# নানা কর্মকাণ্ডে বিতর্কিত জেলা সভাপতি
আগামী ডিসেম্বর নাগাদ ক্ষমতাসীন দল কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সম্মেলন হতে যাচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় ঢাকা বিভাগীয় জেলা গুলোতে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি গুলো ঢেলে সাজানো হচ্ছে। ইতোমধ্যে ঢাকার পার্শ্ববর্তি জেলা গুলোতে কিছু জায়গায় সম্মেলন শেষ হয়েছে।
দলীয় গঠনতন্ত্র অনুয়ায়ী তিন বছর মেয়াদ থাকে আওয়ামীলীগের কমিটির। সেই হিসেবে নারায়ণগঞ্জ জেলা মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে দলীয় কার্যক্রম সহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এই বছরের ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের পর থেকে জেলায় আওয়ামীলীগের কমিটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরী হয়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর হতে যাচ্ছে জেলা আওয়ামীলীগের কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে আছে। দলীয় নেতৃবৃন্দের সাথে কথা বলে জানা যায় খুব শীঘ্রই নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন হতে পারে। আগামী ডিসেম্বরের আগে সম্মেলন করার নির্দেশনা রয়েছে দলীয় হাই কমান্ড থেকে।
কিন্তু দীর্ঘ দিন যাবত জেলার ছয়টি শূন্য পদ পূরনের জন্য একাধিক বর্ধিত সভা হলেও জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুল হাইয়ের ব্যর্থতার কারনে তা পূর্ণ হয়নি বলে জানান একাধিক নেতৃবৃন্দ। ক্ষমতাসীন দলের জেলার এই সভাপতি তার ব্যর্থতার দায়ভার এড়িয়ে চলতে পারেন না।
মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে রাজনীতির সূতিকাগার হিসেবে পরিচিত নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের কার্যক্রম। নারায়ণগঞ্জের ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতিতে ব্যপক পরিবর্তন আসতে পারে। আর সেই পরিবর্তনটা হতে যাচ্ছে জেলা আওয়ামীলীগের নতুন কমিটির মাধ্যমে।
অন্যদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে উত্তর দক্ষিন বলয়ের একাধিক নেতৃবৃন্দ মাঠে নেমেছে। শামীম ওসমানের অনুসারীদের উত্তর বলয় হিসেবে জানেন রাজনৈতিক বোদ্ধা মহল। সেই সাথে ক্ষমতাসীন দলে নাসিক মেয়র আইভী অনুসারীদেরকে দক্ষিন বলয় হিসেবে চিনেন।
জেলা আওয়ামীলীগে নেতৃত্বে আসতে যাচ্ছে তারা বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের অবস্থান তৈরীর পাশা পাশি আগে থেকে বলয় তৈরী করছে। দলীয় নেতা কর্মীদের মাঝে গুঞ্জন উঠেছে এবার জেলা আওয়ামী লীগের নতুন কমিটিতে নতুন মুখ হিসেবে যারা আসতে চায় তারা তাদের মত করে শীর্ষ পদে আসার জন্য দৌড়ঝাঁপ করছে। ক্ষমতাসীন দলে জেলা মহানগরে এই দুই বলয়ের সমন্বয়ে কমিটি হয়ে থাকে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমান কমিটির জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই এবং সেক্রেটারি আবু হাসনাত মো. শহীদ বাদলের বিরুদ্ধে গত ইউনিয়ন নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। সেই সাথে কমিটি বানিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।
সোনারগাঁ উপজেলা কমিটি নিয়ে আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে স্বজন প্রীতি থেকে শুরু করে অনৈতিক সুবিধা নিয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন খোদ দলীয় নেতৃবৃন্দ। তিনি সোনারগাঁ কমিটিি ঘোষণা দিতে গিয়ে লাঞ্চিত হন। সেই সাথে রোষানলে পড়ে দৌড়ে পালিয়ে আসতে হয় তাকে।
তাছাড়া সোনারগাঁ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে একক ভাবে বিভিন্ন ইউনিয়নের প্রার্থীদের নাম তার স্বাক্ষরে প্রস্তাব পাঠানো হয়। তাছাড়া জেলা আওয়ামীলীগের শুন্য কয়েকটি পদে পদ দেয়ার কথা বলে একাধিক নেতা থেকে টাকা খেয়েছে বলে অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে।
তাছাড়া তার আশে পাশের লোকজন যারা আছে তারাও বিতর্কিত ব্যক্তি। আবদুল হাইয়ের সাথে এখন গোগনগর ইউনিয়নে নৌকা পেয়ে বার বার ফেল করা ব্যক্তি জসিমকে দেখা যায়। সদর থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল মামুন অভিযোগ করে একটি সভায় বলেন, জসিম উদ্দিন হলেন স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান মোসলেহ উদ্দিনের ছেলে।
যুদ্ধকালীন সময়ে জসিমের পিতা বঙ্গবন্ধু স্কুলে অস্ত্র রেখে পাকিস্তানীদের সহযোগিতা করে। সেই পাকিস্তানী সহযোগীর ছেলে জসিমকে নিয়ে নানা কর্মকান্ডে বিতর্কিত আব্দুল হাই ঘুরে। তাই দলীয় অনেক নেতা বলাবলি করে এক বিতর্কিত ব্যক্তি আরেক বির্তকিত নিয়ে চলে।
তবে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবদুল হাই এবার নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদে দলীয় মনোয়ন চেয়েছেন। কিন্তু তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ থাকায় মনোনয়ন পেতে তিনি আশাবাদী হলেও তা আর এই নেতার কপালে জুটে নাই। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ার আগে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন।
পরবর্তীতে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জেলা পরিষদে মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেনকে জেলা পরিষদে মনোনীত করেন এবং তিনি চেয়ারম্যান হন। দলীয় একাধিক সূত্র জানান, আসছে জেলা আওয়ামী লীগ সম্মেলনে আব্দুল হাই বাদ পড়তে পারে।
কেননা এবার জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সেক্রটারি পদের জন্য দলে অনেক ত্যাগী এবং হেভিওয়েট নেতা রয়েছে। সেই সাথে তিনি যাদের আশীর্বাদে জেলার সভাপতি হয়েছেন, তারাও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তাই খোদ দলীয় নেতা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক বোদ্ধা মহলে আলোচনা হচ্ছে আব্দুল হাই জেলা পরিষদে মনোনয়ন চেয়ে তা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
ধারণা করা হচ্ছে সামনে তিনি জেলা আওয়ামীলীগ সভাপতির পদও হারাতে পারেন। আর তা বুঝতে পেরে রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তিনি প্রথম সদস্য পদে রয়েছেন। সেই সাথে তার ছেলে তানভীর হাইকে সেই কমিটিতে রেখেছেন।
সচেতন মহল বলছেন সব কিছু মিলিয়ে আব্দুল হাই এবার আম-ছালা দুটোই হারাতে পারে। তবে কাটিয়ে উঠতে পারবে কি না তা প্রশ্ন রয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোয়ন হারালেও জেলা সম্মেলন হলে সব কিছু পরিস্কার হয়ে যাবে। এন.এইচ/জেসি


