# রদ-বদল ও সমালোচনা হচ্ছে কেন্দ্রেও
# পদত্যাগের সংখ্যা বাড়ছে, ঠেকানোও মুশকিল
এড.আবুল কালামকে সভাপতি এবং এটিএম কামালকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১৯ সালে মহানগর বিএনপির যে কমিটি দেয়া হয়েছিল তা সময়ের ব্যবধানে কাগুজে হয়ে পড়েছিল। পরবর্তীতে মামলা জটিলতায় মহানগর বিএনপির কার্যক্রম একেবারে স্থবির হয়ে পড়ে। অবশেষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দুইদিন আগে মহানগর বিএনপির ৪১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি দেয়।
মহানগর বিএনপির এই কমিটিতে আহবায়ক করা হয়েছে এড.সাখাওয়াত হোসেন খানকে এবং সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে এড.আবু আল ইউসুফ খান টিপুকে। আহবায়ক কমিটি ঘোষণার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই এই কমিটি থেকে সাবেক সাংসদ ও বিলুপ্ত মহানগর বিএনপির সভাপতি আবুল কালামের ছেলে আবুল কাউছার আশা পদত্যাগ করেছেন। তিনি আহবায়ক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন।
এছাড়া আবুল কালামের ভাই আতাউর রহমান মুকুলও পদত্যাগ করেছেন। এছাড়া সূত্র জানিয়েছে, আহবায়ক কমিটিতে থাকা এবং কমিটিতে স্থান না পাওয়া নেতারা এই কমিটি নিয়ে বিলাপে যোগ দিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, এই কমিটিতে আহবায়কের কথা আমলে না নিলেও সদস্য সচিব যোগ্য ব্যক্তিকে করা হয়নি।
তারা বলছেন, এই আহবায়ক কমিটিতে সাবেক সাংসদ আবুল কালাম, বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা তৈমূর আলম খন্দকারের পরিবার, বিএনপি নেতা আবদুল মজিদ খন্দকার এবং জাকির খানের মতো নেতাদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন বিএনপি নেতা জানিয়েছেন, মহানগর বিএনপির এই আহবায়ক কমিটি থেকে অর্ধেকের বেশি নেতা পদত্যাগ করতে পারেন।
তবে দলীয় প্রধান এবং দলের সিদ্ধান্তের দিকে সম্মান জানিয়ে ৪৮ ঘন্টা অর্থাৎ দুইদিনের সময় দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে আলোচনা প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। বনিবনা না হলে আহবায়ক কমিটি নিয়ে প্রতিবাদে নামবেন তারা।
মহানগর বিএনপির আহবায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান দাবি করেছেন, ‘এই কমিটির মাধ্যমে ৪০ বছরের পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির অবসান ঘটানো হয়েছে। তাছাড়া কমিটিতে যোগ্য ও কর্মঠ ব্যক্তিদের মূল্যায়ন করা হয়েছে।’
তবে মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির পদত্যাগ করা যুগ্ম সম্পাদক আতাউর রহমান মুকুল যুগের চিন্তাকে বলেছেন, যাদের কোন কর্মী নাই, যারা এতোদিন দলের তৃণমূলকে সংগঠিত করেনি এমন ব্যক্তিরাই কমিটিতে এসেছেন।
এদিকে পদত্যাগ করা মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাউছার আশা বলেন, তৃণমূল কর্মীদের মতামত নিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠনের বিষয়টি কেন্দ্র মূল্যায়ন করবে বলে আমি মনে করি।
তবে আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব এড. আবু আল ইউসুফ খান টিপু এবং এড. জাকির হোসেন মনে করেন, একটি কমিটিতে সবাইকে খুশি করা সম্ভব নয় । এই কমিটি যথাযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়ে গড়া হয়েছে।
আহবায়ক কমিটি নিয়ে মতামতে কৌশলী বেশিরভাগ নেতা। বিলুপ্ত মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আবদুস সবুর খান সেন্টু যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘কমিটির নানা অগ্রহণযোগ্যতা নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে কথা বলা হচ্ছে। সমস্যাগুলো তাদের কাছেই তুলে ধরা হবে।’
