দেড় যুগেও আসেনি নতুন কমিটি, মুখ থুবড়ে পড়েছে ফতুল্লা যুবলীগ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৩:০৭ পিএম
নারায়ণগঞ্জ জেলায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী অঙ্গসংগঠনগুলো নড়বড়ে হয়ে যাচ্ছে ক্রমেই। কোন কোন সংগঠনে দেড় থেকে দুই যুগ অতিবাহিত হলেও আসেনি নতুন মুখ। আবার এক জন একাধিক পদ কুক্ষিগত করে রাখায় অনেকটা অনীহা চলে এসেছে তৃণমূল থেকে আসা দক্ষ ও যোগ্য কর্মীদের মাঝে।
ফতুল্লা আওয়ামী যুবলীগ এর মধ্যে অন্যতম; ফতুল্লা যুবলীগ এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। দেড় যুগের অধিক সময় ধরে আসেনি নতুন কোন কমিটি। নতুন নেতৃত্বের অভাবে কান্ডারি বিহীন হয়ে পড়েছে ফতুল্লা থানা যুবলীগ। নেই কোন নজরদারি জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের।
আবার এই কমিটির অনেকেই মূল দল জেলা আওয়ামী লীগের ও ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রবেশ করেছে। তাই নিজেদের এখন যুবলীগ পরিচয় দিতে অনীহা প্রকাশ করছে নেতারা। রয়েছে একাধিক যোগ্য নেতৃত্ব দেবার মত কর্মী। তবুও ফতুল্লা যুবলীগের নতুন কমিটিতে অনীহা।
শুধুমাত্র সাংসদ শামীম ওসমানের কোনো সভা হলে কিছু নেতৃবৃন্দকে সভায় উপস্থিত হতে দেখা যায়। কিন্তু এর বাইরের দলীয় কোনো কর্মসূচি নেই দলটির। অপরদিকে ফতুল্লা থানা ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগেরও একই অবস্থা।
দীর্ঘ ২৯ বছর পর ফতুল্লা ইউনিয়ন পরিষদের মানুষ ভোটাধিকার পেয়ে নতুন চেয়ারম্যান পেলেও প্রায় দেড় যুগ ধরে একই পদে বহাল আছে ফতুল্লা থানা যুবলীগ কমিটির নেতা-কর্মীরা। এই কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাদে বাকিদের আর যুবলীগের কার্যক্রমে দেখা বা পাওয়া যায় না।
জানা যায়,সর্বশেষ ২০০৫ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের তৎকালীন সভাপতি আব্দুল কাদির ও সাধারণ সম্পাদক এড.আবু হাসনাত মোঃশহীদ বাদল স্বাক্ষরে মীর সোহেল আলীকে সভাপতি এবং ফাইজুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠিত হয়েছিলো ফতুল্লা থানা যুবলীগ কমিটি।
দীর্ঘ দেড় যুগ পার হয়ে গেলেও এখনো আসেনি এই কমিটির নতুন কোন নেতৃত্ব। তৎকালীন নির্বাচিত নেতারাও এখন আর নিজেদের যুবলীগ নেতা পরিচয় দিতেও স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে না, কেননা জেলা আওয়ামী লীগ এবং ফতুল্লা থানা আওয়ামী লীগের কমিটিতে অনেকেই পেয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদ।
ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি মীর সোহেল আলী বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, থানা আওয়ামী লীগ কমিটির সহ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেহান শরীফ বিন্দু হয়েছেন। এর মাধ্যমে উনারা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। যার ফলে নেতৃত্বশূন্য হয়ে গিয়েছে ফতুল্লা থানা যুবলীগ।
