# সিনিয়রদের আমার থেকে নিচে রাখা হয়েছে তাই আমি লজ্জিত
# আমাদের পরিবারের সদস্যরা একটা অজানা আতঙ্কে থাকতো
সদ্য ঘোষিত মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহবায়কের পদ থেকে পদত্যাগ করা সাবেক সাংসদ এডভোকেট আবুল কালামের পুত্র নাসিক ২৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আবুল কাউসার আশা বলেছেন, বিগত দিনে মহানগর বিএনপির যে কমিটি ছিল সেটাকে অকার্যকর হিসেবে যারা দাঁড় করিয়েছে, তাদেরতো বিচারের আওতায় আনা উচিৎ; উল্টো তারা পুরস্কৃত হচ্ছে।
একটি সময় পর কিন্তু সাখাওয়াত হোসেন খানকে (বর্তমান আহবায়ক) মূল ধারার কোন প্রোগামের সাথে দেখা যায়নি। এই কমিটি গঠনের কিছুদিন আগে থেকে তাকে কয়েকটি প্রোগ্রামে মূলধারার নেতাদের সাথে দেখা গেছে। টিপু সাহেবেরও সাখাওয়াত সাহেবের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ ছিল, বিগত সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ২ কোটি টাকার লেনদেনের।
তাদের মধ্যকার আভ্যন্তরীণ কাঁদা ছোড়াছুড়িতে আমাদের দলীয় কার্যক্রম অনেকটাই বিলম্বিত হয়েছে। গত ২টি বছর বেগম খালেদা জিয়ার সবচেয়ে জরুরী মুহুর্তে যখন ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা হিসেবে নারায়ণঞ্জের সবচেয়ে বেশি সাপোর্ট করার কথা ঠিক সেই সময়টাতেই মহানগর বিএনপিকে কোন কাজ করতে দেওয়া হলো না।
তাই তাদের যেখানে শাস্তি হলো না সেখানে তাদের নেতৃত্ব মেনে কাজ করাটা আমার কাছে ঠিক মনে হয়নি। আমি দলের একজন কর্মী হিসেবে আমাদের মান অভিমান থাকতেই পারে। আমার অনেকের মতো বেঈমান না। গতকাল বৃহস্পতিবার দৈনিক যুগের চিন্তাকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরার সময় কমিটি থেকে নিজের পদত্যাগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা গণমাধ্যমের মাধমে যে কমিটি দেখতে পেয়েছি, এখানে সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে কিছু সমস্যা আছে। যে ত্যাগী নেতৃবৃন্দ দীর্ঘদিন যাবত রাজপথে আছেন, তাদেরকে এই কমিটিতে অবজ্ঞা করা হয়েছে। অনেককে এমন জায়গায় রাখা হয়েছে যা সম্মানজনক না।
এমন অনেককেই পদায়ন করা হয়েছে যারা দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর অর্থাৎ যতদিন যাবত দল ক্ষমতার বাইরে থেকে ক্রাইসেস সময় পার করছে সেই সময় তাদেরকে দেখা যায়নি। সবকিছু মিলিয়ে আমি চিন্তা করলাম এখানে আমার চেয়ে সিনিয়র ব্যক্তিকেও এখানে মেম্বার করা হয়েছে। যেটা তাদের জন্য সম্মানজনক না। আমি দল থেকে পদত্যাগ করিনি, কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছি।
কারণ এই দলই আমাদের শেষ ঠিাকানা, এছাড়া আমাদের আর কোন ঠিকানা নাই। আমি ছাত্রদল করেছি, তারপর সেখান থেকে বয়সের সাথে তালমিলিয়ে ধারাবাহিকভাবে স্বেচ্ছাসেবক দলে এসেছি। আমি একটার জন্য আরেকটা ছাড়ছি; এটা ঠিক না। তিনি বলেন, ‘কোন কমিটি গঠনেই সবাইকে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়।
তবে ব্যাপারটা এমনও না যে, সবাইকে সমন্বয় করে করা যাবে না। যাদের আমি শৈশব থেকে দেখেছি রাজপথে মিছিল মিটিং করে আন্দোলন করেন। আমার চেয়েও আনেক যোগ্য তিনি যদি সদস্য হন, আর আমি যদি যুগ্ম আহবায়ক হই তাহলে আমার জন্য তা হানিকর অবস্থান।
আমি নিজে লজ্জিত যে আমার সিনিয়রদের আমার থেকে নিচে রাখা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়া আমার পিতাকে ছয়বার মনোনয়ন দিয়েছেন। দলের এই ক্রান্তিলগ্নে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পরিবারের এই দু:সময় আমাদের যা দেওয়ার কথা ছিল আমরা তা দিতে সক্ষম হয়নি, তাই আমরা লজ্জিত।’