এদিকে আবুল কাউছার আশা এবং আতাউর রহমান মুকুলের পর বিএনপির আহবায়ক কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন সদস্য হিসেবে ঠাঁই পাওয়া আমিনুর রহমান মিঠু। তাছাড়া সদস্য হিসেবে ঠাঁই পাওয়া হান্নান সরকারও পদত্যাগের প্রস্তুতির বিষয়টি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘গত ৪০ বছর যাদের সাথে রাজনীতি করেছি, তাদের ছাড়া রাজনীতি করার মানে হলো অস্তিত্ব অস্বীকার করা। দুইদিনের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের কথা বলা হচ্ছে; না হলে পদত্যাগ করবো।’
তার মতো একই কথা আহবায়ক কমিটিতে ঠাঁই পাওয়া আওলাদ হোসেনের। তিনি বলেন, ‘এতোদিন কারা দুর্দিনে নারায়ণগঞ্জে বিএনপিকে আগলে রেখেছে। তাদেরকে কোন সম্মান দেখানো হয়নি কমিটিতে। আর তাই আমার মতো ক্ষুদ্র কর্মী এই কমিটিতে শোভা পায়না।’
এদিকে সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম কামালের অনুসারী মাকিদ মোস্তাকিম শিপলু মহানগর বিএনপিতে আহবায়ক কমিটির সদস্য হিসেবে পদ পেয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভালো কমিটি হয়েছে। এই কমিটি ভালো কিছু দিতে পারবে।’
তার মতো একই মত মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে সদস্য হিসেবে স্থান পাওয়া এড. শরিফুল ইসলাম শিপলু’র। তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কার্যকরী কমিটি হয়েছে। এখানে ঠাঁই পাওয়া সকল নেতা সচল এবং দলের প্রতি অনুগত।’ তার সাথে একই মত সদস্য হিসেবে ঠাঁই পাওয়া এড.রফিক আহম্মেদের। তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘সময়ের সাহসী মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি হয়েছে।’
তবে এখনই ভালো মন্দ মত প্রকাশ করতে চাননা এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছে মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে। এর মধ্যে হাজী নুরুউদ্দিন, এড. আনিসুর রহমান মোল্লাসহ আরো বেশ কিছু নেতা রয়েছেন। যোগ্য এবং দুর্দর্শীতাপূর্ন কমিটি হয়েছে মহানগরে। এমন মত সদস্য হিসেবে ঠাঁই পাওয়া এড. এইচ এম আনোয়ার প্রধান এবং শাহিন আহমেদের। শাহিন আহম্মেদ যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘কর্মীদের মূল্যায়ন করে বিএনপি। আমাকে মূল্যায়ন করায় আমি দলের কাছে কৃতজ্ঞ।’
এদিকে ৪১ জনের কমিটিতে একমাত্র নারী হিসেবে সদস্য পদ পেয়েছে মহিলা দল নেত্রী রাশিদা জামাল। তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘এই কমিটির বিরুদ্ধে যারা কথা বলে তারা দলকে ভালোবাসেনা। তারা ব্যক্তিস্বার্থ দেখে, এতোদিন তো কমিটি স্থবির ছিল। তখন তারা কোথায় ছিল। কমিটির সবাই যদি পদত্যাগ করে তাতে আমার কিছু যায় আসেনা। আমি কখনোই দলের বাইরে যাবোনা।’
এদিকে এই কমিটি কেমন হয়েছে ভেবেচিন্তে দুইদিন পর জানাবেন বলে জানিয়েছেন সদস্য হাসান আহাম্মদ। তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘এই আহবায়ক কমিটি নিয়ে নানা কথা শোনা যাচ্ছে। দুইদিন পর বলতে পারবো, কমিটি কেমন হয়েছে।’ কমিটিতে স্থান পেয়েছেন দেশের বাইরে থেকে আসা এমএইচ মামুন। কমিটিতে ঠাঁই পেয়ে তিনি বেজায় খুশি।
তবে মহানরগ বিএনপির আহবায়ক কমিটি আরো ভালো করা যেত বলে মনে করেন কমিটির সদস্য হিসেবে থাকা শওকত হাশেম শকু। তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘এই কমিটিতে মাকছুদুল আলম খোরশেদ, ফখরুল ইসলাম মজনুসহ আরো বেশ কিছু ত্যাগী নেতা থাকলে কমিটির গ্রহণযোগ্যতাটা আরো বাড়তো। কেন্দ্র সিদ্ধান্ত নিয়েছে অনেক ভেবেচিন্তেই। এখন দেখার বিষয় এটা কতখানি গ্রহণযোগ্যতা আদায় করতে পারে।’ এন.এইচ/জেসি


