Logo
Logo
×

রাজনীতি

হার্ডলাইনে আ’লীগ সভানেত্রী

Icon

অর্নব হাসান

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:৫০ এএম

হার্ডলাইনে আ’লীগ সভানেত্রী
Swapno


# এক ঝাঁক আ’লীগ নেতার রাজনৈতিক ইমেজের নেতিবাচক রিপোর্ট


ক্ষমতাসীন দল টানা তিন বার ক্ষমতায় রয়েছে। এই সুযোগে বিভিন্ন জেলা পর্যায়ের  আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ কমিটি বাণিজ্য থেকে শুরু করে স্থানীয় নির্বাচনে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে রাতারাতি কোটিপতি বনে গেছেন অনেকে। তারই ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জেও তার ব্যতিক্রম ঘটে নাই।

 

 

এখানেও জেলা এবং মহানগর আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের কর্মকান্ডে বার বার বিতর্কে পরেছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ। তবে নারায়নগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেখা যায় দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের কারণে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী অঙ্গ সংগঠনগুলোর কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।

 

 

এই কমিটি গুলোর সিংহভাগ নেতাকর্মী হলেন উত্তর বলয়ের শামীম ওসমানের অনুসারী। তখন তাদের নিয়ে দলীয় নেতা কর্মী থেকে শুরু করে সারা শহর নানা সমালোচনা তৈরী হয়। এমনকি দল পযর্ন্ত সমালোচনায় পড়েন। যার শাস্তি হিসেবে অনেক নেতা এবং কমিটি বিলুপ্ত হয়।

 

 

তবে এই বিতর্ক কাটিয়ে উঠানোর জন্য দলীয় হাই কমান্ড বিভিন্ন সময় নেতাদের বহিস্কার করে বারাবার হার্ড লাইনে গিয়েছেন আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা। পরে তার বিচক্ষণ সিদ্ধান্তে দল ভালো অবস্থানে ফিরে আসলেও, ঐক্য তা বেশি দিন ধরে রাখা সম্ভব হয় নাই। কারণ নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে উত্তর-দক্ষিণ বলয়ের একটা প্রভাব রয়েছে।

 


দলীয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ সিটি নির্বাচনে সপ্তাহ খানিক আগে দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের কারনে মহানগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। সে সময় মহানগর ছাত্রলীগের কমিটিতে ছিলো জেলার প্রভাবশালী নেতা সাংসদ শামীম ওসমানের ছেলে অয়ন ওসমানের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত হাবিবুর রহমান রিয়াদ, হাসনাত রহমান বিন্দু।

 

 

১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের দিন আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন জেলা মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সাথে জেলার সকল থানা, উপজেলা, ইউনিয়ন, এমনকি ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগে ছিলেন নিজাম উদ্দিন এবং গোলাম কিবরিয়া খোকন।

 

 

তাদের দুজনের মাঝে গোলাম কিবরিয়া খোকন সাংসদ শামীম ওসমান বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত। অপর দিকে মহানগর স্বেচ্ছাসেবকলীগের কমিটির সভাপতি হিসেবে ছিলেন জুয়েল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছে সাইফুদ্দিন আহম্মে দুলাল। তারা দুজনেই এমপি শামীম ওসমানের কাছে লোক। সেই সাথে তারা এই সাংসদকে নেতা হিসেবে মানেন।

 

 

পাশা পাশি মহানগর শ্রমিকলীগের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। তখন মহানগর শ্রমিকলীগের কমিটির দায়িত্বে ছিলেন শামীম ওসমানের কাছের ব্যক্তি কামরুল হাসান মুন্না। সেই সাথে জেলা মহানগর কৃষকলীগ কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়। তাদের প্রতেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তারা তখন কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনাকে অবজ্ঞা করে এমপি শামীম ওসমানের নির্দেশে সিটি নির্বাচনে নৌকার প্রার্থীর পক্ষে কাজ করে নাই। তারা প্রতেকেই শামীম ওসমানের অনুসারী। এদিকে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তারা দলের চেয়ে এই সাংদের নির্দেশনাকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।

 

 


এদিকে এতগুলো কমিটি বিলুপ্ত হওয়ায় শামীম ওসমান শিবির অনেকটা ব্যকফুটে পরে যান। তখন স্পষ্ট বুঝা যায় আওয়ামীলীগের দলীয় সভানেত্রী হার্ডলাইনের থাকার কারনে শামীম শিবিরে ভাটা পরে। তারা তা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করলেও কিন্তু তা পারেন নাই। এছাড়া সিটি নির্বাচনে মহানগর আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি খোকন সাহার বিরুদ্ধে চাদাঁবাজির অভিযোগ উঠে। খোদ আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠন সোনারগাঁ যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম নান্নু এই অভিযোগ তুলেন। তখন তার অডিও পর্যন্ত ছড়িয়ে পরে।

 


তাছাড়া জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় রয়েছে। তার থেকে নেতা-কর্মীরা এখন বিমুখ হয়ে গেছে। দলীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতির বিরুদ্ধে কমিটি বাণিজ্য করে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে নেতাদের থেকে। সেই সাথে তিনি স্থানীয় নির্বাচনে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে সোনারগাঁ উপজেলা ইউনিয়ন নির্বাচনে একক প্রার্থী দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। তার নামে সোনারগাঁয়ের নেতৃবৃন্দ কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের নেতাদের কাছে অভিযোগ দেন।

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, আবদুল হাই তার ছেলের মাধ্যমে সদর উপজেলার একটি ইউনিয়নে নৌকার মনোনয়ন এনে দিয়েছে বলে তার থেকে জনতা ব্যাংকের চেকের মাধ্যমে ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা নেন। তখন এই বিষয়ে আবদুল হাইয়ের বাসায় একাধিক বৈঠক হয়। তিনি এখন সেই ব্যক্তিকে থানার সভাপতি করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন।

 

 

তখন আবদুল হাইয়ের ছেলে শিক্ষামন্ত্রী দিপু মনির নাম পর্যন্ত ব্যবহার করেন।  এই সকল বিষয় প্রকাশ পাওয়ার পরে এবার জেলা পরিষদনে আবদুল হাই মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হন। দলীয় হাই কমান্ড সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়ে মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ---সভাপতি বাবু চন্দন শীলকে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন। আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধেও অনিয়ম, নেতৃত্বে দুর্বলতা, গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়া, কর্মীদের সন্নিবেশন করতে অক্ষমতা এসব অভিযোগে তাকেও সাইডলাইনে রাখা হয়।

 


খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০১ সনে বোমা হামলায় পা হারানো বাবু চন্দশীলকে জেলা পরিষদে মনোনীত করায় শামীম ওসমানের শিবিরের নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন। সেই সাথে কমিটিতে পদ হারানো অনেক নেতারা এখন খুশি। তবে একটি সূত্র জানান, চন্দন শীলের মনোনয়নে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী বেশ কয়েকজন নেতার মন খারাপ।

 

 

তবে নিন্দুকেরা যাই বলুক, চন্দনশীল আওয়ামীলীগের নিবেদিত প্রাণ হিসেবে পরিচিত নেতা তা ইতিমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। দলীয় সভানেত্রী হার্ডলাইনে থাকলেও চন্দনশীল জেলা পরিষদের মনোনয়ন পাওয়ার ইতিবাচক খবরটি নিয়ে মন খারাপ শামীম ওসমান শিবিরের বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার। তবে তাদের অতীত কর্মকাণ্ডের সব ফিরিস্তি ইতিমধ্যেই কেন্দ্রে চলে যাওয়ায় তারা রীতিমত আশাহত। এন.এইচ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন