# ১৬ জুনের বোমা হামলায় দুই পা হারান চন্দন শীল
# তোলারাম কলেজে পড়াকালীন রাজনীতিতে আসেন
# এটা দলের সঠিক মূল্যায়ন : শাহ নিজাম
বহু জল্পনা-কল্পনা শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদের জন্য আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মনোনয়ন পেয়েছেন না’গঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও জেলা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি বাবু চন্দন শীল।
যিনি নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের রাজনীতির অন্যতম নীতি নির্ধারক এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহচর বা বন্ধু হিসেবেও পরিচিত। ২০০১ সালের ১৬ জুন চাষাঢ়ায় ঘাতকদের বোমা হামলায় দুই পা হারান বাবু চন্দন শীল।
আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদের শেষদিকে সেদিন রাত পৌনে আটটার দিকে চাষাঢ়ায় অবস্থিত আওয়ামী লীগ অফিসে তখনকার সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের এক গণ সাক্ষাতকারের আয়োজনে সেই বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় আওয়ামী লীগের ২০ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান। গুরুতর আহত হন শামীম ওসমানসহ অর্ধশতাধিক লোক।
শামীম ওসমানের বর্তমান ঘনিষ্ঠ সহচরদের মধ্যেও তিনি খুবই বিশ্বস্ত এবং শামীম ওসমানের যেকোন দুঃসময়েও তিনি শামীম বিমুখ হননি বলে আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র জানান। এক সময় তিনি ওসমান পরিবারেরও খুব কাছের লোক হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
আর দলের এবং বন্ধু শামীম ওসমানের দীর্ঘদিনের পরিক্ষীত এই বন্ধু অবশেষে তারই প্রতিদান পেয়েছেন বলে তাদের অনুগতদের অভিমত। আর এই জন্যই গত বছর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন জনসভায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের (নাসিক) মেয়র পদের নির্বাচনের জন্য শামীম ওসমানের তিন বন্ধু ও সহচর বাবু চন্দন শীল, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল (ভিপি বাদল) ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহাকে প্রস্তুতি নিতে বলেন।
এরপর নাসিকের নির্বাচনে তারা দলীয় মনোনয়নের জন্য চেষ্টা করলেও সফল হননি। এবারের জেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদের জন্যও মনোনয়ন প্রার্থী হন তার তিনজন। এর মধ্যে দলীয় মূল্যায়ণে সফল হন বাবু চন্দন শীল।
এবার দলীয় মূল্যায়ণের অপেক্ষায় থাকবেন ভিপি বাদল ও এডভোকেট খোকন সাহা। আর চন্দন শীলের এই মূল্যায়ণে যে আওয়ামী লীগের দলীয় সাংসদ শামীম ওসমানের ভূমিকা ছিল তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে সাংসদের এই সফল ভূমিকায় তার ভক্তরাও অনেক খুশি।
বিভিন্ন তথ্য ও সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৮ সালে চন্দন শীল এসএসসি পাশ করার পর সরকারী তোলারাম কলেজে ভর্তি হলে সেখানে তিনি শামীম ওসমানের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়ে পড়েন। এরপর থেকেই চন্দন শীল তার বিশ্বস্ততার মাধ্যমে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহচরসহ খুব কাছের বন্ধু হয়ে উঠেন।
এরপর তিনি জেলা একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির পদ লাভ করেন। এর মধ্যে ২০০১ সালের ১৬ জুন বোমা হামলায় দুই পা হারানোর পর বাবু চন্দন শীল; ওসমান পরিবারসহ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের কাছে খুব জনপ্রিয় হয়ে উঠেন।
২০১৬ সালের মেয়র পদের জন্য যখন মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনের নাম প্রস্তাবের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় সে সময়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদের জন্য মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি চন্দন শীলের নাম প্রস্তাব করেন এমপি শামীম ওসমান। সেখানে উপস্থিত প্রায় সবাই তখন প্রস্তাবগুলোকে সমর্থন করা হলেও জেলা পরিষদের পছন্দের নামটি কেন্দ্রে পাঠানো সম্ভব হয়নি।
এর পর দলীয় সভানেত্রীর ধানমন্ডির কার্যালয়ে চন্দন শীল নিজেই জেলা পরিষদের চেয়াম্যান পদে দলীয় মনোনয়নের জন্য আবেদন করেন। পরে মেয়র পদে ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী দলীয় মনোনয়ন পেলে অনেক নাটকীয়তার মধ্যে চন্দন শীলের আর মনোনয়ন পাওয়া হয়নি।
তবে এবারও জেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে দলীয় মনোনয়নের প্রত্যাশী ছিলেন পরিষদের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাই, সহ-সভাপতি আরজু রহমান ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক ভিপি বাদল, মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি চন্দন শীল ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট খোকন সাহাসহ দলের একাধিক হাই প্রোফাইল নেতা।
তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গত ১০ সেপ্টেম্বর সবাইকে টপকিয়ে দলীয় এই মনোনয়ন লাভ করেন বাবু চন্দন শীল। এরপর থেকেই সাবেক চেয়ারম্যানসহ একাধিক দলীয় নেতাকর্মী চন্দন শীলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাতে শুরু করেন।
এই বিষয়ে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহ নিজাম বলেন, জেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে চন্দন শীলকে দলীয় মূল্যায়ণ দেওয়াটা দলের সঠিক মূল্যায়ণ। বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা যে দলের নেতাদের ভালবাসেন, ত্যাগী নেতাদের ভালবাসেন দলের জন্য নিবেদিত প্রাণ নেতাদের যে ভালবাসেন এই প্রমাণ তিনি আগেও দিয়েছেন, বারবার দিয়েছেন এবারও আবার দিলেন।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি চন্দন শীল। ১১ সেপ্টেম্বর সকালে দলীয় কার্যালয় থেকে চন্দন শীলের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম ও এমপি শামীম ওসমানের সচিব হাফিজুর রহমান মান্না।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম বলেন, ‘চন্দন শীল দাদার পক্ষ থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছি।’ এন.এইচ/জেসি