অন্যদিকে ফতুল্লা থানা যুবলীগের নেতৃত্ব শূন্যতায় তীব্র হতাশা বিরাজ করছে তৃণমূল পর্যায়ে। যার ফলে ফতুল্লা থানার অন্তর্ভুক্ত প্রতিটি ইউনিয়ন, ওয়ার্ডের যুবলীগ কর্মীরা মূল্যায়ন পাচ্ছে না জেলায় বা কেন্দ্রে গিয়ে। বর্তমান জেলা কমিটির প্রতিটি কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট নেতৃত্ব ছাড়াই যে যার মতো করে অংশগ্রহণ করছে।
অথচ দীর্ঘদিনের কর্মকান্ডের মূল্যায়নস্বরূপ ফতুল্লা থানা যুবলীগের নতুন কমিটি গঠন না হওয়ায় তৃণমূল পর্যায়ের তীব্র হতাশা লক্ষণীয়। মেয়াদোত্তীর্ন এবং নেতৃত্বশূন্য ফতুল্লা থানা যুবলীগ কমিটির পূণর্গঠন এখন তৃণমূল কর্মীদের সময়ের দাবী।
ফতুল্লা থানা যুবলীগ কমিটিতে দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব দেবার নেতা থাকলেও অবহেলা করে দেওয়া হচ্ছে না নতুন কমিটি। এর ফলে ফতুল্লা থানা যুবলীগের অনেক সদস্য ও কর্মীরা রাজনীতি ছেড়ে অনেকটা বিভিন্ন পেশা ও অপরাধের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ফতুল্লা থানায় ভবিষ্যৎ যুবলীগ কর্মী শূন্য হতে বেশি সময় লাগবে না বলে মনে করছেন অনেক নেতারা।
তারা আরো মনে করছে এক মীর সোহেল আলীতেই ফতুল্লা থানা যুবলীগ চলছে। মীর সোহেল আলী, ফাইজুল ইসলাম ছাড়া অন্য কোন নেতাকর্মীকে দেখা যায় না। তবে এর মধ্যে মীর সোহেল আলী অন্যান্য কর্মসূচীতে কিঞ্চিত সক্রিয় থাকলেও বাকিদের শামীম ওসমানের কর্মসূচী ছাড়া ফতুল্লায় অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়াও দুষ্কর হয়ে যায়।
ফতুল্লা থানায় আদৌ নতুন কমিটি হবে নাকি যারা আছে তাদের দিয়েই ফতুল্লা যুবলীগের কমিটি চলবে এবিষয়ে জানতে সাধারণ সম্পাদক ফাইজুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্র থেকে প্রতিটি জেলা কমিটি হয়ে ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন হবে তারপর থানা পর্যায় কমিটি গঠন করা হবে।’
আপনি মূল দলের জেলায় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদে থেকেও প্রায় দেড় যুগ চলছে একই পদে আছেন নতুন কমিটি না হবার পিছনে কারণ কি? ফতুল্লায় যুবলীগে নেতৃত্ব দেবার মত যোগ্য কেউ কি নেই? এমন প্রশ্নের জবাবে মীর সোহেল আলী বলেন, ‘বর্তমান আমাকেই বহাল রেখেছেন। তবে অতিদ্রুত নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবলীগের কমিটি হবে। তারপরই থানা ও ওয়ার্ড ভিত্তিক যুবলীগের নতুন কমিটি গঠন করা হবে।’
ফতুল্লা থানায় যুবলীগের নতুন কমিটি আসবে কিনা জানতে জেলা যুবলীগের সভাপতি আব্দুল কাদিরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘গতকাল আমাদের কথা হয়েছে কেন্দ্রে, আমাদেরকে ডেকেছে। বর্ধিত সভা হবে তারপর নতুন কমিটি দেওয়া হবে।'
ফতুল্লা থানায় কি যুবলীগের কোন সদস্য নেই বা নেতৃত্ব দেবার মত কোন যোগ্য কর্মী নেই যে কারণে আপনারা কমিটি দিচ্ছেন না এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই জানান, ‘থানা কমিটি আমরা করবো কেনো? উপজেলা বা থানা আওয়ামী লীগ আছে তারা করবে। থানা আওয়ামী লীগ কাউন্সিল বা সম্মেলন করে কমিটি করবে। এটা তারা জানে; আমাদের কাজ কেন্দ্রকে জানানো।’ এন.এইচ/জেসি