তিনি বলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে আমার মরহুম দাদা জালাল হাজী (বিএনপির) জন্মলগ্ন থেকে ছিলেন পরিবারের সদস্য হিসেবে। আমি আমার সিনিয়রদের প্রতি সম্পূর্ণ সম্মান রেখে আমি আমার পদ থেকে নাম প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমি মনে করি বিএনপির তৃণমূল খুবই ঐক্যবদ্ধ এবং তারা আমাদের নেতাদের তুলনায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ বেশি ধারণ করেন। একই সাথে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকে আমরা তৃণমূলের সকলেই ‘মা’ হিসেবে জানি।’
পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে কাউসার আহমেদ আশা বলেন, ‘সাখাওয়াত সাহেব একজন বিজ্ঞ আইনজীবী এবং মহানগর বিএনপির বর্তমান আহবায়ক, গোটা নারায়ণগঞ্জবাসী, সেন্ট্রাল বিএনপি এবং আমরা কর্মীরা তার কাছে মেচিউরড ভাষা আশা করি।
বিষয়টা কাদের উদ্দেশ করে বলেছেন তা আমি জানি না। তবে আমাদের বিষয়ে আমি বলতে চাই, আমার দাদা জালাল হাজী সাহেব এই দলের সাথে জড়িত ছিলেন, আমার বাবাও জড়িত ছিলেন এখন আমরাও বিএনপি করছি। আমরা এরকম না যে, একেক জন একেক দল করেছি। আমরা পৈত্রিক সূত্রে, পারিবারিক সূত্রে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী।
আমি বিশ্বাস করি আমাদের পরবর্তী প্রজন্মও এই একই আদর্শে রাজনীতি করবে। এই বিষয়গুলো হাস্যকর; আমরা বাপ-ছেলে একসাথে জেল খেটেছি। তিনি প্রশ্ন করে বলেন, নারায়ণগঞ্জে ওনার (সাখাওয়াত হোসেন খানের) পরিবারের আছে কে? নারায়ণগঞ্জে যারা পরিবার শূন্য, যাদের আত্মীয় স্বজন নারায়ণগঞ্জে নাই, যাদের হোল্ডিং নাম্বারও নারায়ণগঞ্জে নাই, ভাড়াটিয়া তারা যত্রতত্র অনেক কথা বলতে পারে।
তাদের প্রতি সম্মান রেখে বলছি যে, কথা বলার আগে অবশ্যই একটু ভেবে চিন্তা করে বলবেন। আমরা ওয়ার্ড লেভেল থেকে সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করেছি। আমরা ধারাবাহিকভাবে রাজনীতি করে এ পর্যন্ত এসেছি। আমরা অন্যকোন জেলা থেকে এখানে হঠাৎ করে এসে রাজনীতি করিনি।’
তিনি বলেন, ‘বিগত ১৪ বছর যাবত নারায়ণগঞ্জ মহানগর বিএনপির কোন পার্টি অফিস ছিল না। ১৪টি বছর আমাদের নিজেদের বাস করার বাড়িতে অস্থায়ী কার্যালয় করে ঠিকানটা ধরে রেখেছি। একটি ঠিকানা হয়েছে, যেখানে বিএনপির নেতাকর্মীরা এসে বসতে পারে। আমরা এতগুলো মামলার আসামী, পার্টি অফিসের কারণে আলাদা একটি প্রেসার থাকে।
গোয়েন্দা অফিস থেকে শুরু করে প্রশাসনের একটি আলাদা চাপ নিয়ে ছিলাম। আমরা যখন বাড়ির বাইরেও থাকি, পার্টি অফিসকে কেন্দ্র করে আমাদের পরিবারের সদস্যরা কেউই কিন্তু খুব একটা শান্তিতে থাকেনি। তারা সব সময় একটা অজানা আতঙ্কে থাকতো। বাড়ির সামনে দিয়ে এম্বুলেন্সের গাড়ি গেলেও ভাবতো পুলিশের গাড়ি আসছে কি না?’
‘অথচ এখন আমাদের পরিবার তন্ত্রের কথা শুনতে হয়। যারা এগুলো বলে, তাদের বিষয়ে কথা বলার মতো কোন ভাষা নেই। তাদের শব্দ চয়ন আরও সুন্দর করা উচিৎ। আমরা পারিবারিকভাবে কতটা সাফারার তা আমরা জানি।
আমরা যখন বিপদে থাকি তখন বাপ ছেলে কেউ কারো জন্য তদবীর করার সুযোগ থাকে না। কারণ উভয়েই বিপদে থাকি। আপনাদের ভাই যদি নারায়ণগঞ্জে থেকে থাকে তারা যদি যোগ্য হয় তাহলে কেন রাজনীতি করাবেন না; এটাতো দোষের কিছু না।’ এন.এইচ/জেসি


