# নেতৃত্বগুণই জাদু দেখাচ্ছে, তৃণমূল উজ্জীবিত
বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল (বিএনপি) বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। দলটির প্রতিষ্ঠাতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যার পর ১৯৯১ সালে তার সহধর্মিনী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর সারা বাংলাদেশে আবারও সুসংগঠিত হয় দলটি। তখন থেকেই বাংলাদেশের অন্যতম শিল্প ও বাণিজ্য সমৃদ্ধ জেলা নারায়ণগঞ্জেও এর প্রভাব পড়ে। তৎসময় নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিজয়ী হয়। এর মধ্যে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রনালয় অর্থাৎ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয় নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ আসনের (নারায়ণগঞ্জ-১) সাংসদ আব্দুল মতিন চৌধুরীকে।
এরপর ২০০১ সালে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ার পর সোনারগাঁও আসনের (নারায়ণগঞ্জ-৩) নির্বাচিত সাংসদ রেজাউল করিমকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়াও ১৯৯১ ও ২০০১-এ বিএনপির শাসনামলে নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে বেশ দাপটের সাথেই অবস্থান করেছিল বিএনপি। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জ শহর কেন্দ্রীক বিএনপির রাজনীতিতে সাংসদ এডভোকেট আবুল কালাম, সাংসদ সিরাজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন দাপুটে নেতার প্রভাব ছিল চোখে পড়ার মতো।
’৯৬-এ যখন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে তখনও নারায়ণগঞ্জের একটি আসন (নারায়ণগঞ্জ-৩ সোনারগাঁ) ধরে রাখে বিএনপি। এরপর ২০০১ সালে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে নারায়ণগঞ্জ রাজনীতির সিংহ পুরুষ খ্যাত একেএম শামীম ওসমানকে পরাস্ত করে বিএনপির মনোনয়নে সাংসদ নির্বাচিত হন তখনকার সদ্য আওয়ামী লীগ থেকে এসে বিএনপিতে যোগদান করা প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন। এরপর ২০০৬-এ ক্ষমতা ছাড়ার পর বিভিন্ন কারণে ব্যাকফুটে চলে যায় বিএনপি। এরই মধ্যে রাজনৈতিক চাপ ছাড়াও আভ্যন্তরীণ রেষারেষিতে অনেকটাই কোনঠাসা হয়ে পড়ে দলটি।
তবে এই বছরে প্রায় শুরু থেকেই ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করে বিএনপি। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে অবস্থান নিতে শুরু করে দলের নেতাকর্মীগণ। বিএনপির একাধিক সূত্র জানায়, নাসিক নির্বাচনে তৎকালীন জেলা বিএনপির আহবায়ক এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকারের অংশগ্রহণ, বিষয়টিকে কেন্দ্র করে দু’জন নেতাকে দল থেকে বহিস্কার, আহবায়ক কমিটিতে রদবদল, বেশ কিছু ইউনিট কমিটি গঠনসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে চাঙ্গা হয়ে উঠে নারায়ণগঞ্জ বিএনপি।
এরই মধ্যে বিভিন্ন কারণে যখন বিএনপির রাজনৈতিক আলোচনায় আবারও সাবেক সাংসদ মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের নাম উঠে আসে তখন থেকে বিএনপির প্রতিদ্বন্দ্বী দলের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়, যার ফলে বিএনপি আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌছে বলে গিয়াস সমর্থকদের অভিমত। বিএনপি কর্মীদের একাধিক সূত্রে জানা যায়, এরই মধ্যে নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিএনপির অনেকটাই ফ্রন্ট লাইনে চলে এসেছেন মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান।
