সোনারগাঁ বিএনপির নেতাকর্মীদের দুঃসময়ের কান্ডারী মান্নান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৮:০১ পিএম
# দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে দাড়ানো দায়িত্ব ও কর্তব্য: মান্নান
সোনারগাঁ থানা বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে দূর্দিনে নেতাকর্মীদের পাশে একমাত্র সোনারগাঁ থানা বিএনপির ওয়ান ম্যান আরমি খ্যাত নেতা থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নানকে দেখা যায়। যার সাহসী নেতৃত্বে থানা বিএনপিসহ সকল অঙ্গসংঠনকে একত্রিত রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করে রেখেছেন।
কিন্তু সুসময়ে সোনারগাঁয়ে বিএনপির বহু হেভিওয়েট নেতা দাবি করা নেতাদের সোনারগাঁ থানা বিএনপির রাজনীতিতে দেখা গেলেও দুঃসময়ে তাদের দেখা যায় না। দলের যেকোন বিপর্যস্ত মূহুর্তে সোনারগাঁয়ের রাজপথ থেকে শুরু করে ঢাকা নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার রাজপথ দখল করতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন মান্নান। পাশাপাশি হামলা মামলা আহত অবস্থায় হাসপাতালে থাকা নেতাদের পাশে একমাত্র মান্নানকেই দেখা যায়।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে সোনারগাঁ থানা বিএনপি সহ বিএনপির সকল অঙ্গ সংগঠন গুলোকে নেতৃত্ব দিয়ে প্রতিটি সংগঠনকে শক্তিশালী সংগঠনে রূপ দিয়েছেন। যার কারণে সোনারগাঁয়ে বিএনপির একজন ত্যাগী ও সফল নেতা হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন সোনারগাঁও থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান। বিগত সময়ের বিএনপির যে কোন দলীয় কর্মসূচী আসলে আন্দেলন সংগ্রামে নেতাকর্মীদের নিয়ে ব্যাপকভাবে রাজপথে নেমে পড়েন মান্নান।
যার ফলশ্রুতিতে ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর র্যালী বের করতে গেলে পুলিশের লাঠি চার্জে গুরুতর আহত হন মান্নান তার সাথে থাকা কর্মীরা গুলিবিদ্ধ হয়। সেদিন পুলিশ ও নেতাকর্মীদের শান্ত করতে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে। কিন্তু পুলিশ উল্টো লাঠিপেটা শুরু করে মান্নানের উপর। পরবর্তীতে নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে এবং মানবডাল তৈরী করে পুলিশকে সরিয়ে মান্নানকে উদ্ধার করে আহত অবস্থায় দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান নেতাকর্মীরা। সেদিন এই সংঘর্ষের ঘটনার কয়েক ঘন্টা অতিবাহিত হওয়ার পর পরই সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতির বাড়িটি গিরে রাখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এই ঘটনার পরদিন পুলিশের দায়ের করা মামলায় আসামী হন মান্নান।
কিন্তু এই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়ে দীর্ঘদিন হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। গত ৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেই আবার গুলিবিদ্ধ নেতাকর্মীদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান মান্নান। সেদিন গণমাধ্যমকে জানান, এই গুলিবিদ্ধ নেতাদের রক্ত বৃথা যাবেনা এবং রক্তের সিড়ি বেয়েই বিজয় আসবে। আমি বিএনপির সবাই আহত নেতাকর্মীদের পাশে আছি, তাদের পরিবারের পাশে আছি। আমি নিজেও বেপরোয়া লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাসে আহত হয়েছিলাম।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলাম। আজ সুস্থ হয়েই আমার ভাই সন্তানদের পাশে এসেছি। গত ১২ সেপ্টেম্বর নারায়ণগঞ্জে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলায় উচ্চ আদালত থেকে ৬ সপ্তাহের আগাম জামিন পান। গত ১৪ সেপ্টেম্বর পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হয়ে দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালে অবস্থান করা নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ আলিফের চোখের উন্নত চিকিৎসার তার মায়ের আর্থিক সহযোগিতা তুলে দেন।
বিএনপির তৃণমূলের এক নেতা জানায়, তার বিগত দিনের কর্মকান্ডে উল্লেখিত হয় যে তিনি সোনারগাঁয়ের বিএনপির এক অকুতোভয় ত্যাগী নেতা গত ১ সেপ্টেম্বরের বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর পুলিশের সংঘর্ষেরে ঘটনার পর থেকেই নিজে অসুস্থ থেকেও কিভাবে নেতা কর্মীদের পাশে দাড়িয়েছেন। দলের এই দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে তিনি দাঁড়িয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দলের নেতাকর্মীদের মাঝে তার প্রতি আস্থা আরো বেড়ে গেছে তার এই দুঃসময়ের তৎপরতা দেখে কর্মীরা আরো উজ্জাবীত হয়ে বিগত দিনের আন্দোলন সংগ্রামে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।
সোনারগাঁ থানা বিএনপির সভাপতি আজহারুল ইসলাম মান্নান জানান, আসলে দলের দুঃসময়ে নেতাকর্মীদের পাশে দাড়ানো এটা আমার দায়িত্ব ও কর্তব্য। দলের যেকোন আন্দোলন সংগ্রামে কর্মসূচি সফলভাবে করার জন্য সর্বদা নেকাকর্মীদের নিয়ে প্রস্তুত থাকি আমি। কোন রকম মামলা হামলা দিয়ে আমাকে দমিয়ে রাখা যাবে না। সোনারগাঁ থানা বিএনপিকে শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলার জন্য সবসময় কাজ করে যাচ্ছি।


