সোনারগাঁয়ে শক্তিশালী জাতীয় পার্টি
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৭:০৯ পিএম
# শক্তিশালী সংগঠনে রূপ দিতে সকল অবদানই লিয়াকত হোসেন খোকার : নাঈম ইকবাল
টানা দ্বিতীয় মেয়াদে নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁ সংসদীয় আসন থেকে মহাজোটের অন্যতম দল জাতীয় পার্টি নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে। ২০১৪ সালে প্রথম বারের মত নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন থেকে সংসদ নির্বাচিত হয় লিয়াকত হোসেন খোকা কিন্তু সেসময় সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টি সাংগঠনিক ভাবে তেমন শক্তিশালী ছিল না এই দলটি। কিন্তু টানা দ্বিতীয় মেয়াদে লিয়াকত হোসেন খোকা সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টির সংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মাথা তুলে দাড়াতে থাকে এই দলটি। বর্তমানে নারায়ণগঞ্জে সাংগঠনিকভাবে সবচেয়ে তৎপর এবং শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়েছে সোনারগাঁ থানা জাতীয়পার্টি।
সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারাযাণগঞ্জ-৩ আসন থেকে এমপি হন লিয়াকত হোসেন খোকা। তিনি তখন জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় একজন নেতা ছিলেন এবং জাতীয় পার্টি থেকেই তাকে প্রথমবারের মত মনোনয়ন দিয়ে মহাজোটের প্রার্থী করা হয়। তিনি এমপি হওয়ার আগে সোনরাগাঁ জাতীয় পার্টির এমপি হওয়ার আগে সোনারগাঁ জাতীয় পার্টির চোখে পড়ার মত কার্যক্রম ছিল না। কিন্তু তিনি সোনারগাঁয়ে এমপি হওয়ার পর ব্যাপক উন্নায়নের মাধ্যমে সোনারগাঁয়ের সাধারণ মানুষের নজর কারে এবং তার উন্নায়ন কর্মকান্ড পুরো সোনারগাঁ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে সাধারণ মানুষ তার উন্নায়নে মুগ্ধ হয়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে যোগদান করতে শুরু করে।
যার প্রভাবে বিভিন্ন দলের নেতা থেকে শুরু করে স্থানীয় জনপ্রতিধিরা তার দলে যোগদান করতে শুরু করে। পরবর্তীতে জাতীয় পার্টি ও দলের সহযোগী অঙ্গসংগঠনের থানা ইউনিয়ন ওয়ার্ডের কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করা হয়। এক পর্যায়ে সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টির রাজনীতি বেশ সক্রিয় হয়ে উঠে পুরো সোনারগাঁ জুড়ে। লিয়াকত হোসেন খোকার ব্যাপক উন্নায়নে জনগণের তীব্র দাবির প্রেক্ষিতে আবারও একাদশ সংসদ নির্বাচনে তাকে জাতীয় পার্টি থেকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে লাঙ্গল প্রতীক দেয়া হয় এবং সে নির্বাচনে জনগণের স্বতঃফূত ভোটে তাকে বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী করে তুলে।
তারপর আবারও শুরু করে দেন বিভিন্ন উন্নায়নমূলক কর্মকান্ড এবং জাতীয় পার্টিকে সুসংগঠিত করতে থাকেন। যার ফলশ্রুতিতে ২০২০ সালের ১৭ অক্টোবর সম্মেলনের মাধ্যমে দলের চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আব্দুল রউফকে সভাপতি এবং আবু নাঈম ইকবালকে সাধারন সম্পাদক করে সোনারগাঁ জাতীয় পার্টির কমিটি ঘোষনা করা হয়। কিন্তু এর মধ্যে ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল মামুনুল হকের অবরুদ্ধ ঘটনায় হেফাজত নেতারা তান্ডব চালানোর সে ঘটনায় জাতীয় পার্টির নেতাদের মামলা দিয়ে সোনারগাঁ জাতীয় পার্টির রাজনীতিকে নিস্ক্রিয় করে ফেলে। কিন্তু আবারও এই মামলা কাটিয়ে উঠেই একের পর এক চমক দেখাচ্ছেন সোনারগাঁ থানা জাতীয় পার্টি।
