# যুবদল নেতা শাওন হত্যা মামলায় আজাদ পন্থীদের নাম নেই
#কে কার নির্দেশনায় কি করে আমি তা দেখিনা : রনি
টানা তিন টার্ম ক্ষমতার বাইরে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। ক্ষমতার বাহিরে থাকায় পুলিশের হামলা মামলায় জর্জরিত নারায়ণগঞ্জ বিএনপি সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সেই সাথে দলীয় কোন্দলেরও শেষ নেই। অভিযোগ রয়েছে নারায়ণগঞ্জ আড়াই হাজার উপজেলা এক বিএনপি নেতা জেলা মহানগর যুবদলকে তার কব্জায় রেখে নিজের মত করে ঘুরাতে চায়। আর এজন্য তিনি তার বলয়ের লোকদের কমিটিতে বসান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুবদলের একাধিক নেতান জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা মহানগর যুবদলকে তার নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য তিনি নিজ বলয়ের লোক দিয়ে মহানগর যুবদল কমিটি গঠন করেছে। জেলা যুবদলের শীর্ষ নেতাদেরকেও তার বলয় নেয়ার জন্য বিভিন্ন পাঁয়তারা করছেন। তার পকেটে রেখেই যুদলকে চালাতে চান।
এদিকে দলীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের তিন সদস্যের কমিটির আহবায়ক কমিটিতে আহবায়ক করা হয়েছে জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকনকে। সেই সাথে সদস্য সচিব করা হয়েছে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মশিউর রহমান রনিকে। আর সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক করা হয় আড়াইহাজার উপজেলা যুবদলের আহবায়ক ভিপি কবির হোসেনকে।
অপর দিকে মহানগর যুবদলের আহবায়ক কমিটিতে নারায়ণগঞ্জ মহানগর যুবদলের সাবেক কমিটির সাধারণ সম্পাদক মমতাজউদ্দীন মন্তুকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। একই সাথে মনিরুল ইসলাম সজলকে সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সাগর প্রধান, যুগ্ম-আহ্বায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন মন্টি ও শাহেদ আহমেদ।
দলীয় একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, যুবদলের এই কমিটির দায়িত্ব প্রাপ্তরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির আর্ন্তজাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের লোক। দলীয় নেতাদের মাঝে বলাবলি হচ্ছে জেলা যুবদলের গোলাম ফারুক খোকন, কবির হোসেন; আজাদের কাছের লোক।
অপর দিকে নজরুল ইসলাম আজাদের আশীর্বাদে মহানগর যুবদলের সদস্য সচিব পদ ভাগিয়ে নেন মনিরুল ইসলাম সজল। তাছাড়া সজলের মাধ্যমে মহানগর যুবদলের অন্যান্য নেতাদেরকেও তার বলয়ে ভিড়িয়েছেন। কিন্তু এই ক্ষেত্রে ভিন্ন রয়েছেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি। তাকে আজাদের দলে ভিড়াতে চাইলেও তাকে পারছে না। কিন্তু মশিউর রহমান রনির নেতৃত্বে জেলা যুবদল আগের থেকে শক্তিশালী হয়েছে।
অপর দিকে অভিযোগ করে যুবদলের একাধিক নেতা জানান, দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদের কমিটি বাণিজ্যে ধুঁকছেন নেতা-কর্মীরা। জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতা-কর্মীদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্ক কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নজরুল ইসলাম আজাদ।
তার বাড়ি আড়াইহাজার হলেও সমগ্র নারায়ণগঞ্জ বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনে একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন তিনি। তার রাহুগ্রাস থেকে মুক্তি পাচ্ছে না বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ কোনো সংগঠনের ইউনিট কমিটিও। এর ফলে সর্বত্র আজাদ আতঙ্ক বিরাজ করছে নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতা-কর্মীদের মনে।
তারই প্রতি ফলন দেখা যাচ্ছে জেলা মহানগর যুবদলে। নারায়ণগঞ্জ বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে নজরুল ইসলাম আজাদের পরিচয় ‘কমিটি মেকার’ হিসেবে। কমিটি গঠনের সময় হলেই নজরুল ইসলাম আজাদ পদ-পদবি কেনাবেচার দোকান খুলে বসেন। এ নিয়ে একাধিকবার আজাদের বাড়িতে হামলা চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা, আজাদকে লাঞ্ছিতও করেছেন।
নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান জানান, গত জানুয়ারিতে ঘোষিত জেলা বিএনপির আওতাধীন ১০টি ইউনিট কমিটির মধ্যে আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপি, আড়াইহাজার পৌর বিএনপি ও গোপালদী পৌর বিএনপির পুরো কমিটিই আজাদের লোকে ভরপুর।
বাকি কমিটিগুলোতেও ছিল তার যোগসাজশ। এর ফলে অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী পদবঞ্চিত হয়েছেন। এভাবে চলতে থাকলে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা চিরতরে হারিয়ে যাবেন।
দলটির সূত্রে জানা যায়, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে পুলিশের সাথে নারায়ণগঞ্জে বিএনপি প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পহেলা সেপ্টেম্বর নেতা কর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া চলে। প্রায় দেড় ঘন্টার সংঘর্ষে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের যুবদল নেতা শাওন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। বিএনপি নেতা কর্মীদের দাবী পুলিশের গুলিতে শাওন নিহত হয়।
এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় দুইটি মামলা হয়। কন্তিু যুবদল নেতা শাওনের ঘটনায় মামলা হলেও এখানে আজাদের বলয়ের নেতা কর্মীদের নাম নেই। কিন্তু অন্যান্য নেতা কর্মীদের নাম ঠিকই আছে। অথচ জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রনি সহ মাহনগর বিএনপি এবং জাকির খান বলয়ের নেতাদের নাম বেশি রয়েছে।
তাই রাজনৈতিক বোদ্ধমহলের মতে জেলা যুবদলকে ধংষ করার নেপথ্যে বিএনপি নেতা আজাদ। তিনি শহরের বাইরে থেকে জেলা মহানগর যুবদলকে তার ইশারায় চালাতে চায়। তাই সচেতন মহল মনে করেন এক আজাদের পকেটে যুবদলকে আটকে রাখতে চায়।
জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মশিউর রহমান রনি যুগের চিন্তাকে জানান, ‘অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে নারায়ণগঞ্জ যুবদল এখন শক্তিশালী। কে কার নির্দেশনায় কি করে আমি তা দেখিনা। আমি আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের এবং যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ যে দিক নির্দেশনা দেয় সে ভাবে দলীয় কর্মসূচি পালন করে যাচ্ছি।’ এন.এইচ/জেসি


