলীগের সভাপতি ও সেক্রেটারি স্বাক্ষরিত ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির অনুমোদন দেয়া হয়। এই কমিটির সভাপতি পদে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন রুপগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূইয়া।
সহ-সভাপতি পদ পেয়েছেন মন্ত্রী গাজীর ছেলে গোলাম মুর্তুজা পাপ্পা। একই সাথে সদস্য পদে আছেন রুপগঞ্জ তারাবো পৌরসভার মেয়র হাসিনা গাজী। আওয়ামীলীগের উপজেলা কমিটিতে একই পরিবার ৩টির মাঝে ২টি গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে রেখেছেন মন্ত্রী গাজীর পরিবার।
তাই এটা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা তৈরী হয়েছে। তাছাড়া এই কমিটিতে যারা পদ পেয়েছে তারা সকলেই মন্ত্রী গাজীর অনুসারী। আর এজন্য রাজনীতিবীদরা মনে করছেন রুপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগকে কুক্ষিগত করার জন্য সম্মেলনের তিন বছর পর এই কমিটি।
এখানে একই পরিবারের তিন জন না দিয়ে ওই পদ গুলোতে ত্যাগী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসার সুযোগ দিলে দল আরও শক্তিশালী হত বলে মনে করেন স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। কিন্তু মন্ত্রী গাজীর সিদ্ধান্তে সেই প্রতিফলন দেখা যায় নাই।
এই ক্ষেত্রে উদার মানসিকতার পরিচয় দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী নেতা এমপি শামীম ওসমান। তিনি না চাওয়া সত্বেও ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগে সাংসদ শামীম ওসমানসহ তাদের পরিবারের তিন জনকে এক থেকে তিন নম্বর পর্যন্ত সদস্য রেখে ফতুল্লা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে শামীম ওসমানের পরিবারের সদস্যরা সেই কমিটির পদ থেকে নিজেরা পদ ত্যাগ করে অন্যদের সুযোগ তৈরী করে দিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেড় বছর আগে ফতুল্লা থানা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির ঘোষণা দেয়া হয়। সেই কমিটিতে প্রথম সদস্য রাখা হয় এমপি শামীম ওসমানকে, দ্বিতীয় সদস্য করা হয় জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি সালমা ওসমান লিপিকে এবং তৃতীয় সদস্য রাখায় অয়ন ওসমানকে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা সেই কমিটি থেকে শামীম ওসমানসহ তার পরিবারের সদস্যরা এই পদ থেকে পদত্যাগ করেন।
দলীয় নেতৃবৃন্দ জানান, শামীম ওসমান চান না এখনই তার স্ত্রী ও ছেলে প্রত্যক্ষ ভাবে রাজনীতিতে আসুক। এ বিষয়ে ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেও তাদের তিনজনের পরিবর্তে অপর তিনজন ত্যাগী নেতার নাম দিয়ে মূল্যায়িত করার মত দিয়েছেন শামীম ওসমান।
তার বিপরীতে মন্ত্রী গাজী রুপগঞ্জ উপজেলার সভাপতি হয়েও এখানকার পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে তারই ছেলে গোলাম মুর্তুজা গাজী পাপ্পাকে সহ-সভপতি পদ দিয়ে স্বজনপ্রীতি করেছে বলে একাধিক নেতৃবৃন্দ অভিযোগ তুলেন। তার মাঝে তারই স্ত্রী হাসিনা গাজী মেয়র থাকার পরেও তাকে সদস্য পদে রাখা হয়।
অথচ রুপগঞ্জে অনেক ত্যাগী নেতারা এই পদে আসার জন্য অপেক্ষা করেছিল কিন্তু তাদের সইে অপেক্ষা আর শেষ হলো না। এছাড়া ইতোমধ্যে রুপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটির মেয়াদও নেই। গত জুলাই মাসে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তিন বছর পর পর আওয়ামীলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠন হয়। হিসেব অনুযায়ী সম্মেলনের পরে রুপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের কমিটির মেয়াদ তিন বছর হয়ে গেছে।
এদিকে রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি যে মনগড়া এবং স্বেচ্ছাচারীভাবে করা হয়েছে তা নিয়ে সেখানে সমালোচনা চলছে। রূপগঞ্জের একজন সিনিয়র সাংবাদিক জয়নাল আবেদীন জয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিখেছেন, ‘প্রায় দুই যুগ পরে গঠন হওয়া রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে দেখলাম কয়েকজন নেতা তাদের ছেলেদের জায়গা করে দিয়েছেন।
পারিবারিবভাবে রাজনীতি রক্ষার ব্যতিক্রম কৌশল মন্দ না। সেটা নিয়ে আমার মাথা ব্যথা নেই। অনেক ত্যাগী নেতাকে বাদ দেয়া হয়েছে বা মূল্যায়ন করা হয়নি সেটা নিয়েও আমার মাথাব্যথা নেই। এমনও দেখলাম গত নির্বাচনে যার নাম আওয়ামী লীগে শুনি নাই বা চিনতাম না তিনিও রয়েছেন এই কমিটিতে। তাতে আমার কি..? এমন নেতাও আছেন যিনি কখনও জয় বাংলা শ্লোগান দেননি। তাতেও আমার অসুবিধে নেই। দুজন এমন নেতাও আছেন যারা ভিন্ন ভিন্ন ৪টি পদ দখল করে আছে। তাতে আমার কি..?’ আমার আসলে কোন কিছুতেই মাথাব্যথা নেই। একসময় ছাত্রলীগের সাথে আমার নাম জড়িত ছিল বলে একটু খারাপ লাগে; এটা ব্যাপার না। আমার আসলে কোন কিছুতেই মাথাব্যথা নেই। এসব নিয়ে কথা বলতেও চাইনা। এমনিতেই আমি অনেকের শত্রু। শত্রুতা আর ভালো লাগে না। এসব নিয়ে আমি কথা বলবো না।’
উল্লেখ্য, ২০১৯ সনের ১৬ জুলাই নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জ উপেজলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনের মাধ্যমে আংশিক কমিটি ঘোষণা হয়। তখন সর্বসম্মতিক্রমে রুপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের বিনা প্রতিদ্বন্ধিতায় সভাপতি নির্বাচিত হন রুপগঞ্জ ১ আসনের এমপি এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হন উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূঁইয়া।
এই বছরের গত জুলাই মাসে এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। দীর্ঘ তিন বছরে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে না পারায় তার ব্যর্থতার দায় সভাপতি সেক্রেটারি এড়িয়ে যেতে পারেন না। তাই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে শামীম ওসমান দলীয় নেতাদের সুযোগ করে দিতে পারলেও মন্ত্রী গাজী তা পারেন নাই।
তিনি ঠিকই তার পরিবারের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ পদ সহ দলীয় তিনটি পদ দখল করে নিয়েছেন। ফলে অন্যান্য রাজনীতিবিদরা তার এই কর্মকান্ডকে নিয়ে সমালোচনা করছেন। সেই সাথে ত্যাগী নেতাদের বাদ দিয়ে স্বেচ্ছা চারিতা করে নিজেরা পদ দখল করে রেখেছেন বলে খোদ দল থেকে অভিযোগ উঠে।
তার এই আচরণ থেকে নেতা কর্মীরা বুঝতে পারে তিনি শামীম ওসমানের মত উদার মানিসকতার হতে পারেন নাই। শামীম ওসমান পারলেও তিনি পারেন নাই। এন.এইচ/জেসি