সুত্র জানায়, আমরা আগে থেকেই আমাদের দলের বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গসংগঠনের কমিটি গুলো করার কাজ করছিলাম কিন্তু হঠাৎ মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের রাজনীতির মাঠ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়া হয়। যার কারণে কমিটি দিতে একটু বিলম্ব হয়েছে এখন আবার আমরা জাতীয় পার্টির বিভিন্ন ইউনিয়ন কমিটিগুলো করছি এবং সহযোগী অঙ্গসংগঠনের কমিটি গুলো পূণাঙ্গ করে ইউনিয়ন ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি দেয়ার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। সূত্র আরও জানায় সোনারগাঁ থানা জাতীয় পার্টি আগের তুলনায় সাংগঠনিকভাবে সবচেয়ে তৎপর এবং শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযম বলেন, ‘সোনারগাঁয়ে কিন্তু এর আগে নৌকা প্রার্থী দেয়া হয়েছে তখন নিজেরা গ্রুপিং এবং ভেদাভেদ সৃষ্টি করে নৌকাকে ডুবিয়ে দেয়ার নজির আপনাদের আছে। আবার আওয়ামী লীগের প্রার্থী দেয়া হবে আর আপনারা নিজেদের মাঝে গ্রুপিং করে নৌকাকে ডুবাবেন তার চেয়ে জাতীয় পার্টিকে দেয়া অনেক ভালো’।
সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে দাবি করছিল আওয়ামী লীগের জেলা থেকে সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টির প্রার্থী যেন না দেয়া হয় এ নিয়ে জোর দাবি চলছিল যার বহিঃবিকাশ ঘটায় সম্মেলনেও কিন্তু আওয়ামী লীগের ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আযম তার বক্তব্যে সব ক্লিয়ার করে দেন। তারপর এই বক্তব্য নিয়ে জাতীয় পার্টি এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা তৈরী হয়। এই বক্তব্যের পর সোনারগাঁয়ের জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা আবার নিশ্চিত হয়ে যায় ২০২৩ সালের নির্বাচনেও এখানে জাতীয় পার্টি থাকতে পারেন তার বক্তব্যে এমন ইঙ্গিত পায় সোনারগাঁয়ের জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও সোনারগাঁ উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক নাঈম ইকবাল জানায়, সোনারগাঁ জাতীয় পার্টিকে একটি শক্তিশালী সংগঠনে রূপ দিতে সকল অবদানই এমপি লিয়াকত হোসেন খোকার। তিনি সংসদ হওয়ার পর থেকেই জনগণের সাথে মিশে গেছে এলাকায় উন্নায়ন করেছে। বড় বড় উন্নায়নমূলক কাজগুলো সরকার থেকে নিয়ে এসে বাস্তবায়ন করেছে এবং এই কাজ গুলোর মধ্যে সোনার গাঁয়ের সকল জনপ্রতিনিধিকে সম্পৃক্ত করে কাজগুলো সম্পন্ন করেছে। যার কারণে সকল শ্রেণীর মানুষ তার কাছে এসে এই সংগঠনে যোগ দিচ্ছে।
২০২১ সালের হেফাজতের ঘটনায় সোনারগাঁয়ে জাতীয় পার্টি নেতাদের মামলা দিয়ে নিস্ক্রিয় করার চেষ্টা করেছিল। ঘটনা ঘটিয়েছে হেফাজত কিন্তু মামলার আসামী করা হয়েছে জাতীয় পার্টিকে। প্রকৃত হেফাজত নেতা এবং প্রকৃতভাবে এ ঘটনায় যারা জড়িত মামলায় তাদের নামই দেয়া হয় নাই। এসবের একটাই কারণ আওয়ামী লীগ যেন সোনারগাঁয়ে মনোনয়ন পায় এবং লিয়াকত হোসেন খোকাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা যায়। পরবর্তীতে এমপি খোকা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবর দরখাস্ত করে প্রকৃত বিষয় যাচাই বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার অনুরোধ জানায় এবং এখনো এ বিষয়ে যাচাই বাছাই চলছে।
তবে এ বিষয়ে তদন্ত করা দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিআইজি সুপারিশ করে গেছে আমরা এসব বিষয়ে জড়িত নয়। কিন্তু মামলা হামলা দিয়ে রাজনীতি থেকে নিস্ক্রিয় করতে পারবে না তারা আমরা আগের তুলনায় আরো জুড়ালো ভাবে সংক্রীয় আছি এবং আগের তুলনায় আরো শক্তিশালী হয়ে একটি শক্তিশালী সংগঠনে পরিণত হয়েছি। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ নেতার বক্তব্যের ব্যাপারে তিনি বলেন, আওয়ামীলীগ এই নেতা যা বলেছে বাস্তব বলেছে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন কোন্দলে বিভক্ত এই বাস্তব কথাটি তিনি প্রকাশ করে গিয়েছে আওয়ামী নেতাদের উদ্দেশ্যে ।