এমনকি গত ১লা সেপ্টেম্বর বিএনপি ও পুলিশের সংঘর্ষের সময় যুবদল কর্মী নিহত হয়, সেই পরিস্থিতিতে যখন অনেক নেতাকর্মীই মাঠ ছেড়ে যায়, তখনও সাখাওয়াত হোসেন খানকে দেখা যায় প্রতিবাদ করতে। সাখাওয়াতের কর্মীরা যার কারণে অনেকটাই সাহস ও উৎসাহ ফিরে পায়। একই সাথে গত ৩ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ বিএনপির একটি বিশাল সমর্থকের নেতা হিসেবে পরিচিত জাকির খান যখন র্যাবের জালে ধরা পড়েন তখনও দেখা যায় বিএনপির একটি বিশাল অংশকে সক্রিয় হয়ে উঠতে।
জাকির খান যেখানে দেশের বাইরে থেকেই একটি বিশাল সমর্থকের সমর্থন পাচ্ছেন সেখানে তিনি নারায়ণগঞ্জে আছেন বা দেশে আছেন এটা ভেবেই অনেক সমর্থক পুলকিত হয়ে উঠেন এবং আরও অধিক উৎসাহ উদ্দীপনায় তারা বিএনপির হয়ে মাঠে নামবেন বলে মনে করা হয়। এদিকে বিএনপির বিভিন্ন জায়গার নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে আরও যে নামটি উঠে এসেছে তা হলো বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান দিপু ভূইয়া। এক সময় তার এলাকা অর্থাৎ রূপগঞ্জ বিএনপির মধ্যেও তার অনেক শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল বলে জানায় একাধিক সূত্র।
তবে সেসব এখন অতীত বলে মনে করেন তারা। বিএনপির রূপগঞ্জ নেতাদের মতে এখন দিপু ভূইয়ার নেতৃত্বে রূপগঞ্জ বিএনপি অনেকটাই শক্তিশালী। শুধু রূপগঞ্জ নয়, পুরো নারায়ণগঞ্জ বিএনপির মতনৈক্যের পিছনেও রয়েছে দিপু ভূইয়ার অবদান। যা নারায়ণগঞ্জ বিএনপির অনেক নেতা-ই বিশ্বাস করেন।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ পৌর যুবদলের সভাপতি মফিকুল ইসলাম জানান, বর্তমানে রূপগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীরা দিপু ভূইয়ার ছায়াতলে এসে অনেকটাই নির্ভয়ে কাজ করছেন। তিনি মনে করেন এখন দিপু ভূইয়া এখানকার নেতাকর্মীদের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করছেন।
দলীয় কর্মকাণ্ডে প্রাণ ফিরে পাওয়ার বিষয়ে মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বর্তমান সরকারের প্রশাসন জনগণের সাথে যে বঞ্চনা, শোষণ করছে। একই সাথে নির্যাতন, হত্যা, গুম, খুন এবং দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে সারা বাংলাদেশের শতকরা ৮৫জন লোকই এখন সরকারের বিরুদ্ধে চলে গেছে। তাই এখন যে কোন কর্মসূচীতেই সাধারণ মানুষও মাঠে নেমে আসে। তাই যে সময় চুড়ান্ত ডাক দেওয়া হলে এদেশের শতকরা ৮০জন মানুষই মাঠে নেমে আসবে।
সরকার সে সময় পুলিশ কিংবা দলীয় ক্যাডার দিয়ে বিএনপি এবং সাধারণ মানুষকে দমিয়ে রাখতে পারবে না। এখন বিএনপি কর্মী সমর্থকরা মামলা ও সরকারের নির্যাতনসহ বর্তমানের দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে এখন সবাই ঐক্যবদ্ধ আছে। এখন দলের মধ্যে কেউ পদের চিন্তা করে না, নিজেদের মধ্যে কারও বিভেদ নাই, আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। রাজপথে এখন সবাই নামতেছে, বিএনপিসহ জনগণ বুঝতে পারছে যে এই সরকারের মাধ্যমে মানুষের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা হবে না, দ্রব্যমূল্যে উর্ধ্বগতি থেকে রেহাই পাওয়া যাবে না, তাই সবাই মাঠে নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে দু’একটি রাজনৈতিক দল ছাড়া তাদের সাথে আর কেউ নেই, ভবিষ্যতে দেখা যাবে আওয়ামী লীগের পাশে আর কোন দলই নেই। সরকার মনে করে যে বিএনপির জনসমর্থন অনেক বেশি, তাই বিএনপিকে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাঠ থেকে বের করে দিতে পারলে তাদের ক্ষমতাটা আরও পাকাপোক্ত হবে।


