Logo
Logo
×

রাজনীতি

জেলা আ’লীগের কমিটি নিয়ে প্রাণচাঞ্চল্য

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১২:৫৯ পিএম

জেলা আ’লীগের কমিটি নিয়ে প্রাণচাঞ্চল্য
Swapno

 # চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র



সাধারণত জাতীয় নির্বাচন কাছাকাছি চলে আসলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এক ধরণের চাঙ্গাভাব চলে আসে। যার বেশিরভাগ কর্মকাণ্ডই প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হয়। ২০১৮ সালের ৩০শে ডিসেম্বেরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

 

 

জাতীয় পার্টিকে সাথে নিয়ে গঠন করা আওয়ামী লীগের মহাজোট পায় ২৮০টি আসন এবং বিএনপির চৌদ্দ দলীয় জোট পায় মাত্র ৮টি আসন। সে অনুযায়ী আগামী বছরে শেষ দিকে কিংবা এর পরের বছরের প্রথম দিকেই অনুষ্ঠিত হবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

 

এর আগেই প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো চাচ্ছে কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে ঢেলে সাজাতে। নারায়ণগঞ্জের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও তার প্রভাব পড়েছে। এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

এখন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটিগুলোকে সাজানোর জন্য জোর দাবি উঠে এসেছে। তাই বেশ কয়েবার পিছিয়ে গেলেও আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের কাউন্সিল হওয়ার জোর সম্ভাবনা আছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

 

সূত্র আরও জানায়, এবারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্বে নতুন মুখ আসার সম্ভাবনা প্রবল। আর এসব নতুন মুখের মধ্যে যাদের নাম বেশি উচ্চারিত হচ্ছে তারা হলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ও সিটি মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভী, আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু, জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদল ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম।

 

 

 

তবে বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইও নতুন করে সভাপতির জন্য চেষ্টা করতে পারেন বলে অনেকের অভিমত।দলীয় বিভিন্ন সূত্রে জানা তথ্য মতে, সভাপতির দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) এর বর্তমান মেয়র এবং জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহসভাপতি ডা. সেলিনা হায়াত আইভী।

 

 

তথ্যমতে মেয়র আইভী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির পদের অন্যতম দাবিদার। কেননা, মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন গঠনের পর অনুষ্ঠিত তিনটি নির্বাচনেই বিপুল জনপ্রিয়তার মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত হন। এর আগে পৌরসভা থাকাকালীন সময়েও তিনি পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

 

 

অন্যদিকে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে ভাল একটি সময় ব্যয় করেন মেয়র আইভী।

 

তাই একদিকে আইভীর সাথে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সম্পর্কের অনেক উন্নতি ঘটে একই সাথে নারায়ণগঞ্জ আওয়ামী লীগের একটি চিত্র তাদের সামনে উঠে আসে। তাই এবারের কাউন্সিলে সভাপতি পদে মেয়র আইভীর নাম আসার সম্ভাবনা আছে বলে রাজনৈতিক যোদ্ধাদের অভিমত।

 

 

সভাপতি পদের অপর আলোচিত ব্যক্তি এডভোকেট আনিসুর রহমান দিপু আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য ও নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি। তিনি এক সময় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

 

 

 

গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আইভীর পক্ষে তিনি মাঠে সরব ছিলেন। একদিকে আওয়ামী লীগের জাতীয় পরিষদের সদস্য হিসেবে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে তার ভাল সখ্যতা আছে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।

 

 

অন্যদিকে সিটি নির্বাচনে মাঠে থাকার কারণে সেই সখ্যতা আরও জোরদার হয় বলে মনে করেন রাজনৈতিক যোদ্ধামহল। সেই হিসেবে সভাপতির দৌড়ে তিনিও অনেকটা এগিয়ে আছেন। দৌড়ে পিছিয়ে নেই জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ তোলারাম কলেজের তিনবারের নির্বাচিত ভিপি (সাবেক) আবু হাসনাত শহীদ মো. বাদলের নাম।

 

 

জেলার প্রায় প্রতিটি উপজেলায়ই তার একটি কর্মী বাহিনী আছে এবং নারায়ণগঞ্জের রাজনীতিতে তার একটি ব্যাপক জনপ্রিয়তাও আছে। তিনি এক সময় নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করেছেন। তাছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আওয়ামী লীগের সাংসদ একেএম শামীম ওসমানের আশির্বাদও আছে ভিপি বাদলের উপর।

 

 

সে হিসেবে ভিপি বাদল যদি জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন তাতে আশ্চর্য্য হওয়ার মতো কিছু নেই বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল। আরও আলোচনায় আছেন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সহসভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমান বাচ্চু। তিনি দলের একজন প্রবীণ ও পরিক্ষীত নেতা হিসেবে পরিচিত। দলের মধ্যে তার বেশ জনপ্রিয়তাও আছে।

 

 

তাই জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে যদি মিজানুর রহমান বাচ্চুর নাম আসে তাহলে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই। এই সম্ভাবনার তালিকায় আরও যার নাম আসে তিনি হলেন ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম। জাহাঙ্গীর আলম একসময় শামীম ওসমানের বন্ধু হিসেবেই পরিচিত ছিলেন বলে জানা যায়।

 

 

 

তবে গত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আইভীর পক্ষে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করেন জাহাঙ্গীর আলম। এরই মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে তারও সখ্যতা গড়ে উঠাসহ পরিচিতি বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক মহল। তাই সভাপতি পদে জাহাঙ্গীর আলমের নাম আসলেও হতবাক হওয়ার মতো কিছু নেই।

 


 
অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় নেতৃবৃন্দের কাছে বর্তমান সভাপতি আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে অনেক নেগেটিভ ম্যাসেজ পৌছেছে বলে আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা-কর্মীর ধারণা। তাই তিনি অনেকটা কোনঠাঁসা অবস্থায় আছেন বলে মনে করেন তারা। নতুন করে তার জনপ্রিয়তার খরা কাটিয়ে সভাপতির আসনে অধিষ্ঠ হওয়া কষ্টকর হবে বলে মনে করেন আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা ও তৃণমূল আওয়ামী লীগ। এন.এইচ/জেসি 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন