Logo
Logo
×

রাজনীতি

মনোনয়ন পেয়ে আবেগ আপ্লুত চন্দনশীল  

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৪:৪৬ পিএম

মনোনয়ন পেয়ে আবেগ আপ্লুত চন্দনশীল  
Swapno


# আমার শামীম ওসমান-বাদল-খোকন সাহার মত বন্ধু আছে

# জেলা পরিষদকে জনগণের দোরগোঁড়ায় পৌঁছে দেওয়াটাই আমার ইচ্ছে

# আমি যত্রতত্র চায়ের দোকানে বসতে পারি, এটা যে কি আনন্দ!

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বাবু চন্দন শীল বলেছেন, আমি যদি মানুষের দোয়া নিয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হই, দায়িত্বপ্রাপ্ত হই, তাহলে আমি যেমন চন্দন শীল আছি তেমন চন্দনশীলই থাকতে চাই।

 

 

আমার নিজস্বতা, আমার সৎ পথে চলার অহংকারটা যেন হারিয়ে না যায়। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে পারি। নারায়ণগঞ্জ একটি ব্যবসায়িক এলাকা, এখানে টাকা উপার্জনের অনেক উপায়ই আছে। আমি যেখানে ছিলাম, ইচ্ছে করলে অনেক অনেক টাকা উপার্জন করতে পারতাম।

 

 

কিন্তু আমার ইচ্ছা আমি যেন অহংকারী কিংবা লোভী না হয়ে উঠি, বিপথে না যাই। আমি এখন নারায়ণগঞ্জের যত্রতত্র চায়ের দোকানে বসতে পারি। এটা যে কি আনন্দ! আমি এসবই ধরে রাখতে চাই।


 
গতকাল সোমবার দৈনিক যুগের চিন্তাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাতকারে এবারের জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হতে পারলে তার ভূমিকার বিষয়ে এধরণের ইচ্ছার কথা প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্বাচনের যে অবস্থা, আমি কখনও কল্পনা করতে পারিনি যে আমি নির্বাচন করতে পারবো।

 

 

আমার নির্বাচন করার সাধ ছিল, কিন্তু সাধ্য ছিল না। আমি কখনও ভাবতেও পারিনি যে আমি নির্বাচন করবো। তবে আমার দলীয় নেতাকর্মীসহ আমার যারা বন্ধু আছেন তাদের চাওয়া ছিল, আমাকে যেন মূল্যায়ন করা হয়। দলে আমার মতো এমন অনেক সাধারণ মানুষ আছে যাদের একটি ফরম কেনার মতোও পয়সা নাই, তাদের ইচ্ছে থাকলেও তা প্রকাশ করতে পারেন না।

 

 

এখনতো দলে হাইব্রীডদের এমন অবস্থা যে টাকার জোরে সব কিছু কিনে ফেলতে চায়, তখন আমাদের মতো লোকেরা একটু হতাশ হই। না, টাকার সাথে আমরা পারবো না। কিন্তু আমার নেত্রী বলেছেন, ত্যাগী নেতারা অভিমানী হয়, কিন্তু বেইমান হয় না। তাই আমাকে মনোনয়ন দেওয়া মানে সারা বাংলাদেশের তৃণমূলের নেতা কর্মীদের কাছে একটি ম্যাসেজ (বার্তা) দেওয়া।
 

 

চন্দন শীল বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সংগঠন যা বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রাচীণতম গণতান্ত্রিক সংগঠন। এই সংগঠনে গণতন্ত্রের চর্চা হয়ে থাকে এবং যারা তৃণমূলে থাকেন যোগ্যতা অনুযায়ী মূল্যায়ন করা হয়ে থাকে। আমার মতো চন্দন শীলকে মনোনয়নের মাধ্যমে তা আরও একবার প্রমাণিত হলো।

 

 

তিনি বলেন, আমি ও আমার স্ত্রী চাকরী করে সংসার চালাই। আমার স্ত্রী একজন শিক্ষিকা। ২০০১ সালের ১৬ জুনের বোমা হামলার ঘটনার আগে আমি ব্যবসা করতাম, যার মাধ্যমে মোটামুটি স্বচ্ছল ছিলাম। সেদিনের ঘটনায় আমাদের নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের কাণ্ডারী, প্রাণ পুরুষ জননেতা একেএম শামীম ওসমানসহ তার সহযোগীদের একত্রে হত্যার উদ্দেশ্যে যে বোমা হামলা চালানো হয়েছে।

 

 

সেখানে আমাদের ২০ জন নেতা কর্মী নিহত হয়েছেন, শামীম ওসমান গুরুতর আহত হয়েছেন, রতনদা এবং আমি চিরতরে পঙ্গু হয়ে গেছি। তারপর থেকেই ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করে দিতে হয়। আমার একটি কারখানা ও যে কয়েকটি পরিবহন ছিল তা চালিয়ে নেয়ার মতো লোকজন ছিল।

 

 

বিশেষ করে ২০০১ সালের নির্বাচনে ক্ষমতায় আসার পর জামাত-বিএনপি যে তাণ্ডব চালায় সে সময় সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়, দখল করে নেওয়া হয়। আমার বন্ধু শামীম ওসমান গুরুতর আহতবস্থায়ও নিয়মিত আমার খোঁজ খবর নিয়েছেন।


 
২০১৬ সালে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে আমাকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে হবে। তার আরও বলেছিল আপনাকে কিছু করতে হবে না, যা কিছু করার লাগে আমরা সবাই মিলে করব। এটাও আমার কাছে একটি বিরাট পাওয়া। তখন কিছু ঘটনায় সেটা আর হয়ে উঠেনি।

 

 

আমার এই বিশ্বাসটা ছিল যে, আমার দলের লোকজন যদি আমাকে পছন্দ করেন, গ্রহণযোগ্যতা থাকে তাহলে আমার মূল্যায়ন হবে। এটা আমার একার প্রাপ্তি না, নারায়ণগঞ্জে আমরা যারা শামীম ওসমানের নেতৃত্বে রাজনীতি করছি, এটা সবার অর্জন এবং প্রাপ্তি, সর্বোপরি এটা শামীম ওসমানের অর্জন; এই প্রাপ্তিতে সবাই খুশি।

 

 

যেহেতু একজনের নামে মনোনয়ন দিতে হয় সে কারণে আমি পেয়েছি। আমার সবচেয়ে বড় মনোবল হচ্ছে, আমার শামীম ওসমানের মতো বন্ধু আছে, এডভোকেট বাদল (ভিপি বাদল), এডভোকেট খোকন সাহার মত বন্ধু আছে। এছাড়াও শাহনিজাম, জাকিরুল আলম হেলাল, এহসান হোসেন নিপু, সাজনু, জুয়েল এবং বিভিন্ন থানা কমিটিসহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ আছে যাদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে আমরা দীর্ঘদিন যাবত লড়াই করেছি। তারা সবাই মিলে আমাকে উৎসাহ দিয়েছেন।

 


তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের জন্য যাবতীয় ফর্মালিটির যে কাজকর্ম আছে তার কোন কিছুর চাপই আমি টের পাইনি। সকলে মিলে আমার সেসব কাজ করে দিচ্ছেন। এই পদের জন্য যারা ইচ্ছুক ছিলেন এখানে আমার চেয়ে অনেক যোগ্য, অভিজ্ঞ ও সিনিয়র নেতারাও ছিলেন। যাদেরকে আমি সবসময় সম্মান করি। এই মনোনয়নের পর আমাকে তারা অভিনন্দন জানিয়েছেন।

 

 

বৃহত্তর একটি দলে যোগ্য অনেক লোকই থাকে, তাই পদের জন্য দাবি সবাই করতে পারে। কিন্তু দল থেকে মনোনয়ন দেওয়ার সাথে সাথে এক হয়ে যাওয়া, এটা আমার জন্য একটি বিশাল পাওয়া। যারা নির্বাচনে এখানে আমার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আসতে চায়, আমি তাদের স্বাগত জানাই।

 

 

জনগণ যাকে যোগ্য বলে বিশ্বাস করবেন, মনে করবেন তিনিই নির্বাচিত হবেন। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে আলাদা মতামত থাকতে পারে, কিন্তু আমি সকল মতাদর্শের উর্ধ্বে উঠেই আপনাদের সকলের সমর্থন পেয়েছি। আপনারা যে আমাকে পছন্দ করেছেন এটাও আমার চলার পথে আমাকে বড় একটা উৎসাহ যুগিয়েছেন। তাই সবার প্রতিই আমি কৃতজ্ঞ।

 


রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, ’৭৫ এর ঘটনার পর থেকেই আমাদের মধ্যে মোটামুটি রাজনীতি আঁচ পেতে শুরু করি। তখন আমরা ক্ষমতা কি জিনিস তা বুঝতাম না, তাই আমাদের কথা ছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার চাই।

 

 

আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এসে ৩০ বছর বয়সে দলের হাল ধরে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী দলগুলোকে একত্রিত করে ’৯৬ সালে অনেক লড়াই সংগ্রামের পর আমাদের নেত্রীর (শেখ হাসিনা) নেতৃত্বে দীর্ঘ ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় আসে।

 

 

আমি এবং আমার পরিবার বিভিন্নভাবেই আমার নেত্রীর কাছে ঋণী। তার উপর এই উপহারের মাধ্যমে তিনি আমাকে আরও ঋণী করে দিয়েছেন। তিনি যে আমাদের আশা-ভরসার স্থল, আমার মতো নগণ্য চন্দন শীলকে মনোনয়ন দিয়ে আবারও তা প্রমাণ করলেন। আমি তাই আমার বাকি জীবনটা নেত্রীর জন্যই উৎসর্গ করব।


 
জেলা পরিষদের ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থনা এবং সকলের দোয়া প্রার্থনা করে তিনি বলেন, জেলা পরিষদ দীর্ঘদিন যাবত কাজ করলেও এখানে কোন জনপ্রতিনিধি ছিল না, প্রশাসক দিয়ে চালানো হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় জনপ্রতিনিধি দিয়ে কাজ করালে তার এলাকার প্রতি কমবেশি একটা টান থাকে। তাই তিনি চাইবেন এখানে কাজ হোক।

 

 

প্রশাসকরা সাময়িক সময়ের জন্য হঠাৎ করে অন্য জেলা থেকে এসে এখানকার পুরো বিষয়টা বুঝে উঠতে পারেন না। তবে প্রশাসকের মধ্যে অনেক নিবেদিত প্রাণ লোকও আছে। শেখ হাসিনার সরকার এটাকে জনগণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে তৈরি করার জন্যই কাজ করছেন। জেলা পরিষদের সেবাটাকে নেত্রী যেমন জনগণের দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়ার চেষ্টায় কাজ করছেন আমিও সেটা-ই চাই।


 
আমি চেয়ারে বসে (জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হয়ে) আমিই চালালাম, সেখানে জনগণের কোন সম্পৃক্ততা নেই, ভূমিকা নেই, এটা না। এখানে কিন্তু জনগণের জন্য প্রচুর (কাজ) আসছে। সেটাকে আরও বেশি করে মানুষের কাছে পৌছানো, জনসম্পৃক্ততা মোট কথা জেলা পরিষদকে জনগণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে মানুষের দোরগোড়ায় পৌছে দেওয়া।

 

 

নির্বাচিত হলে, এটা যেন এমন না হয় যে, চন্দন শীল চেয়ারম্যান, তাই সব কিছু চন্দন শীল কেন্দ্রীক কিংবা চন্দন শীলময় হয়ে যাবে। নেত্রী আমাকে যে বিশ্বাসে দায়িত্ব দিয়েছেন সেটার সম্মান যেন কোন অবস্থায়ই নষ্ট না হয়। আমার লাইফ স্টাইল সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জবাসী জানে। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন