# মামলা হামলা দমানো যাবে না
# গণতন্ত্র রক্ষায় আমরা পিছু হটবো না: সাখাওয়াত
বিভিন্ন ইস্যুতে বিএনপি’র কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তপ্ত নারায়ণগঞ্জের রাজনীতির মাঠ। সমাবেশে হচ্ছে ব্যাপক জনসমাগম। প্রায় কর্মসূচিতে বাধা দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। চালানো হচ্ছে হামলা। সেই সাথে লাঠিচার্জ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে শহরে। কোথাও কোথাও হয়েছে বড় ধরনের সংঘর্ষও। এর মধ্যে সংঘর্ষে মারা গেছেন যুবদল কর্মী শাওন। এ ঘটনায় ৫ হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাত করে মামলা করেছে পুলিশ। সেই সাথে ৭২ জনের মত নাম উল্লেখ্য করে অপর আরেকটি মামলা করেছে পুলিশ।
দলটির সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পুলিশের সাথে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পহেলা সেপ্টেম্বর নেতা কর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে। প্রায় দের ঘন্টার সংঘর্ষে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের যুবদল নেতা শাওন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। বিএনপি নেতা কর্মীদের দাবী পুলিশের গুলিতে শাওন নিহত হয়। এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় দুইটি মামলা হয়। পুলিশ বাদী হয়ে ৫ বিএনপির ৭২ জন নেতা কর্মীদের নাম উল্লেখ্য করে ৫ হাজার অজ্ঞাত করে মামলা হয়। এক্ই সাথে নিহত শাওনের ভাইয়ের মামলাও বিএনপির পাচঁ হাজার নেতা কর্মীকে অজ্ঞাত করে মামলা হয়।
এতিকে এই দুই মালায় বিএনপির বিভিন্ন থেকে ১৫ জনের মত গ্রেপ্তার হন। তার মাঝে ইতোমধ্যে মহানগর বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ সহ ২২ জন নেতা আদালত থেকে জামিন নেন। তবে এছাড়া জেলা মহানগরের অনেক নেতা এসব মামলায় গ্রেপ্তার এড়াতে এলাকা ছেড়েছেন অনেকে। নেতাকর্মী শূন্য তাদের বাড়ি ঘরগুলো। তবে মামলা হামলা হলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন দলটির শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। তাদের ভাষ্য, নির্বাচনকালীন সরকার, জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ জনসম্পৃক্ত ইস্যুতে গত ২২শে আগস্ট থেকে দেশব্যাপী কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। আগামী কয়েক মাস এভাবেই কর্মসূচি চলমান থাকবে। এরপর ‘সঠিক’ সময়ে সরকার পতনের এক দফা নিয়ে রাজপথে নামার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। আর চূড়ান্ত আন্দোলনের আগেই সরকার বিরোধী বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার কাজ শেষ করা হবে।
যারা বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়ার বাইরে থাকবে তাদেরও মাঠে নামানোর উদ্যোগ নেয়া হবে।
দলীয় নেতারা বলছেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছে। তৃণমূল থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন আরও বেগবান করা হবে। হামলা, মামলা কিংবা গ্রেপ্তার কোনো কিছুতেই রাজপথ না ছাড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাধা আসলে আপাতত পাল্টা হামলা এড়িয়ে কৌশলে কর্মসূচি পালনে কেন্দ্র থেকে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এদিকে দেশের দশ সাংগঠনিক বিভাগে সমাবেশ করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। তেল, গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে চলমান কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর এই কর্মসূচি ঘোষণা করবে দলটি।
অন্যদিকে যুবদল কর্মী শাওনের মৃত্যুতে জেলা মহানগর ঢাকা সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ করে সভা মিছিল করেছে। সেই সাথে শাওন হত্যার বিচারের দাবী জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ।
মহানগর বিএনপি নেতা হান্নান মামুন জানান, মামলা হামলা করে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের দমিয়ে রাখা যাবে না। সরকার আজকে জনগণের অধিকারকে হরণ করছে। তারা মনে করছে- গুলি, গুম, হত্যা, খুন ও নির্যাতন করে আন্দোলনকে দমিয়ে দেবে। কিন্তু এসব করে বিএনপি’র আন্দোলন দমানো যাবে না।
মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব সজল জানান, রাজপথে আন্দোলন করতে গিয়ে দলের অগণিত নেতাকর্মী চলে গেছেন না ফেরার দেশে। নারায়ণগঞ্জের শাওন, ভোলার নুরে আলম ও রহিম হত্যার প্রতিশোধ নেয়া হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্বার গণআন্দোলন গড়ে তোলা হবে। রাজপথ দখল করে এই ভয়াবহ আওয়ামী লীগ সরকারকে পরাজিত করে সত্যিকার অর্থে জনগণের সরকার আমরা প্রতিষ্ঠিত করবোই।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি জানান, আমরা গোড়া থেকে আন্দোলন শুরু করতে চাই। বিএনপি’র গোড়া বা আন্দোলনের সূতিকাগার হচ্ছে তৃণমূল। সেখান থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছে। আন্দোলন করলে হামলা হবে, মামলা হবে এমনকি গ্রেপ্তার হবে। যতই হামলা হোক আমরা আন্দোলন থেকে সরবো না।
মাহনগর বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি এড সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ দেশে একটা অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়। তবে আগামীতে তারা সফল হবে না। সরকারের বিরুদ্ধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে তৃণমূল থেকে আন্দোলন শুরু হয়েছে। এ আন্দোলন চলবে। দেশের মানবাধিকার ও গণতন্ত্র রক্ষায় এবার আমরা পিছু হটবো না।


