# বিএনপির প্রার্থী না থাকায় চন্দনশীল হচ্ছেন জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান
নানা নাটকীয়তার পর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেলেন শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত বাবু চন্দনশীল। গতকাল আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ডে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাবু চন্দনশীলকে দলের প্রার্থী নির্বাচন করা হয়।
রাতে আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ১০ প্রার্থীর মধ্যে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আওয়ামীলীগের মনোনয়ন বোর্ড ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি বাবু চন্দনশীল চন্দনশীলকে বেছে নিলো।
বাবু চন্দনশীল ২০০১ সালের ১৬ জুন বোমা হামলার ঘটনায় দুই পা হারান। চন্দনশীল সাংসদ শামীম ওসমানের ঘনিষ্ট বন্ধু। চন্দনশীল ওসমান পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। তিনি কখনোই এই পরিবারের বিপক্ষে অবস্থান করেননি।
১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ১০ জন মনোনয়নপত্র জমা দেয়। যাদের অধিকাংশেরই আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সার্ভিস দেওয়ার ইতিহাস রয়েছে।
৮ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেয়া শেষে গতকাল ১০ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের জন্য মনোনীত প্রার্থী মনোনয়ন বোর্ডে চন্দন শীলকে বেছে নেয় আওয়ামীলীগ। মনোনয়নপত্র জমা দেয়া প্রার্থীরা হলেন, জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু, আরজু রহমান ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল, জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, সহসভাপতি বাবু চন্দনশীল, জাতীয় শ্রমিকলীগের সাবেক সভাপতি মতিন মাষ্টার, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি আলহাজ্ব মজিবুর রহমান, স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রকিবউদ্দিন রকিব।
মনোনয়নপত্র জমা দেয়া প্রার্থীদের মধ্যে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই দীর্ঘদিন ধরে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর কাছে সুপারিশের জন্য ঘুরছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে পদবাণিজ্য, জেলা আওয়ামীলীগে স্বেচ্ছাচারিতা, মনোনয়ন বাণিজ্য এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক থাকাকালীন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে।
সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনও নিশ্চিত ছিলেন তিনি আবারো জেলা পরিষদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাবেন। তাই তিনি শুন্যের মধ্যে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধেও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালীন তার দুই ভাতিজা দিয়ে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম করার অভিযোগ উঠে।
এবারের জেলা পরিষদ নির্বাচনে তাদের দুইজনেরই উচ্চপর্যায়ে কোন অবস্থান ছিলনা। তাদের অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে অনেক আগেই বিভিন্ন সংস্থা থেকে রিপোর্ট পাঠানো হয়েছে। এদিকে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পাওয়া বাবু চন্দনশীল শুধু সাংসদ শামীম ওসমানের বন্ধুই নন, তিনি সবসময়ই শামীম ওসমানের পাশে অবস্থান নিয়েছেন।
২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়ায় বোমা হামলার ঘটনায় মারাত্মক আহত হন বাবু চন্দনশীল। বোমা হামলার ঘটনায় বাবু চন্দনশীল শুধু দুই পাই হারাননি বোমার নানা স্পি্লন্টারের ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন তিনি। মনেনায়ন প্রত্যাশী শামীম ওসমানের অন্য দুই বন্ধু জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল এবং মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক এড. খোকন সাহা নানা সময় শামীম ওসমানকে ছেড়ে গেলেও বাবু চন্দনশীল কখনোই এমপি শামীম ওসমানের পক্ষাবলম্বন থেকে বিরত থাকেননি।
সবসময় বন্ধুর পাশে তিনি ছিলেন। যার দরুণ এবার জেলা পরিষদ নির্বাচনে এমপি শামীম ওসমান নিজেই বাবু চন্দনশীলের পক্ষে মাঠে নামেন এবং তিনি নেপথ্যে থেকে কাজ করেছেন। জেলা পরিষদ নির্বাচনে বাবু চন্দনশীলকে প্রার্থী করতে শামীম ওসমান অন্যতম ভূমিকা পালন করেন। দীর্ঘ ত্যাগের পর অবশেষে মূল্যায়িত হলেন বাবু চন্দনশীল।। তিনিই হতে যাচ্ছেন জেলা পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান।
বিএনপি জেলা পরিষদ নির্বাচনে না আসার সিদ্ধান্ত নেয়ার ফলে আওয়ামীলীগের মনোনয়নই আওয়ামী প্রার্থীদের জন্য চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা। আওয়ামীলীগের প্রার্থী হিসেবে চন্দনশীলকে দেওয়ার পরেও যদি কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ায় তখন জেলার সকল জনপ্রতিনিধিদের ৬১৫ ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে হতে পারে আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে।
কিন্তু আপাত অবস্থায় মনে করা হচ্ছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বাবু চন্দনশীলই জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে জয়ী হবেন। প্রসঙ্গত, জেলা পরিষদের তফসিল অনুযায়ী-মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ১৫ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাই ১৮ সেপ্টেম্বর, মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের সময় ১৯ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর,
আপিল নিষ্পত্তি ২২ থেকে ২৪ সেপ্টেম্বর, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় ২৫ সেপ্টেম্বর। প্রতীক বরাদ্দ ২৬ সেপ্টেম্বর। আর ভোটগ্রহণ ১৭ অক্টোবর। সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলবে ভোট গ্রহণ।
এদিকে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হিসেবে বাবু চন্দনশীলকে চূড়ান্ত করায় অভিনন্দন জানিয়েছেন জেলা পরিষদের মনোনয়ন প্রত্যাশী ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতিসহ আরো অনেকে । এন.এইচ/জেসি


